Tranding

04:30 AM - 02 Mar 2026

Home / National / ফোনে বাধ্যতামূলক ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ নিরাপত্তা নাকি ব‍্যাক্তি স্বাধীনতায় তীব্র হস্তক্ষেপের আশঙ্কা? বিরোধীদের তোপ

ফোনে বাধ্যতামূলক ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ নিরাপত্তা নাকি ব‍্যাক্তি স্বাধীনতায় তীব্র হস্তক্ষেপের আশঙ্কা? বিরোধীদের তোপ

স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাপ ‘সঞ্চার সাথী’ প্রি-ইনস্টল করার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অ্যাপটি ফোন থেকে ডিলিট বা ডিসেবল করা যাবে না, এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে তোপ দাগলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরা। লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সঞ্চার সাথী আদতে একটি গুপ্তচর অ্যাপ। নাগরিকদের ব্যক্তিগত বার্তা ও গোপনীয়তার উপর নজরদারি চালাতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার সংসদে প্রকৃত আলোচনাই চায় না, বরং সবদিক দিয়ে দেশকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।প্রিয়াঙ্কার মত একইসুর কংগ্রেসের কেসি বেণুগোপালের গলায়। তাঁর অভিযোগ, এটি সংবিধান-বিরোধী।

ফোনে বাধ্যতামূলক ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ নিরাপত্তা নাকি ব‍্যাক্তি স্বাধীনতায় তীব্র হস্তক্ষেপের আশঙ্কা? বিরোধীদের তোপ

ফোনে বাধ্যতামূলক ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ নিরাপত্তা নাকি ব‍্যাক্তি স্বাধীনতায় তীব্র হস্তক্ষেপের আশঙ্কা? বিরোধীদের তোপ

December 2, 2025 
  
সাইবার সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভারতে বিক্রি হওয়া প্রতিটি নতুন স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলকভাবে ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Sathi) অ্যাপ প্রি-ইনস্টল করতে হবে এবং ব্যবহারকারী এটি মুছতে পারবেন না। নরেন্দ্র মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তই দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সিম-বাইন্ডিং নিয়ম নিয়ে বিতর্ক থামার আগেই এবার আরও কঠোর নির্দেশ জারি হল সরকারের তরফে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই টেলিকম দফতর (DoT) স্মার্টফোন নির্মাতাদের নির্দেশ পাঠিয়েছে। পুরনো ফোনগুলিতেও ওটিএ (OTA) সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে অ্যাপটি চাপিয়ে দেওয়া হবে। ভারতে এরকম অপসারণ-অযোগ্য সরকারি অ্যাপ বাধ্যতামূলক করার ঘটনা এই প্রথম।

 

স্মার্টফোনে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি সাইবার সিকিউরিটি অ্যাপ ‘সঞ্চার সাথী’ প্রি-ইনস্টল করার নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। অ্যাপটি ফোন থেকে ডিলিট বা ডিসেবল করা যাবে না, এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে তোপ দাগলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বঢরা। লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সঞ্চার সাথী আদতে একটি গুপ্তচর অ্যাপ। নাগরিকদের ব্যক্তিগত বার্তা ও গোপনীয়তার উপর নজরদারি চালাতেই সরকার এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার সংসদে প্রকৃত আলোচনাই চায় না, বরং সবদিক দিয়ে দেশকে স্বৈরতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।প্রিয়াঙ্কার মত একইসুর কংগ্রেসের কেসি বেণুগোপালের গলায়। তাঁর  অভিযোগ, এটি সংবিধান-বিরোধী।


মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে নাগরিকদের প্রতিটি পদক্ষেপে নজরদারি চালানো হবে।শিব সেনা (উদ্ধব গোষ্ঠী)-র প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীরও একই দাবি, জনগণের ব্যক্তিগত জীবনে সরকার হস্তক্ষেপ করছে।কংগ্রেস সাংসদের প্রশ্ন গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার থাকা সত্ত্বেও কেন প্রত্যেক নাগরিকের ফোনে এই অ্যাপ বাধ্যতামূলক থাকবে? যদিও তিনি স্বীকার করেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার হওয়া জরুরি, তবে তার মানে সরকারের সর্বত্র নজরদারি বৈধ হয়ে যায় না। সূত্র মারফত জানা গেছে, টেলিকম মন্ত্রক গোপনে অ্যাপল, স্যামসাং, ভিভো, ওপ্পো, শাওমি-সহ শীর্ষ ফোন নির্মাতাদের নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে বাজারে আসা সব নতুন ফোনে সঞ্চার সাথী অ্যাপ প্রি-ইনস্টল থাকতে হবে। এটি ব্যবহারকারীরা মুছে ফেলতে বা নিষ্ক্রিয় করতে পারবেন না।সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারে অ্যাপল। নীতি অনুযায়ী, আইফোনে কোনও সরকারি বা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ আগে থেকেই প্রি-ইনস্টল করা হয় না। অতীতেও এমন নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেছে তারা (Sanchar Saathi)।


চালু হওয়ার পর থেকেই অ্যাপটি দিয়ে ৭ লক্ষের বেশি চুরি বা হারানো ফোন খুঁজে পাওয়া সম্ভব। সরকারের মতে, এই অ্যাপ মোবাইল সাইবার সিকিউরিটিকে আরও শক্তিশালী করে, পুলিশের তদন্তে সাহায্য করে এবং নকল ফোনের কালোবাজারি রোধে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে এ বিষয়ে এখনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। তবে টেলিকম সংস্থাগুলির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনাও হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে সব সংস্থা নির্দেশ মানবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।ভারতে বর্তমানে ১.২ বিলিয়নের বেশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী। এত বড় পরিসরে নজরদারি-সংক্রান্ত উদ্বেগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে জোর তরজা শুরু হয়েছে (Sanchar Saathi)।

গত ২৮ নভেম্বর সরকারের জারি করা নির্দেশে (India government order) স্যামসাং, অ্যাপল, শাওমি, ভিভো, অপো-সহ সব বড় মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থাকে ৯০ দিনের মধ্যে এই নিয়ম মানতে বলা হয়েছে (Mandatory preloaded apps)। শুধু নতুন ফোন নয়, যেগুলো ইতিমধ্যেই বাজারে এসেছে বা সাপ্লাই চেইনে রয়েছে, সেগুলোকেও সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে বাধ্যতামূলকভাবে অ্যাপটি দেওয়া হবে। যদিও নির্দেশটি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি, নির্বাচিত কোম্পানিগুলিকে আলাদাভাবে জানানো হয়েছে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do