তবুও তারা লোকসভা নির্বাচনে খানিকটা মেনে নিয়েছিল, কিন্তু এখন যখন এলাকায় যে পূরানো তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্যের হাতে বিজেপি কর্মীরা লাঞ্চিত হয়েছেন। সেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযুক্ত নেতাদেরই অর্জুন সিং বিজেপিতে যুক্ত করলেন তখন এই ক্ষোভ চরমে।
প্রচার যতই হোক ! নোয়াপাড়ায় গার্গী, তৃণাঙ্কুর, অর্জুন এর ত্রিমুখী লড়াই যে কেউ জিততে পারে
15 এপ্রিল 2026
নোয়াপাড়া বিধানসভায় কোন প্রার্থী নিশ্চিত নয়। প্রচার মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে এবং ব্যাপক অর্থব্যয় করে খানিকটা বাহুবলী ইমেজ থেকে বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং প্রচার করছেন। আবার তৃণমূল কংগ্রেস এর অনেকটাই অপরিচিত প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য এই বিধানসভায় স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর মিটিং দিয়ে এবং তাদের প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে জয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছেন। অন্যদিকে বিধানসভা নির্বাচনের ও এই সময়কালে গত ৫০ বছরে দশ বারের মধ্যে, অন্তত সাত বার জিতে যাওয়া বামফ্রন্ট ও সমর্থিত ৭৭-৯৬ এবং ২০০৬ ও ২০১৬ যাদের এবার প্রার্থী গার্গী চ্যাটার্জী।
নোয়াপাড়া বিধানসভার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা ক্ষেত্র কারণ পশ্চিমবাংলার প্রথম দশটি বৃহত্তম বিধানসভার মধ্যে এটি। ২০২৬ এ যখন নোয়াপাড়া বিধানসভার ভোট হচ্ছে তখন তার মোট বুথ সংখ্যা ২৭৯ ভোটার সংখ্যা ২.৫ লক্ষেরও বেশি।
নোয়াপাড়া বারবার সরকার বিরোধীদের জেতায়
যখন যেটা চলতি রাজনীতির আবহ এই বিধানসভার ফল তার বিপরীত হয় । যেমন ২০০১ সালে বামফ্রন্টের ভরা বাজারে নোয়াপাড়া থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মঞ্জু বসু বিজয়ী হন। ২০০৬ এ আবার সিপিআইএম প্রার্থী ডাঃ কে ডি ঘোষ জয়ী হন। ২০১১ তে আবার মঞ্জু বসু। অদ্ভুতভাবে তৃণমূল সরকারের
মধ্যগগনের সময় ২০১৬ তে বাম ও কংগ্রেস সমন্বিত প্রার্থী উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কংগ্রেসের মধূসুদন ঘোষ জয়ী হন। মধুবাবু হঠাৎ প্রয়াত হওয়ায় উপনির্বাচন ২০১৮ সালে। রীতিমতো রিগিং করে সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনে যা হয়, একচেটিয়া রিগিং করে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুনীল সিং জিতে যান। সেবার মঞ্জু বসুকে প্রার্থী করা হয়নি। ২০১৯ সালে সুনীল সিং বিজেপিতে যুক্ত হন। ২০২১ এর বিধানসভায় মঞ্জু বসু আবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন এবং বাম কংগ্রেস প্রার্থী কে হারিয়ে দেন।
বর্তমান বিধায়কের প্রার্থী না হওয়ায় ক্ষোভ। সাধারন, বঞ্ছিত তৃণমূল কর্মীদের ক্ষোভ।
এ বছর নোয়াপাড়ার ভোটের প্রথম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এত বছরের এই মানুষের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর কেন্দ্রে সর্বজনবিদিত মঞ্জু বসুকে প্রার্থী করা হয় না, সে নিয়ে বিস্তর জল ঘোলা হচ্ছে। বারবার দেখানো হচ্ছে কিভাবে মমতা ব্যানার্জি মঞ্চের উপর সবার সামনে মঞ্জু বসুকে আঙ্গুল তুলে ধমক দিয়ে বসে যেতে বলছেন। নিশ্চিতভাবে নোয়াপাড়ার একজন বারবার হওয়া মহিলা বিধায়ক এবং তার অনুগামী যারা তাদের প্রত্যেককেই এতে অপমানিত বোধ করেছেন সাধারণভাবে এই নির্বাচনে যেহেতু তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কোন প্রার্থী নেই তাই এর একটা প্রভাব ভোটারদের মধ্যে পড়বে।
বিকাশ বসুর খুনিরা এখনও কি অধরা?
তাদের শাস্তি হয়নি কেন? আজ যিনি বিজেপি দীর্ঘ সময় তিনি তৃণমূল ছিলেন তাই?
এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস খানিকটা বেকায়দায় পড়ে বারবার তুলে আনছে মঞ্জু বসুর স্বামী বিকাশ বসুর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলে নৃশংস খুন হওয়ার কথা। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার এই খুনের যথাযথ তদন্ত ও শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেই তাদের দ্বারা অভিযুক্ত TMCর তৎকালীন ভাটপাড়ার এমএলএ অর্জুন সিং কে অপরাধ মুক্ত করা হয়। যদিও এ বছর নির্বাচনে হঠাৎ করে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে অর্জুন সিং এর নাম এসে যাওয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস আবার সেই পুরনো কথা তুলছে, নাগরিক সমাজের নাম করে পোস্টার দিয়েছে। কিন্তু নোয়াপাড়া জনগণ প্রশ্ন করছেন গত ১৫ বছরে অর্জুন সিং সর্বমোট বছর চারেক বিজেপিতে আছেন কিন্তু প্রায় এগারো বছর তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস কেন এই হত্যার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, প্রশ্ন করছেন মঞ্জু বসুর অনুগামীরা। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের পুরনো কর্মীরা। এরা বর্তমান অবস্থায় যথেষ্ট বিরক্ত। এই জনতার সংখ্যা কম নয়। এরা একদিকে অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান প্রার্থীর পরিবর্তনের বিরুদ্ধে। মূলত এরা মঞ্জু বসুর সমর্থক। এই বেশ খানিকটা লাঞ্ছিত, বঞ্চিত এবং অবহেলিত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী যারা বহু আগে থেকে কষ্ট করে দল করছেন তারাই বীতশ্রদ্ধ। তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বামপন্থীদের ভোট দেবেন ।
তৃণমূলের শাসক দলের হাতে লাঞ্ছিত সাধারন একনিষ্ঠ বিজেপি কর্মীরা ক্ষুব্ধ
এরপর আসি বিজেপির কথায়। বিজেপির কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা যাই হোক না কেন একটা রাজনৈতিক দল যখন কোন রাজ্যে ক্ষমতায় যখন থাকে না তখন তাদের কর্মীরা অনেক কষ্ট করে সেই দলের জন্য কাজ করে। নিশ্চিতভাবে বিজেপির নিচের তলায় সেই সব কর্মী যারা বড় বড় নেতাদের মতন কর্পোরেটের সুবিধা, প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারেননি। তারা অতি সাধারণ। এর মধ্যে অনেক গরিব মানুষও আছেন যারা কোনো হিন্দুত্ববাদের জন্য নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি এবং অত্যাচারের বিরুদ্ধে। বিজেপি প্রতি অনুরক্ত হয়েছিলেন এইসব মানুষেরা একটা বিপুল অংশ। তারা ভীষণভাবে বিরক্ত বিজেপির
প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং কে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করার জন্য। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন অর্জুন সিং জিতলেই তৃণমূল হয়ে যান। ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ব্যারাকপুর লোকসভায় নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হয়ে জয় লাভ করেন ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করলে অর্জুন বাবু তৃণমূল হয়ে যান। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ এর মার্চ মাস পর্যন্ত অর্জুন সিং তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন ľ
২০১৯ বিজেপির হয়ে জিতে ২০২২-২৪ পৌর, পঞ্চায়েতে শাসকদলের অত্যাচারের সময় অর্জুন তৃণমূল ছিলেন
এই সময় কালে দুটো গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন ২০২২ এ পৌরসভা এবং ২০২৩ এ পঞ্চায়েত এই নির্বাচন দুটিতে শাসক দল যথেচ্ছাচার ভোট লুট ও সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে নির্বাচনে জিতে পঞ্চায়েত পৌরসভা দখল করে। অর্জুন সিং তৃণমূল কংগ্রেসের এই সন্ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য স্বাভাবিকভাবেই দলের নেতা হিসাবে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে কাজ করেন। কারণ তিনি তখন তৃণমূল সাংসদ। অথচ যে অতি সাধারণ বিজেপি কর্মীরা তাকে সাংসদ বানিয়েছিলেন তারা যখন তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে বামপন্থী কর্মীদের সাথে একসাথে পঞ্চায়েত ও পৌরসভা নির্বাচনে মার খাচ্ছেন। অত্যাচার সহ্য করছেন। তখন অর্জুন সিং তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে তাকেই জেতানো বিজেপি কর্মীদেরই হতাশ করছেন। নিশ্চিত ভাবে গোটা নোয়াপাড়া জুড়ে পুরনো বিজেপি কর্মীরা ক্ষুব্ধ, বিব্রত বিরক্ত।
২০২৪ এর মার্চ মাসে অভিষেক ব্যানার্জির পাশে বসে মিটিং শুনতে শুনতে যখন দেখলেন বারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রে তাকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করলো না। বিপরীতে মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক প্রার্থী হলেন, পরের দিন অর্জুন সিং তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপি হয়ে গেলেন। এবং বিজেপি তাকে প্রার্থী করে দিল। সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হলেন।
তবুও তারা লোকসভা নির্বাচনে খানিকটা মেনে নিয়েছিল, কিন্তু এখন যখন এলাকায় যে পূরানো তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্যের হাতে বিজেপি কর্মীরা লাঞ্চিত হয়েছেন। সেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযুক্ত নেতাদেরই অর্জুন সিং বিজেপিতে যুক্ত করলেন তখন এই ক্ষোভ চরমে।
যার ফলে এই পুরনো বিরাট অংশের বিজেপি কর্মীরা এই ভোটে আর বিজেপিকে ভোট দেবেন না। তারা মর্মাহত, বিরক্ত, অপমানিত ও স্থানীয় মানুষের কাছে কথা শুনছেন।
তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের হতাশা
এবার তিনি আবার নিজের কেন্দ্র ছেড়ে অর্থাৎ জগদ্দল বা ভাটপাড়ায় না দাঁড়িয়ে নোয়াপাড়া কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এলেন এর মধ্যে মাস তিনেক আগে ১২ ই ডিসেম্বর ২০২৫ নোয়াপাড়া কেন্দ্রের প্রাণকেন্দ্র গারুলিয়ার লেনিনগর মাঠে অর্জুন সিং এর আত্মীয় গারুলিয়া পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং এর সহযোগিতায় শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে একটি সভা হয়। ঠিক তার দুদিন পরে সাংসদ পার্থ ভৌমিকের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি সভা হয়। সেই সভায় সবকিছু জেনেও পার্থবাবু সুনীল সিংকে মঞ্চে উঠতে বলেন। উপস্থিত মানুষ অবাক হয়ে দেখেন ১২ তারিখে যিনি বিজেপির সভা আয়োজন করলেন। তিনি ১৪ তারিখে তৃণমূল কংগ্রেসের সভার মঞ্চে বসে আছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বহু পুরনো কর্মী এবং তাদের পরিবার এতে মারাত্মকভাবে বিরক্ত হলেন এই বিরক্ত মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে আর ভোট দেবেন না। নিশ্চিতভাবেই দেবেন না। এরা কেউ কোটিপতি হননি। এরা কেউ পরিবারের সবাইকে চাকরি দিতে পারেননি, শুধু মমতা ব্যানার্জিকে ভালোবেসে দলটা করে গেছেন। এরা বিরক্ত ও মর্মাহত। এই বিপুল সংখ্যক কর্মীদের পরিবারের কাছে পৌঁছলেই বোঝা যায়।
বিষয়টা এবছর নোয়াপাড়া কেন্দ্রে সিপিআইএমের প্রার্থী গার্গী চ্যাটার্জি নোয়াপাড়াতেই থাকেন এবং ২৪ ঘন্টা রাজনীতি করেন মূলত শ্রমিক সংগঠনের সাথে যুক্ত সিআইটিইউর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সম্পাদক। সবচেয়ে বড় এই কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের প্রায় ৮০℅ তাকে নিয়মিত চেনেন। ফলে সামগ্রিকভাবে সারা পশ্চিমবঙ্গে যে পরিস্থিতি নোয়াপাড়া তার থেকে আলাদা।
মহিলা ভোট
নিশ্চিতভাবে মহিলা ভোট একটা ফ্যাক্টর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে অবশ্যই গরীব মহিলাদের ভোট লক্ষীর ভান্ডারের কারনে থাকার সম্ভাবনা যথেষ্ট কিন্তু মধ্যবিত্ত শিক্ষিত প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মহিলা ভোট। বামপন্থীদের পক্ষে সম্ভাবনা থাকছে।
একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নোয়াপাড়ার একজন মহিলা বিধায়ককে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেত্রী যেভাবে অপমান করেছেন এবং একজন যুবককে প্রার্থী করেছেন যিনি কার্যত এলাকার লোক নন। তাকে কেউ চেনে না। সেই তৃণাঙ্কুর পশ্চিমবাংলার ছাত্র রাজনীতি করলেও খুব একটা উল্লেখযোগ্য ছাপ রাখতে পারেননি। শাসকদলের ছাত্র প্রতিনিধি হয়েও তিনি কিন্তু সৃজন, দিপ্সীতার মত ছাত্র রাজনীতির উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারেননি। হতে পারে এটা তার কোন দলীয় সমস্যা। ফলে তৃনাঙ্কুর নোয়াপাড়ার প্রার্থী হওয়াতে নোয়াপাড়া তৃণমূলের মধ্যে অর্জুন প্রভাবিত জনপ্রতিনিধিরা কার্যত দ্বিধাগ্রস্থ এবং এরা তলায় তলায় অনেকেই অর্জুন সিংহের হয়ে কাজ করছেন। বিশেষ করে গাড়ুলিয়া, উত্তর ব্যারাকপুর পৌরসভা শিউলি ও মোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অঞ্চলের বহু তৃণমূল স্থানীয় নেতা অর্জুন সিংকে এই সমর্থন করছেন। মমতা ব্যানার্জী নিজে এসেছেন পলতায় জনসভা করে আবেদন জানাতে।
কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা অন্যরকম প্রভাব দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে ৭০ থেকে ৭৫ ভাগ মানুষ বাঙালি আবার বাঙালি মধ্যবিত্তের একটা বড় অংশ ডি এ'র কারণে, চাকরি-বাকরি না পাওয়ার কারণে, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে হঠাৎ বড়লোক হয়ে যাওয়ার কারণে, ক্রমশ সরকার বিরোধী হয়ে উঠেছেন। এরা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধী হিসেবে বিজেপিকেই বেছে নেন, কিন্তু সাম্প্রতিককালে হয়ে যাওয়া গত দুবছরে বাঙালির নানানভাবে হেনস্তা এবং বাঙালি অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলবার চেষ্টায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে যে ঘটনাগুলো বারবার ঘটলো তাতে একদিকে তারা তৃণমূল বিরোধী হলেও অন্যদিকে তারা কিন্তু ভীষণভাবে মনে প্রানে অস্তিত্বের জন্য বাঙালি, সুতরাং এই বিরাট অংশের মধ্যবিত্ত মানুষের ভোট বামপন্থীরা পেতে পারেন। নোয়াপাড়া ক্ষেত্রে বামপন্থীদের পক্ষে আসা সম্ভব, অন্যদিকে গরিব মানুষের একটা বড় অংশ যারা অবশ্যই সরকারি ভাতা ইত্যাদি কারণে রাজ্য সরকারের পক্ষে থাকেন। তাদেরও একটা অংশ ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়, তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য বা পৌরসভার সদস্যকে আর পছন্দ করছেন না এদের কাছেও সঠিকভাবে পৌঁছালে বামপন্থীদের ভোট আসবে।
হিন্দিভাষী মানুষরা সবাই বিজেপিতে ভোট দিয়ে দেবেন এই ধারণা সঠিক না। এক্ষেত্রেও জাত পাতের প্রশ্ন সামনে আসতে পারে। সাধারণত স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক কমিটমেন্ট না থাকলে যেকোনো উচ্চ বর্ণের হিন্দিভাষী প্রবাসী মানুষ এই সময় বিজেপির ভোটার বলে ধরে নেওয়া হয় । কিন্তু দলিত এবং তথাকথিত নিম্ন বর্ণের মানুষ এমনকি যাদব, কুর্মী সম্প্রদায় মোটেই বিজেপিকে সমর্থন করেন না। এরা মূলত চটকল সুতো কলের কর্মী, গারুলিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এই নিম্ন বর্ণের অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে পড়া হিন্দিভাষী মানুষের বাস। এরা বামপন্থীদের সাথেই আগে থাকতেন এবার যে নির্বাচন হতে চলেছে তাতে এদেরও ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা বামপন্থী প্রার্থীর আছে।
সর্ব মোট ভাবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে একটা বিরাট অংশের চলে যাওয়া ভোট, যা ২০১৬ সাল পর্যন্ত পাওয়া গিয়েছিল। অর্থাৎ একটি ভোটার লিস্টের প্রায় ৬০% ভোটার যখন ছিলেন বাকি চল্লিশ শতাংশ পরের ১০ বছরে যুক্ত হয়েছে। সেই চলে যাওয়া ভোট অন্য বিধানসভার ক্ষেত্রে কে কিভাবে জানিনা নোয়াপাড়া বিধানসভায় আসতে পারে। বামফ্রন্টের প্রার্থী যেহেতু মহিলা সেইহেতু মহিলাদের ভোট একচেটিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে পড়বে বলে যে বক্তব্য উপস্থাপিত করা হয় তাও সঠিক নয়। সেহেতু মহিলা ভোটের একটা অংশ বামেরা পেতে পারেন। এইসব মিলিয়ে নোয়াপাড়ার ভোটে মোট ভোট কার্যত তিন ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়া সম্ভাবনা আছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের বহিরাগত প্রার্থী, দলের মধ্যে বিজেপি প্রার্থীর প্রভাব। অন্যদিকে বিজেপির বারবার দলবদল করা প্রার্থী নিজের দলের মধ্যেই অনেকাংশে বিরক্তি, বিদ্রোহ উভয় দলের ভোট যথেষ্ট কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে বামফ্রন্টের ২০২১ ও ২০২৪ একেবারে কমে যাওয়া ভোট। অথচ ২০২২ পৌরসভা এবং ২০২৩ এর পঞ্চায়েতে পাওয়া বাম ভোট, ২০২৬ এর বিধানসভায় ফিরে আসার সম্ভাবনা আছে
Gen z ভোটার, প্রতি মধ্যবিত্ত শিক্ষিত লিস্টে কমপক্ষে ১০℅ যারা মাত্র কদিন আগেই অভয়া আন্দোলনে নেমেছিল। খড়দায় কলতানের বিরুদ্ধে অভয়ার মা'কে জোর করে দাঁড় করিয়ে দেওয়ায় বিজেপি একেবারে হালকা হয়ে গেছে। ফলে এই যুবরা কোনোমতেই তৃণমূল বা বিজেপির ভোটার নন।
কংগ্রেস এই কেন্দ্রে খুব বেশি ভোট সংগ্রহ করতে পারবে না। কারন উত্তর বারাকপুর পৌরসভার অতি স্বল্প কিছু অংশ ছাড়া গত ছয় সাত বছরে গারুলিয়া, শিউলি মোহনপুর ও বারাকপুর অঞ্চলের কংগ্রেস সংগঠনের কর্মীরা যেটুকু ছিলেন তারা সব তৃণমূলে যুক্ত হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। আর পূরানো তৃণমূলের অনেকে বিজেপি হয়েছেন।
একটা জিনিস মনে রাখতে হবে, যতই ঝা চকচকে প্রচুর খরচ করে প্রচার করা হোক না কেন এই কেন্দ্রে অংকের হিসাবেই বিজেপির জেতার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে । বিভিন্ন মিডিয়ায় এমন একটা ভাব দেখানো হচ্ছে যেন ভোটটা তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে। না একেবারেই না। সিপিএমের প্রার্থী যথেষ্ট ভোট পাবেন। বিজেপি প্রার্থী সমস্ত চিন্তা সিদ্ধান্ত ঢেকে দেওয়ার জন্য দেদার খরচ করছেন। কিন্তু একটা ছোট খোঁচা থাকছে। মাত্র ২৩ মাস
আগে উনি লোকসভার প্রার্থী হিসাবে হেরে গেছেন। নোয়াপাড়া কেন্দ্রেও তার হার ছিল। ফলে অত সহজে বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে গার্গী চ্যাটার্জী অনেক আগে থেকে নেমেছেন। তার গ্রাউন্ড লেভেলে পরিচিতি সকলের থেকে অনেক বেশি। এটা তাকে অনেকটা অ্যাডভানটেজ দেবে বলে সকলের ধারনা। ভোট এদিক ওদিক হয়ে বামপ্রার্থী জিতেও যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ফলে প্রচার করে মানুষের মাথায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চললেও নোয়াপাড়ায় লড়াই ত্রিমুখী। যা খুবই আকর্ষণীয়।
We hate spam as much as you do