মাহমুদাবাদ লিখেছিলেন, ‘অনেক দক্ষিণপন্থীই কর্নেল সোফিয়া কুরেশির প্রশংসা করেছেন। তা খুবই ভালো। তবে তাঁরা যদি একই ভাবে বুলডোজ়ার বিচার, গণপ্রহার বা ঘৃণার রাজনীতির শিকার মুসলিম নাগরিকদেরও নিরাপত্তা নিয়েও সরব হতেন...। দুই মহিলাকে এ ভাবে সামনের সারিতে নিয়ে আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ভালো সিদ্ধান্ত। তবে সব ক্ষেত্রে এমনটা হওয়া দরকার। না হলে তা হিপোক্রেসি।’
হরিয়ানার অধ্যাপক মেহেনমুদাবাদের জামিন সুপ্রিম কোর্টে
21 May 2025
অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলি খান মেহমুদাবাদের জামিন হলো সুপ্রিম কোর্টে। অপারেশন সিন্দুর প্রসঙ্গে কুমন্তব্য করার অভিযোগে তাঁকে গত রবিবার গ্রেপ্তার করেছিল হরিয়ানা পুলিশ।
তবে তদন্ত চলবে বলে জানিয়েছে বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি এনকে সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। একই সঙ্গে আদালত প্রশ্ন তুলেছে, ‘কেন এই ধরনের চিপ পাবলিসিটির দিকে ঝোঁকেন? ’ কোর্টের নির্দেশ, বিষয়টি যেহেতু বিচারাধীন, এই পোস্ট সংক্রান্ত কোনও লেখা বা অনলাইন প্রবন্ধ বা প্রতিবেদন তিনি লিখতে পারবেন না। একই সঙ্গে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা SIT গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
মেহমূদাবাদের যে ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বিতর্ক, তার কোথায় তিনি সেনা অভিযান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন, দেখাতে পারেনি অভিযোগকারীরা। ভারতীয় মহিলা সেনা আধিকারিকদের সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। কিন্তু পোস্টের কোথায় খারাপ মন্তব্য তাও দেখানো যায়নি।
মাহমুদাবাদ লিখেছিলেন, ‘অনেক দক্ষিণপন্থীই কর্নেল সোফিয়া কুরেশির প্রশংসা করেছেন। তা খুবই ভালো। তবে তাঁরা যদি একই ভাবে বুলডোজ়ার বিচার, গণপ্রহার বা ঘৃণার রাজনীতির শিকার মুসলিম নাগরিকদেরও নিরাপত্তা নিয়েও সরব হতেন...। দুই মহিলাকে এ ভাবে সামনের সারিতে নিয়ে আসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ভালো সিদ্ধান্ত। তবে সব ক্ষেত্রে এমনটা হওয়া দরকার। না হলে তা হিপোক্রেসি।’
যদিও এই পোস্ট নিয়ে বিতর্ক দানা বাধার পর ওই অধ্যাপক দাবি করেছিলেন, তাঁর পোস্টের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে, একই সঙ্গে বাক স্বাধীনতা নিয়েও সরব হন তিনি। আপাতত সুপ্রিম-স্বস্তি তাঁর। এক দিন আগেই হরিয়ানার আদালত তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিলেও সুপ্রিম কোর্টে আজ অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন তিনি। অধ্যাপকের জামিনের খবরকে স্বস্তিদায়ক বলেই জানিয়েছে অশোকা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ।
হরিয়ানার যুব বিজেপি র এক নেতা এবং রাজ্য মহিলা কমিশন একযোগে এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। রাজ্যের বিজেপি সরকারের পুলিশ অতি তৎপর হয়ে গ্রেপ্তার করে নেয়।
মেহেমুদাবাদের গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে সরব হয় বিভিন্ন অংশ। অধ্যাপকদের সংগঠন দিল্লি টিচার্স ফ্রন্ট প্রতিবাদ জানায়। প্রতিবাদ জানায় ছাত্র সংগঠন এসএফআই। সমাজের বিভিন্ন অংশই প্রশ্ন তোলে যে মধ্য প্রদেশের মন্ত্রী বিজেপি নেতা বিজয়ে শাহ কর্নেল সুফিয়া কুরেশিকে সন্ত্রাসবাদীদের বোন বলা সত্বেও বিজেপি ব্যবস্থা নিল না। সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার পরও এই মন্ত্রী দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দেশের বিদেশ সচিব কে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার পরও কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। দেশময় বিদ্বেষ প্রচার ছড়ানো সত্বেও বিজেপি আরএসএসের অনুগামীদের কোন শাস্তি হয়নি। অথচ এই অধ্যাপক এর বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন প্রমাণ থাকা না সত্বেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল কেন।
মেহেমুদাবাদ কার্যত প্রশ্ন তুলেছিলেন দেশময় বিদ্বেষ প্রচারের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন সময়ে সংখ্যালঘুদের উপরে একের পর এক আক্রমণ সত্ত্বেও ব্যবস্থা না নেওয়ার বাস্তবতায়। উগ্র হিন্দুত্ববাদী বাহিনী এই দেশ দ্রোহী বানিয়ে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।
We hate spam as much as you do