রবিবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছেন । সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের বর্তমান শীর্ষ দুই আমলাকে সরিয়ে সেই জায়গায় নতুন আধিকারিকদের নামও ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে ।
ভোট ঘোষণার মাঝরাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব-স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরাল নির্বাচন কমিশন
March 16, 2026
ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল । রাত পোহানোর আগেই রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দিল দিল্লির নির্বাচন সদন । অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল ।
রবিবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছেন । সেই ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের বর্তমান শীর্ষ দুই আমলাকে সরিয়ে সেই জায়গায় নতুন আধিকারিকদের নামও ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে ।
নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে নিযুক্ত হচ্ছেন 1993 সালের ব্যাচের প্রবীণ আইএএস আধিকারিক দুষ্যন্ত নারিয়ালা । পাশাপাশি, রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রধান সচিব (প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, হোম অ্যান্ড হিল অ্যাফেয়ার্স) পদে বসানো হচ্ছে 1997 সালের ব্যাচের আইএএস আধিকারিক সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে । অপসারিত দুই আমলার জায়গায় এই দুই অভিজ্ঞ আধিকারিক অবিলম্বে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে ।
রবিবার বিকেলে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরপরই রাজ্যের মুখ্যসচিবের উদ্দেশে পাঠানো ওই চিঠিতে জানানো হয় যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি খুঁটিয়ে দেখার পরেই কমিশনের শীর্ষকর্তারা এই বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । সাধারণত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কার্যকর হয়ে যায় এবং সমগ্র প্রশাসনের রাশ সরাসরি নির্বাচন কমিশনের হাতে চলে যায় । সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রথম দিনেই প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে রদবদল করে কড়া বার্তা দিল কমিশন ।
নয়া মুখ্যসচিব হচ্ছেন দুষ্যন্ত নারিয়ালা ও স্বরাষ্ট্রসচিব হচ্ছেন সঙ্ঘমিত্রা ঘোষ
এই রদবদল নিয়ে রাজ্য সরকারকে কঠোর সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন । নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে । একইসঙ্গে নতুন দুই আইএএস আধিকারিক নিজেদের নতুন পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন কি না, সেই সংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট 16 মার্চ অর্থাৎ আজ সোমবার বিকেল 3টের মধ্যে রাজ্য সরকারকে পাঠাতে হবে কমিশনের কাছে । এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দেশ কার্যকর করার বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।
অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে শুধু বদলিই নয়, অপসারিত আমলাদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়েও কড়া শর্ত চাপিয়ে দিয়েছে কমিশন । নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, যে সমস্ত আধিকারিককে তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরানো হচ্ছে, ভোট প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও পদে বা কাজে নিয়োগ করা যাবে না । অর্থাৎ, ভোটের গোটা সময়কালের জন্য এই আধিকারিকদের কার্যত নির্বাচন প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ বাইরেই থাকতে হবে ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনের অন্দরে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন এই মেগা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে । অতীতেও নির্বাচনের সময় পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে রাজ্যের একাধিক পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তাকে সরিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে । তবে ভোট ঘোষণার মাত্র কয়েকঘণ্টার মধ্যেই খোদ মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো রাজ্যের সর্বোচ্চ দুই আমলাকে একযোগে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । এর ফলে ভোটের ঠিক আগে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে এবং কমিশন যে এবার শুরু থেকেই রাজ্যের প্রশাসনের ওপর কড়া নজর রাখছে, তা কার্যত পরিষ্কার হয়ে গেল ।
পশ্চিমবঙ্গের 294টি আসনে একুশের বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল আট দফায় ৷ এবার কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে হিংসা রুখতে সর্বোচ্চ দু'দফায় ভোট করার কথা জানিয়েছিল বিরোধীরা ৷ রবিবার তাতেই সিলমোহর দিয়ে রাজ্যে 23 ও 29 এপ্রিল দু'দফায় ভোট হবে বলে নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন ৷ প্রথম দফায় 152 ও দ্বিতীয় দফায় 142টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ৷ গণনা 4 মে ৷
We hate spam as much as you do