‘পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘ ও ভারতীয় গণনাট্য সংঘ’র পক্ষে ১২৮ জন বিশিষ্টজন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খোলা চিঠি প্রকাশ করেন গত ২১ এপ্রিল। শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার থেকে শুরু করে অভিনেতা বাদশা মৈত্র, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, নাট্য ব্যক্তিত্ব চন্দন সেন, পরিচালক রাজা সেন, অনীক দত্ত, সংগীতশিল্পী ও সুরকার কল্যাণ সেন বরাট, দেবজ্যোতি মিশ্র, চলচ্চিত্রকার অনিন্দিতা সর্বাধিকারীর মতো ব্যক্তিরা অমর্ত্য সেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তেমনি পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ মালিনী ভট্টাচার্য, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, কবি শুভেন্দু মাইতি, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অঞ্জন বেরা, কবি মন্দাক্রান্তা সেনের মতো ব্যক্তিত্বরাও। ওই খোলা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, 'গত কয়েকমাস ধরে বিশ্ববিশ্রুত অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক নোবেলজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের সঙ্গে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ যে আচরণ করে চলেছে, আমাদের কাছে দুর্বোধ্য ও নিন্দাজনক মনে হয়েছে।' আরও লেখা হয়েছে, 'উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কিছু জমি তিনি ভোগ করছেন-এটাকে তাঁর সজ্ঞান অপরাধ ধরে নিয়ে বিশ্বভারতী তাঁকে অপরাধী সাব্যস্ত করেছে এবং তাঁর প্রতি নানা অপমানজনক ব্যবহার করে চলেছে। যে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন, সেই বিষয়টি নিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ অশোভন ব্যগ্রতা দেখাচ্ছে ও অধাপক সেনকে তাঁর পৈতৃক গৃহ থেকে উৎখাত করতে উদ্যত হয়েছে। এই ঘটনা শুধু বাঙালি নয়, সমস্ত ভারতীয় এবং বিশ্ববাসীর কাছেও আমাদের মাথা হেঁট করে দিয়েছে। তাঁকে লেখা বিশ্বভারতীর পত্রগুলোর ভাষাও অত্যন্ত আপত্তিকর বলে আমরা মনে করি।' আরও লেখা হয়, 'অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের প্রতি এই দুর্ব্যবহারকে আমরা ধিক্কার জানাই এবং বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই উদ্যোগ থেকে প্রতিনিবৃত্ত হতে বলি। সেই সঙ্গে বিশ্বভারতীর আচার্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই বিষয়ে গভীর মৌনতা আমাদের বিস্মিত করে।' ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু টুইট করে জানিয়েছেন, ‘শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর পক্ষে অমর্ত্য সেনকে যে ধরনের হয়রানি ও উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা ভারতের জন্য বিব্রতকর। অমর্ত্য সেন একজন ভারতীয় নাগরিক এবং গোটা বিশ্বের আইকন। বিশ্বভারতীর এই পদক্ষেপ ভারতের গণতন্ত্রের জন্য একটি নিম্নমানের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।'
অমর্ত্য সেনকে বিশ্বভারতীর হেনস্থার প্রতিবাদে বাম বিশিষ্টজনদের খোলা চিঠি
সোমবার ২৪ এপ্রিল ২০২৩
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের প্রতি বিশ্বভারতীর আচরণ ও তাঁকে হেনস্তা করার অভিযোগ তুলে খোলা চিঠিতে সমগ্র ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাম সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গের প্রায় শতাধিক বিশিষ্টজন।
অভিনেতা থেকে শিল্পী, লেখক, সাহিত্যিক, কবি, শিক্ষাবিদ সকলেই অমর্ত্য সেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এমনকী, অমর্ত্য সেনের বিতর্কিত জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকায় আচার্য তথা দেশটির প্রধানমন্ত্রী এখনও নীরব কেন, সেই প্রশ্নও তোলা হয়েছে খোলা চিঠিতে।
‘পশ্চিমবঙ্গ গণতান্ত্রিক লেখক শিল্পী সংঘ ও ভারতীয় গণনাট্য সংঘ’র পক্ষে ১২৮ জন বিশিষ্টজন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে খোলা চিঠি প্রকাশ করেন গত ২১ এপ্রিল। শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার থেকে শুরু করে অভিনেতা বাদশা মৈত্র, বিপ্লব চট্টোপাধ্যায়, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, নাট্য ব্যক্তিত্ব চন্দন সেন, পরিচালক রাজা সেন, অনীক দত্ত, সংগীতশিল্পী ও সুরকার কল্যাণ সেন বরাট, দেবজ্যোতি মিশ্র, চলচ্চিত্রকার অনিন্দিতা সর্বাধিকারীর মতো ব্যক্তিরা অমর্ত্য সেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তেমনি পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ মালিনী ভট্টাচার্য, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, কবি শুভেন্দু মাইতি, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অঞ্জন বেরা, কবি মন্দাক্রান্তা সেনের মতো ব্যক্তিত্বরাও।
ওই খোলা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, 'গত কয়েকমাস ধরে বিশ্ববিশ্রুত অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক নোবেলজয়ী অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের সঙ্গে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ যে আচরণ করে চলেছে, আমাদের কাছে দুর্বোধ্য ও নিন্দাজনক মনে হয়েছে।'
আরও লেখা হয়েছে, 'উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত কিছু জমি তিনি ভোগ করছেন-এটাকে তাঁর সজ্ঞান অপরাধ ধরে নিয়ে বিশ্বভারতী তাঁকে অপরাধী সাব্যস্ত করেছে এবং তাঁর প্রতি নানা অপমানজনক ব্যবহার করে চলেছে। যে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন, সেই বিষয়টি নিয়ে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ অশোভন ব্যগ্রতা দেখাচ্ছে ও অধাপক সেনকে তাঁর পৈতৃক গৃহ থেকে উৎখাত করতে উদ্যত হয়েছে। এই ঘটনা শুধু বাঙালি নয়, সমস্ত ভারতীয় এবং বিশ্ববাসীর কাছেও আমাদের মাথা হেঁট করে দিয়েছে। তাঁকে লেখা বিশ্বভারতীর পত্রগুলোর ভাষাও অত্যন্ত আপত্তিকর বলে আমরা মনে করি।'
আরও লেখা হয়, 'অধ্যাপক অমর্ত্য সেনের প্রতি এই দুর্ব্যবহারকে আমরা ধিক্কার জানাই এবং বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই উদ্যোগ থেকে প্রতিনিবৃত্ত হতে বলি। সেই সঙ্গে বিশ্বভারতীর আচার্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই বিষয়ে গভীর মৌনতা আমাদের বিস্মিত করে।'
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাবেক প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু টুইট করে জানিয়েছেন, ‘শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীর পক্ষে অমর্ত্য সেনকে যে ধরনের হয়রানি ও উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা ভারতের জন্য বিব্রতকর। অমর্ত্য সেন একজন ভারতীয় নাগরিক এবং গোটা বিশ্বের আইকন। বিশ্বভারতীর এই পদক্ষেপ ভারতের গণতন্ত্রের জন্য একটি নিম্নমানের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।'
We hate spam as much as you do