সোমবার সকাল থেকেই মেদনীপুর কলেজে এসএফআই-টিএমসিপি সংঘর্ষ। এসএফআইয়ের ডাকে ছাত্র ধর্মঘটের শুরু থেকেই কলেজে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এসএফআইয়ের অভিযোগ, পুলিশের সহায়তায় টিএমসিপি সমর্থকরা তাদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। এর পরই শুরু হয় টিএমসিপি সমর্থকদের সঙ্গে বচসা। ধস্তাধস্তি, হাতাহাতিরও ঘটনা ঘটে। পুরো কলেজ চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
যাদবপুরঃ SFI এর ডাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ধর্মঘট উত্তাল রাজ্য, কলেজে কলেজে সংঘর্ষের খবর
03 Mar 2025,
গত শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জেরে সোমবার রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল এসএফআই। যে ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠলো রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে একাধিক জায়গায় সরাসরি সংঘর্ষে জড়ায় এসএফআই-টিএমসিপি।
সোমবার সকাল থেকেই মেদনীপুর কলেজে এসএফআই-টিএমসিপি সংঘর্ষ। এসএফআইয়ের ডাকে ছাত্র ধর্মঘটের শুরু থেকেই কলেজে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। এসএফআইয়ের অভিযোগ, পুলিশের সহায়তায় টিএমসিপি সমর্থকরা তাদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেছে। এর পরই শুরু হয় টিএমসিপি সমর্থকদের সঙ্গে বচসা। ধস্তাধস্তি, হাতাহাতিরও ঘটনা ঘটে। পুরো কলেজ চত্বর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে কলেজ চত্বরে।
এসএফআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিল কিন্তু টিএমসিপি তাদের আন্দোলনকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনায় ছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। এদিকে, মেদিনীপুর কলেজের ঘটনার পর, বিভিন্ন কলেজে এমন অশান্তির খবর ছড়িয়ে পড়ে। এসএফআই ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেয়ার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে অস্থিরতা বেড়ে গেছে।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের গেটে সকাল থেকে এসএফআই সমর্থকরা পিকেটিং শুরু করে। পাঁশকুড়ার বনমালী কলেজ থেকেও ছাত্রদের মধ্যে হাতাহাতির খবর এসেছে।
এদিন সকাল থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালের চার নম্বর গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখায় এসএফআই সহ বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন। কলা বিভাগে বন্ধ ছিল পঠনপাঠন। এদিনেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই হয়েছে।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘটের ভালোই প্রভাব পড়েছে। এখানে একসময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এসএফআই ও টিএমসিপি কর্মীরা। ছাত্র ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ ইউনিভার্সিটির গেটেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
যাদবপুরের ঘটনার প্রতিবাদে এদিন দিল্লিতেও বিক্ষোভ দেখায় এসএফআই সহ অন্যান্য বাম ছাত্র সংগঠন। মিছিল থেকে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর পদত্যাগ দাবি করেন এসএফআই নেত্রী দীপ্সিতা ধর।
এদিনের ধর্মঘটের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষাকে। যদিও রবিবার কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে করা এক এক্স বার্তাকে ঘিরে বিভ্রান্তি ছড়ায়। যেখানে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, “আগামীকাল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু, লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী বসতে চলেছেন জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায়। কাল সকাল থেকেই পরীক্ষার্থীরা রওনা দেবেন নিজের নিজের পরীক্ষাকেন্দ্রে, বিভিন্ন স্কুল এবং কলেজে। দুৰ্ভাগ্যের, কালই একটি রাজনৈতিক সংগঠনের তরফে রাজ্য জুড়ে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। আমাদের শুধু এটুকুই বলার - পরীক্ষার্থী ছাত্রছাত্রীদের প্রতিকূলতায় ফেলে, এমন কোনও কর্মসূচি ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে হতে পারে না।”
যদিও এসএফআই স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছে পুলিশের এই দাবি সঠিক নয়। কারণ শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সঙ্গে এই ধর্মঘটের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, ছাত্র ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে টিএমসিপি ও ডিএসও (DSO) সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির অভিযোগ উঠল শিলিগুড়িতে (Siliguri)। এদিন যাদবপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে ডাকা ছাত্র ধর্মঘট সফল করতে পথে নামে ছাত্র সংগঠন ডিএসও। পালটা পথে নেমে ডিএসও সমর্থকদের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সমর্থকরা ব্যাপক মারধর করে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, এদিন ধর্মঘটের সমর্থনে ডিএসও নেতা-কর্মীরা পথে নেমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস আটকান। তা থেকেই বিবাদের সূত্রপাত। এর জেরে উত্তেজনা ছড়ায় শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্ক, কোর্টমোড় ও পুরনিগম সংলগ্ন এলাকায়। দু’পক্ষের হাতাহাতিতে রাস্তায় ভিড় জমে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সোমবার বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী ও প্রাক্তনীদের ডাকে এক বিরাট মিছিল করা হয়। যাদবপুর থেকে শুরু হয়ে এই মিছিল শেষ হবে গোলপার্কে।
We hate spam as much as you do