স্বপ্নেরও একটা সীমা আছে সেসব ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার সালকিয়া থেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের অ্যাকাডেমিতে অনুশীলনের সুযোগ। ইতিহাসে নাম লেখালেন তরুণ স্ট্রাইকার শুভ পাল । বায়ার্ন মিউনিখের অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ার্ল্ড স্কোয়াডে খেলার সুযোগ পেলেন শুভ। সেই সঙ্গে মিলে গেল মিউনিখে বায়ার্নের অ্যাকাডেমিতে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগও।
বাংলার 'শুভ' এবার বায়ার্ন মিউনিখে খেলবে। রূপকথার মতো শোনাচ্ছে ?
বাংলার প্রত্যন্ত মফস্বলের অসচ্ছল পরিবারের এক তরুন ফুটবলার কতটা স্বপ্ন দেখতে পারে ? স্বপ্নেরও একটা সীমা আছে সেসব ছাড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার সালকিয়া থেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের অ্যাকাডেমিতে অনুশীলনের সুযোগ। ইতিহাসে নাম লেখালেন তরুণ স্ট্রাইকার শুভ পাল । বায়ার্ন মিউনিখের অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ার্ল্ড স্কোয়াডে খেলার সুযোগ পেলেন শুভ। সেই সঙ্গে মিলে গেল মিউনিখে বায়ার্নের অ্যাকাডেমিতে গিয়ে অনুশীলনের সুযোগও।
সারা পৃথিবীতে ফুটবলের লুক্কায়িত তরুন প্রতিভার খোঁজে স্কাউটিং শুরু করেছিল বায়ার্ন, ব্রাজিল, জার্মানি, পর্তুগাল, চিন সহ ৬৪টি দেশ থেকে ৬৫৪ জন ফুটবলার অনলাইনে ট্রায়াল দিয়েছিল। ১২০০-র ওপর ভিডিও জমা পড়েছিল। এই তরুণ ফুটবলারদের প্রাথমিকভাবে বেছে নেওয়া হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ার্ল্ড স্কোয়াড গড়ার লক্ষ্যে। সেই ৬৫৪ জন প্রতিভাবান ফুটবলারের মধ্যে থেকে ১৫ জনকে চূড়ান্ত স্কোয়াডে রেখেছেন বায়ার্ন মিউনিখের কোচেরা। যার মধ্যে স্থান পেয়েছেন হাওড়ার শুভ। বায়ার্ন মিউনিখের ওয়েবসাইটে ওয়ার্ল্ড স্কোয়াডের সদস্য হিসেবে শুভ পালের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এই ১৫ জন তরুণ ফুটবলারকে এবার মেক্সিকো নিয়ে যাবে বায়ার্ন। চলতি মাসের শেষেই দিল্লি থেকে মেক্সিকো উড়ে যাবে শুভ। সেখানে নজর কাড়তে পারলেই মিলে যেতে পারে বায়ার্ন সহ ইউরোপের নামি ক্লাবের হয়ে খেলার সুযোগ।
তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলা হবে। তারপরই গোটা ওয়ার্ল্ড স্কোয়াড চলে যাবে মিউনিখে। আগস্ট মাসে মিউনিখে শুরু হবে মূল পর্বের ট্রেনিং। প্রশিক্ষণ দেবেন বায়ার্ন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ ক্রিস্টোফার লোচ। সেখানে বায়ার্নের যুব দলের বিরুদ্ধেও খেলার সুযোগ পাবেন শুভরা। সব ঠিক থাকলে বায়ার্নের যুব দলেও সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন তিনি। এরপর সে সুযোগ পাবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্ব একাদশ বনাম অনূর্ধ্ব-১৯ বায়ার্ন মিউনিখের ম্যাচে খেলার।
ফলে শুভ-র সামনে এখন একের পর এক স্বপ্ন পূরণের হাতছানি।
শুভর এই যাত্রা পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। তাঁর বাবা বিপ্লব পাল এক গেঞ্জি কারখানার শ্রমিক। অভাব অনটনের পরিবার। কিন্তু ছোট বেলা থেকেই শুভ-র ফুটবল অন্ত প্রাণ। কিন্তু একটা সময় খেলার জার্সি ও বুট কেনার পর্যন্ত ক্ষমতা ছিল না সালকিয়ার তরুণ ফুটবলারের। ছেলে বেলায় স্থানীয় সালকিয়া অ্যাসোসিয়েশনে অনুশীলন করত শুভ। সেই সময় সেখানে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়েছিলেন চিমা ওকেরি। নাইজেরিয়ান তারকাই তাকে বুট কিনে দেন ও দেশপ্রিয় পার্কে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দেন। শুভ-র উত্থানের পেছনে রয়েছে চিমার অবদান। শুভর সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দিল্লির সুদেবা এফসির অবদান। ২০১৫-১৬ সাল থেকে সুদেভা এফসির সঙ্গে যুক্ত শুভ। মাত্র ১৬ বছর বয়সে সেখানে ক্যাপ্টেন হয় সে। অনূর্ধ্ব ১৯ আই লিগে সুদেবার হয়ে ১৩টি ম্যাচ ৫৮টি গোল করে শুভ।
We hate spam as much as you do