বামফ্রন্ট নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন ২০১১ সালে বছরে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থানের কি হল ? প্রতি ব্লকে শিল্প তালুকের কি হল ? মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে চোট লাগলে কলকাতা কেন আসতে হল ? প্রতি জেলায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কি হল ? সুজন সমালোচনা করে বলেন কর্মসংস্থান সবচেয়ে জরুরি । ৫০০ টাকা সাহায্য দিয়ে কি হবে ?
তৃনমুলের ইস্তাহার। অর্থের উৎসের দিশা ছাড়াই বিপুল প্রতিশ্রুতি।
ইস্তেহার প্রকাশের একদিন আগেই অঙ্গীকারপত্রে ছাড় পেয়ে গিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস । তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অঙ্গীকারপত্রে বেশ কিছু চমকপ্রদ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজ্যে আইটি সহ নতুন আধুনিক শিল্প স্থাপন না হলে কর্মসংস্থান এবং আয় বাড়বে না।
এদিকে ৩৫ লক্ষ মানুষকে চরম দারিদ্রের হাত থেকে পরিত্রাণ করা হবে।দারিদ্রসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে।‘দুয়ারে রেশন’ প্রকল্প চালু করা হবে। ফলে বাড়িতেই রেশন পৌঁছে যাবে। ৫ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান হবে।বেকারত্বের হার কমিয়ে অর্ধেক করা হবে।বাংলার প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে ১.৬ কোটি পরিবারের কর্ত্রীকে মাসিক ৫০০ টাকা ও কৃষক বন্ধু প্রকল্পে ৬৮ লক্ষ কৃষককে প্রতি বছর দশ হাজার টাকা দেওয়া হবে।১০ লক্ষ এমএসএমই ইউনিট গড়ে তোলা হবে। বড় শিল্পে ৫ লক্ষ কোটি বিনিয়োগ করা হবে।প্রতি ব্লকে মডেল আবাসিক স্কুল এবং বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ৫ লক্ষ আবাসন তৈরি হবে।প্রতি ঘরে বিদ্যুৎ, জল পৌঁছাবে এবং ছাত্রছাত্রীদের স্বল্প সুদে ১০ লক্ষ পর্যন্ত ৪% হারে ঋণ দেওয়া হবে।
আরও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষকে উন্নয়নের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সেই সম্প্রদায়গুলিকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া। সেই প্রতিশ্রুতির কথাই লেখা দলের নির্বাচনী ইস্তাহারে। এর আগেই ‘দুয়ারে রেশন’ অর্থাৎ বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার মতো পরিকল্পনার কথা প্রচারে গিয়ে বলেছেন মমতা। তার পাশাপাশিই থাকছে পিছিয়ে পড়া নানা সম্প্রদায়ের মানুষের কথা। তাদের উন্নয়নের কথা। পিছিয়ে পড়া বেশ কিছু সম্প্রদায়কে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। দলের ইস্তেহারে সেই প্রসঙ্গ আছে।
এদিকে বামফ্রন্ট নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন ২০১১ সালে বছরে ১০ লক্ষ কর্মসংস্থানের কি হল ? প্রতি ব্লকে শিল্প তালুকের কি হল ? মুখ্যমন্ত্রীর পায়ে চোট লাগলে কলকাতা কেন আসতে হল ? প্রতি জেলায় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের কি হল ? সুজন সমালোচনা করে বলেন কর্মসংস্থান সবচেয়ে জরুরি । ৫০০ টাকা সাহায্য দিয়ে কি হবে ?
লকডাউনের সময় কাজ চলে যাওয়ার সময় বামপন্থীদের দাবীর কথা উল্লেখ করে সুজন বলেন আয়কর বিহীন মানুষকে মাসিক সাহায্য দেওয়া হয়নি। আজও পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা খুবই খারাপ । ইস্তাহারের সমালোচনা করে বাম পরিষদীয় দলনেতা বলেন সিঙ্গুরে বিজেপির সাহায্য নিয়ে শিল্প ধ্বংস করা হয়েছে। বিদ্যুতের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তার মাশুল কমানোর দাবী জানান। নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষকদের লাগাতার বিক্ষোভ আন্দোলন মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তাহারের দাবীর থেকে আলাদা। এসএসসি , টেট পরীক্ষা ও নিয়োগ বন্ধ । গত দশ বছরে প্রায় সব কর্মসংস্থানের সমস্ত পথ রুদ্ধ করে আবার ভোটের মুখে কর্মসংস্থানের কথা বলা কতটা বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করবে তার সন্দেহ আছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারনা।
We hate spam as much as you do