সিপিআইএম পলিটব্যুরো বলেছে, যেসময় দেশে বেকারত্বের হার সব থেকে ওপরে, সেই সময় এমজিএনআরইজিএ-তে বরাদ্দ ৩৩ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। খাদ্যে ভর্তুকি কমানো হয়েছে ৯০ হাজার কোটি টাকা। সারে ৫০ হাজার কোটি টাকা এবং পেট্রোলিয়ামে ভর্তুকি ৬৯০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। পিএম কিষাণ তহবিলে বরাদ্দ ৬৮ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৬০ হাজার কোটি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিআইএম বলছে, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার দাবি মধ্যে অপূর্ণতা থেকে যাচ্ছে। সংখ্যালঘু উন্নয়নে বরাদ্দ ১৮১০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৬১০ কোটি টাকা।
কর্মসংস্থান,ক্রয়ক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির উদ্যোগহীন বাজেট জনবিরোধী CPIM এর মত - Union Budget 2023
February 2, 2023
কেন্দ্রীয় বাজেটকে জনবিরোধী অ্যাখ্যা দিল সিপিআইএম পলিটব্যুরো। মহামারী কাটানোর পরে বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দা, সেই সময় যেখানে বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সঙ্গে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি করতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তার জন্য কিছুই করা হয়নি।
Union Budget 2023: বাজেট জনবিরোধী! কমেছে বরাদ্দ, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা সিপিআইএম-এর
ধনীদের কর ছাড় দেওয়ার সমালোচনা
এবারের বাজেটে ধনীদের আয়ের ওপর থেকে সারচার্জ কমানো হয়েছে। এই বিষয়টি সমালোচনা করে সিপিআইএম পলিটব্যুরো বলেছে, ধনীদের আর কর ছাড় দিতে গিয়ে রাজস্ব ঘাটতি কমাতে সরকারি ব্যয় কমানোর চেষ্টা করেছে সরকার। সিপিআইএম-এর তরফে অক্সফ্যামের রিপোর্ট উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দেশে সব থেকে ধনী ১ শতাংশ মানুষ গত দুবছর ধরে দেশে উৎপন্ন সম্পদের ৪০.৫ শতাংশ দখল করে রেখেছে। এই বাজেটে আর্থিক সংকট আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
বাজেটে ২০২২-২৩ সালের তুলনায় ২০২৩-২৪ সালে সরকারি ব্যয় ৭ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। সিপিআইএম হিসেব কষে বলেছে, যদি শুধ পরিশোধের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়, তাহলে এই ব্যয় বৃদ্ধি মাত্র ৫.৪ শতাংশ। এর সঙ্গে অন্তর্নিহিত মুদ্রাস্ফীতি এবং ১ শতাংশ জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনা করলে বাজেটে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি কিছুই নয়। বরং তা সংখ্যাগরিষ্ঠের জীবিকাকে আরও কঠিন করে তুলবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাজেটে ভর্তুকি হ্রাস ও বরাদ্দ হ্রাস করা হল
সিপিআইএম পলিটব্যুরো বলেছে, যেসময় দেশে বেকারত্বের হার সব থেকে ওপরে, সেই সময় এমজিএনআরইজিএ-তে বরাদ্দ ৩৩ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। খাদ্যে ভর্তুকি কমানো হয়েছে ৯০ হাজার কোটি টাকা। সারে ৫০ হাজার কোটি টাকা এবং পেট্রোলিয়ামে ভর্তুকি ৬৯০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। পিএম কিষাণ তহবিলে বরাদ্দ ৬৮ হাজার কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ৬০ হাজার কোটি করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিপিআইএম বলছে, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার দাবি মধ্যে অপূর্ণতা থেকে যাচ্ছে। সংখ্যালঘু উন্নয়নে বরাদ্দ ১৮১০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ৬১০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে মহামারীর পরেও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের ৯২৫৫ কোটি টাকা এবং শিক্ষা খাতে বরাদ্দের ৪২৯৭ রোটি টাকা অব্যবহৃত হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আইসিডিএস কর্মীদের পারিশ্রমিক কম হওয়ার পরেও বাজেটে তা বৃদ্ধি করা হয়নি। বাজেটে মহিলাদের জন্য মোট ব্যয়ের ৯ শতাংশ বরাদ্দ এবং দেশের তফশিলি জাতির ১৬ শতাংশ জনসংখ্যার তুলনায় বাজেটে মাত্র ৩.৫ শতাংশ পরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। একই পরিস্থিতি তফশিলি উপজাতিদের ক্ষেত্রেও।
সিপিআইএম পলিটব্যুরো বলেছে, জনগণকে প্রয়োজনীয় সুবিধা দিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়িয়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারত সরকার। তাদের দাবি, সরকার চাকরি তৈরির প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, এমজিএনআরইজিএস প্রকল্পে বরাদ্দ ব্যাপক বৃদ্ধি, ৫ কেজি বিনামূল্যের খাদ্যশস্যের সঙ্গে ৫ কেজি ভর্তুকিযুক্ত খাদ্যশস্য দেওয়া পুনরায় চালু করা, সম্পদ ও উত্তরাধিকার কর আরোপ, ওষুধ-সহ খাদ্য ও নিতপ্রযোজনীয় পণ্যের পর থেকে জিএসটি প্রত্যাহার।
সিপিআইএম-এর প্রতিবাদ কর্মসূচি
কেন্দ্রীয় বাজেটকে জনবিরোধী অ্যাখ্যা দিয়ে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে বরাদ্দ ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি সংগঠিত করবে। ২২ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে ওপরে করা দাবিগুলির সমর্থনে পথে নামবে তারা।
We hate spam as much as you do