নর্থইস্ট ম্যাচে ফিরে আসতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। তবে তা মোহনবাগানের শক্তিশালী ডিফেন্স ভাঙার জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই ভাবে খেলে যেতে পারলে মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়ন হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
অপ্রতিরোধ্য মোহনবাগান, দুরন্ত জয় নর্থইস্টের বিরুদ্ধে
কলকাতার যে দুটি ক্লাব এখন আইএসএল খেলছে তাদের মধ্যে একটি অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গল হারা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে আর অপর ক্লাবটি অর্থাৎ এটিকে মোহনবাগানে ঠিক উল্টো ছবি, তারা জেতা অভ্যাসে পরিণত করেছে। এদিন গোয়ার ফতোরদার পন্ডিত জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে নর্থইস্টেকে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেই জয়ের ধারা অভ্যাহত রাখল মেরিনার্সরা। এর ফলে লীগ টেবিলে বেশ ভালো জায়গায় চলে এল মেরিনার্সরা। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রবল দাবিদার তারা। আর পয়েন্টের হিসেবে নর্থইস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ইতিমধ্যেই ছিটকে গেছে তাই লীগের বাকি ম্যাচগুলি তাদের কাছে নিয়মরক্ষার।
শুরু থেকেই ম্যাচের রাশ মোহনবাগানের হাতে ছিল। হাবাস জমানার বিরক্তিকর ডিফেন্সিভ ফুটবলের বদলে যথারীতি হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেদের পাসিং ফুটবল খেলতে দেখা যায়। বল পজেশন বেশী থাকলেও ফাইনাল থার্ডে প্রথম দিকে দাঁত ফোটাতে পারেনি কোলাসো, মনবীররা। তবে যত ম্যাচ গড়িয়েছে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়েছে সবুজ - মেরুন ব্রিগেড।
তবে এসবের মধ্যেই আচমকা ম্যাচের পাল্লা নর্থইস্টের দিকে ঝুঁকে যায়। একটি লুজ বল ধরে মারসেলো পেরেইরা মোহনবাগান বক্সের দিকে এগিয়ে যান। তারপর তিনি পাস দেন ডানদিকে উঠে আসা ভি পি সুহেরকে। বক্সের মাথা থেকে জোরালো শটে অমরিন্দরকে পরাস্ত করেন সুহের (১-০)।
তবে বেশিক্ষন লিড ধরে রাখতে পারেনি পাহাড়ের দলটি। বাল্টিক স্টেট্ ফিনল্যান্ডের হয়ে ইউরো কাপ খেলা জনি কাউকো মোহনবাগানকে সমতায় ফেরান। লিস্টন কোলাসোর থেকে বল পেয়ে যখন নিচু শটে তিনি নিজের ও দলের প্রথম গোলটি করছেন তখন নর্থইস্ট ডিফেন্ডাররা দর্শকের ভূমিকায় (১-১)। এর পর দুই দলই বেশ কিছু পরিকল্পিত আক্রমণ শানায়।
বাগানের দ্বিতীয় গোলেও জনি কাউকো নিজের অবদান রাখেন। নিজেদের অর্ধে বল ধরে জনি বাম প্রান্তে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলা লিস্টন কোলাসোর উদ্দেশ্যে বল বাড়ান। বল চমৎকার ভাবে নিজের নিয়ন্ত্রণ করে ভীতর দিকে কাট করে ঢুকে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন লিস্টন (২-১)। লিস্টনের ধারাবাহিক ভাবে ভালো খেলে চলা নিঃসন্দেহে ভারতের জাতীয় দলের কোচ ইগর স্টিম্যাচের জন্যে স্বস্তিদায়ক। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে লিস্টন আগামী দিনে জাতীয় দলের প্রধান কান্ডারি হয়ে উঠবেন।
এইদিন দ্বিতীয়ার্ধে প্রবীরের পরিবর্তে মাঠে নামেন এই মুহূর্তে দেশের এক নম্বর স্টপার সন্দেশ ঝিঙঘান।
ফলে আরও খোলা মনে একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা। তারই ফলস্বরূপ তৃতীয় গোল। মনভীরের গোলটিকে লিস্টনের জেরক্স কপি বলা যায়। লিস্টন ডানপ্রান্তে বল বাড়ান মনভীরকে। তিনি বল ধরে কাট করে ভিতরে ঢুকে গোলকিপারকে পরাস্ত করে দলের জয় নিশ্চিত করেন(৩-১)।
এরপর নর্থইস্ট ম্যাচে ফিরে আসতে আপ্রাণ চেষ্টা করে। তবে তা মোহনবাগানের শক্তিশালী ডিফেন্স ভাঙার জন্য যথেষ্ট ছিল না। এই ভাবে খেলে যেতে পারলে মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়ন হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।
We hate spam as much as you do