তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছি। আমরা এসব উপস্থাপকদের বিরোধিতা করছি না। আমরা তাদের কাউকেই ঘৃণা করি না। কিন্তু আমরা আমাদের দেশকে বেশি ভালোবাসি। আমরা আমাদের ভারতকে ভালোবাসি।”
১৪ টিভি উপস্থাপককে যে কারণে বয়কট করলো ‘ইন্ডিয়া জোট’
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩
ভারতে ১৪ টিভি উপস্থাপককে বয়কট করল দেশটির বিরোধী দলগুলোর নতুন জোট ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডিভালাপমেন্ট ইনক্লুসিভ অ্যালাইয়েন্স বা ইন্ডিয়া।
এই বৃহস্পতিবার বিকালে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে ওই ১৪ টিভি উপস্থাপকের এক টি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
দেশটির বিরোধী দলগুলো বিশেষত কংগ্রেস বরাবরই অভিযোগ করে আসছে, গণমাধ্যমের একটি অংশ তাদের সঙ্গে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো কর্মসূচিতেও মিডিয়া কাভারেজ নিয়ে এমন অভিযোগ ছিল কংগ্রেসের।
এ নিয়ে কংগ্রেসের মুখপাত্র পবন খেরা বলেছেন, অত্যন্ত বিষন্ন মন নিয়ে এটা করতে হচ্ছে। ইন্ডিয়া জোটের মিডিয়া কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছি। আমরা এসব উপস্থাপকদের বিরোধিতা করছি না। আমরা তাদের কাউকেই ঘৃণা করি না। কিন্তু আমরা আমাদের দেশকে বেশি ভালোবাসি। আমরা আমাদের ভারতকে ভালোবাসি।”
বুধবারই জোটের অন্যতম নেতা শারদ পাওয়ারের বাড়িতে ইন্ডিয়া জোটের সমন্বয় কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে এ নিয়ে আলোচনা হয়। ইন্ডিয়া জোটের মিডিয়া কমিটি একটি বিবৃতিতে বলেছে, কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শরিক দলগুলো এই অ্যাংকরদের অনুষ্ঠানে তাদের কোনো প্রতিনিধি পাঠাবে না। কারণ তাদের দাবি- এসব টিভি অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে।
এক্স (টুইটার) প্লাটফর্মে পবন খেরা একটা অডিও ক্লিপ পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, অত্যন্ত বিষন্ন মন নিয়ে আমরা একটা তালিকা তৈরি করেছি। আমরা নিশ্চিত যে, পরিস্থিতি ঠিকঠাক হবে। আশা করছি আগামী দিনে পরিস্থিতি ভালো হবে। যখন নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করবেন তখন অ্যাংকররা নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। তখন তারা কী উত্তর দেবেন?
তিনি আরও জানিয়েছেন, উপস্থাপকদের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু প্রতিদিন সন্ধ্যায় খবরের নাম করে যেভাবে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে তা নিয়েই আমাদের আপত্তি। প্রতি সন্ধ্যা থেকে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে গত ৯ বছর ধরে এটা চলছে। সে কারণেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ইন্ডিয়া জোট কয়েকজন উপস্থাপককে চিহ্নিত করেছে। সেই অনুষ্ঠানে আমাদের কোনো প্রতিনিধি যাবেন না।
এদিকে এ ঘটনায় বিজেপি ও সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এছাড়া যারা বয়কটের শিকার হয়েছেন তাদের অনেকেও সামাজিক মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে বেশ কয়েকজন উপস্থাপক ও সিনিয়র সাংবাদিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, ‘ওই ১৪ জন সংবাদ উপস্থাপকের অনুষ্ঠানগুলো দেখলে মনে হয়—তারা ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ নিয়েই কথা বলছেন। এছাড়া বিরোধীদলের প্রতিনিধিদের হেনস্থা করার জন্যই সেখানে ডাকা হয়। তবু এভাবে আনুষ্ঠানিক বয়কট কোনও রাজনৈতিক জোটের অনুচিত।’
বয়কট করা উপস্থাপক সুধীর চৌধুরী তার এক্স (পুরনো টুইটার) লিখেন, ‘ইন্ডিয়া জোটকে যে সাংবাদিক ও উপস্থাপকরা নির্ভয়ে মোকাবিলা করেছেন, যারা পায়ে চুম্বন দিতে অস্বীকার করেছেন, এখন তাদের বয়কট করা হবে। প্রায় অর্ধেক ভারতে এই জোটের সরকার রয়েছে। যখন লোভ, পুরস্কার আর মামলা দিয়েও কাজ হলো না তখন বয়কট। ভারতের সব সংবাদমাধ্যমের সর্বশক্তি দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর জবাব দেওয়া উচিৎ। এটা খুব বিপজ্জনক পরিস্থিতি।’
এর উত্তরে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেন, ওই ১৪ টিভি উপস্থাপক আমাদের বক্তব্যকে বিকৃত করেন। ভুয়া খবর ছড়ান। আমরা এটা সহ্য করতে পারতাম। কিন্তু এতে দেশে সহিংসতার মোড় নিতে পারে।
যাদের বয়কটের সিদ্ধান্ত হয়েছে তারা হলেন- রিপাবলিক টিভির অর্ণব গোস্বামী, টাইমস নাও নবভারতের নাভিকা কুমার, সুশান্ত সিনহা, আজ তকের সুধীর চৌধুরী ও চিত্রা ত্রিপাঠি, নিউজ ১৮ নেটওয়ার্কের আমন চোপড়া, আমিশ দেবগান, আনন্দ নরসিং, ভারত ২৪ এর রুবিকা লিয়াকত, ইন্ডিয়া টুডের গৌরব সাওয়ান্ত ও শিব আরুর, ইন্ডিয়া টিভির প্রাচি পরাশর, ভারত এক্সপ্রেসের অদিতি ত্যাগী ও ডিডি নিউজের অশোক শ্রীবাস্তব। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য হিন্দু
‘ইন্ডিয়া জোট’ যাদের বয়কট করেছে তাদের ‘গোদী মিডিয়া’ বলে চিহ্নিত করেছে বিরোধীদলগুলো। তারা মনে করে ওইসব উপস্থাপকরা ও তাদের চ্যানেলগুলো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমর্থক।
We hate spam as much as you do