Tranding

03:47 AM - 22 Mar 2026

Home / National / পাকিস্তানের সাথে সৌদির প্রতিরক্ষা চুক্তি কি ভারতের বানিজ‍্যিক চুক্তিকে ছাপিয়ে যাবে?

পাকিস্তানের সাথে সৌদির প্রতিরক্ষা চুক্তি কি ভারতের বানিজ‍্যিক চুক্তিকে ছাপিয়ে যাবে?

বুধবার সৌদি আরবে সে দেশের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে দেখা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এরপরেই দুই দেশ ‘কৌশলগত এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এই বিষয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জওসওয়াল বলেন, "বিষয়টিকে (সৌদি-পাক প্রতিরক্ষা চুক্তি) আমরা জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক (এশীয়) ও গ্লোবাল স্বার্থের কথা ভেবেও নজর রাখছি। ভারত সরকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সকল ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

পাকিস্তানের সাথে সৌদির প্রতিরক্ষা চুক্তি কি ভারতের বানিজ‍্যিক চুক্তিকে ছাপিয়ে যাবে?

পাকিস্তানের সাথে সৌদির প্রতিরক্ষা চুক্তি কি ভারতের বানিজ‍্যিক চুক্তিকে ছাপিয়ে যাবে?

Sep 18, 2025 


বুধবার পশ্চিম এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দেশ সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে পাকিস্তান। যার পর দুই দেশের তরফে জানানো হয়, কোনও এক পক্ষের উপর হামলা হলে তা উভয়ের উপর আঘাত হিসাবে ধরা হবে। বলা বাহুল্য, এই চুক্তিতে চাপ বাড়ল নয়াদিল্লির উপর। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে এক বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রক জানাল, পাকিস্তান-সৌদি আরব ঘনিষ্ঠতার উপর নিবিড় নজর রাখছে নয়াদিল্লি। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব রকম পদক্ষেপ করা হবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, 'অপারেশন সিঁদুরে'র পর ভারতের ভয়ে কাঁটা ইসলামাবাদ। কার্যত সৌদিকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে তারা।


বুধবার সৌদি আরবে সে দেশের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে দেখা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এরপরেই দুই দেশ ‘কৌশলগত এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এই বিষয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জওসওয়াল বলেন, "বিষয়টিকে (সৌদি-পাক প্রতিরক্ষা চুক্তি) আমরা জাতীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি আঞ্চলিক (এশীয়) ও গ্লোবাল স্বার্থের কথা ভেবেও নজর রাখছি। ভারত সরকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং সকল ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"


সম্প্রতি দোহায় অনুষ্ঠিত হয় পাকিস্তান, সৌদি আরব-সহ ৪০টি ইসলামিক দেশের এক শীর্ষ সম্মেলন। সেখানেই উভয়পক্ষ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে কাতারে হামাস নেতাদের উপর ইজরায়েলের হামলার পরেই 'ন্যাটো'র মতো জোট গঠনের উপর জোর দিয়েছিলেন ইসলামিক দেশগুলির রাষ্ট্রনেতারা। উল্লেখ্য, পাকিস্তানই একমাত্র ইসলামিক দেশ যাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। যদিও সৌদি আরব-সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের আর্থিক শক্তি ভারতের বিপদ বাড়াতে যথেষ্ট। ফলে সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি দিল্লির জন্য মাথাব্যথার কারণ।  


ভারতের সাথে সম্পর্ক

ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে শতাব্দী প্রাচীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক -সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের একটি মূল দিক। দিল্লি ঘোষণা (২০০৬ সালে মহামান্য বাদশাহ আবদুল্লাহর ভারত সফরের ফাঁকে স্বাক্ষরিত) এবং রিয়াদ ঘোষণা (২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় স্বাক্ষরিত) উভয় দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। রিয়াদ ঘোষণা উভয় পক্ষকে পরিপূরকতা এবং আন্তঃনির্ভরতার উপর ভিত্তি করে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে।   ২০১৬, ২০১৯ এবং ২০২৫ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সৌদি আরব সফর এবং ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী হিজরী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের ভারত রাষ্ট্রীয় সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী হিজরী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জি-২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং ভারত-সৌদি আরব কৌশলগত অংশীদারিত্ব পরিষদের (এসপিসি) প্রথম নেতাদের বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে ভারত সফর করেন। ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী রাষ্ট্রীয় সফরে জেদ্দা সফর করেন এবং উভয় নেতাই এসপিসির দ্বিতীয় বৈঠকে সহ-সভাপতিত্ব করেন। এই সফরগুলিতে প্রযুক্তি, ওষুধ, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য, জ্বালানি এবং সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। উভয় পক্ষের নিয়মিতভাবে বেশ কয়েকটি মন্ত্রী পর্যায়ের সফর হয়েছে। ভারত থেকে রাজ্যে এই ধরনের ভ্রমণের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ পরিশিষ্ট I-তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।  


আজ এদিকে পাকিস্তানের সাথে চুক্তির পর সংবাদ সংস্থা এএফপি জানাচ্ছে, পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তির পর সৌদি আরবের তরফে বিবৃতি বলা হয়েছে, “দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও বৃদ্ধি করা হচ্ছে। যে কোনও ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ ভাবে লড়বে সৌদি আরব এবং পাকিস্তান।” উল্লেখ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে চার দিন ধরে সামরিক সংঘাত চলে। এরপর থেকেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে পাকিস্তান। এই আবহে সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা চুক্তিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do