সাম্প্রতিক সময়ে বেলজিয়ামের ‘স্বর্ণযুগ’ যে কোন টুর্নামেন্টেই ফেভারিটদের তকমা নিয়েই শুরু করে। তবে বারংবার নকআউট পর্বে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তাঁদের। এবারও চিত্রটা একই থাকল কেভিন ডি'ব্রুইন, রোমেলু লুকাকুদের জন্য
EURO 2020: একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করে বেলজিয়াম ইতালি সেমিফাইনালে
ইতালির বিরুদ্ধে ২-১ গোলে পরাজিত হয় বেলজিয়াম।
ফের এক টুর্নামেন্ট, ফের নকআউট পর্বে এক হতাশাজনক পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হল বেলজিয়াম দলকে। ইতালির বিরুদ্ধে ২-১ গোলে পরাজিত হয়েই এবারের ইউরো যাত্রা শেষ হল রেড ডেভিলসদের।
সাম্প্রতিক সময়ে বেলজিয়ামের ‘স্বর্ণযুগ’ যে কোন টুর্নামেন্টেই ফেভারিটদের তকমা নিয়েই শুরু করে। তবে বারংবার নকআউট পর্বে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছে তাঁদের। এবারও চিত্রটা একই থাকল কেভিন ডি'ব্রুইন, রোমেলু লুকাকুদের জন্য। আজুরিদের কাছে পরাজিত হয়ে আবারও হতাশ করল তারকাখচিত ফিফা তালিকায় এক নম্বর দল বেলজিয়াম। ম্যাচ হারের কারণ খুঁজতে গিয়ে বেলজিয়ান তথা রিয়াল মাদ্রিদ তারকা গোলরক্ষক থিবো কর্টোয়া দলের সুযোগ নষ্টের দিকেই ইঙ্গিত করছেন।
আজুরিদের এগিয়ে দিয়েছিলেন বারেলা। খেলার বয়স তখন ৩১ মিনিট। বেলজিয়ামের ডিফেন্সকে সম্মোহীত করে গোল করে যান তিনি। ইটালির দ্বিতীয় গোলটি আসে ইনসিনিয়ের পা থেকে। ওরকম গোল দেখার জন্য হাজার মাইল পথ হাঁটা যায়। তবে দুটো গোলের ক্ষেত্রেই বেলজিয়ামের রক্ষণভাগের দোষ রয়েছে। ইনসিনিয়ে অনেক সময় পেয়ে গিয়েছিলেন। প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে দৌড়ে বেলজিয়ামের বক্সের উপর থেকে ডান পায়ের বাঁক খাওয়ানো শট নেন। কুর্তোয়া শরীর ছুড়ে দিয়েও সেই বল বাঁচাতে পারেনি। গোল করার পরে ইনসিনিয়ে যখন উৎসবে ব্যস্ত অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা লুকাকুর চোখে শূন্যতা। তাঁর সতীর্থরা ইনসিনিয়েকে গোল করার সুযোগ করে দিলেন, সেটাই হয়তো বিশ্বাস করে উঠতে পারছিলেন না লুকাকু।
বেলজিয়াম বিরতির ঠিক আগে ব্যবধান কমায়। পেনাল্টি বক্সের ভিতরে ডোকুকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন ডি’ লোরেঞ্জো। পেনাল্টি দেন রেফারি। সেই পেনাল্টি থেকেই গোল করেন লুকাকু। বিরতির পর বেলজিয়াম সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা করে। একাধিক বার ইটালির রক্ষণে কাঁপুনি ধরান ডি’ব্রুইন-লুকাকুরা। কিন্তু ইটালির ডিফেন্স ভাঙা সম্ভব হয়নি। গোলের দরজাও খুলতে পারেনি বেলজিয়াম
পরাজয়ের পর কর্টোয়া বিবিসিকে সাক্ষাৎকারে জানান, ‘এটা খুবই হতাশাজনক, তবে আমরা সবসময়ই জানতাম লড়াইটা কঠিন হতে চলেছে। আমরা বেশ কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিলাম, তবে ওদের গোলরক্ষক একটা দুর্দান্ত সেভ করে। আমরা খুব সহজেই ওদের প্রথম গোলটা করার সুযোগ করে দিই। ম্যাচের ফলাফল দুদিকেই যেতে পারত, তবে যোগ্য দল হিসাবেই ইতালি ম্যাচ জেতে।’
আর মাত্র বছরখানেকের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে বিশ্বকাপ। তুখর দল নিয়েও বারবার নক আউটের বাধায় আটকে পড়া বেলজিয়ামকে নিজেদের দল এবং ম্যানেজমেন্ট নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার এটাই হয়তো সেরা সুযোগ।
We hate spam as much as you do