বিজেপি নেতৃত্ব হারের যে সব কারণ দলীয় স্তরে উল্লেখ করেছেন তাতে এই প্রকল্পের উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, সেনায় চাকরির জন্য বহু তরুণ স্কুলে পড়ার সময় থেকে দৈহিক ও মানসিক সক্ষমতা অর্জনের প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করে। অগ্নিবীর প্রকল্প তাদের ও পবিরারের কাছে বড় ধাক্কা। পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত শিল্পবিহীন রাজ্যগুলিতে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বেশি।
শরিক ও বিরোধী চাপে অগ্নিবীর প্রকল্পে বহু পরিবর্তন আনছে সরকার
13th June 2024
লোকসভা নির্বাচনের ইস্তাহারে কংগ্রেস -সহ একাধিক বিরোধী দল ঘোষণা করে ক্ষমতায় এলে অগ্নিবীর প্রকল্প বাতিল করে দেবে। বিরোধীরা ক্ষমতায় আসতে পারেনি। কিন্তু অগ্নিবীর প্রকল্প নিয়ে ভুল শোধরানোর পথে হাঁটতে শুরু করল নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন তৃতীয় সরকার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, সেনায় চুক্তিতে নিয়োগের অগ্নিবীর প্রকল্পে একগুচ্ছ পরিবর্তন আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
তারমধ্যে অন্যতম হল, অগ্নিবীর জওয়ানদের বেতন বৃদ্ধি। তাদের প্রশিক্ষণের সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি। চলতি ব্যবস্থায় চার বছর পর এক চতুর্থাংশ অগ্নিবীরকে সেনায় রেখে দিয়ে বাকিদের অবসরে পাঠানো হয়। এই ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হবে। আরও বেশি সেনাকে পাকাপাকিভাবে বাহিনীতে রেখে দেওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে।
সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে সব রাজ্যে না হলেও উত্তর ও মধ্য ভারতের বেশিরভাগ লোকসভা আসনে অগ্নিবীর প্রকল্পকে নিশানা করেছিল বিরোধীরা। কম-বেশি সব দলই জানিয়েছিল, এই প্রকল্প দীর্ঘ মেয়াদে সেনা বাহিনীর ক্ষতির কারণ হবে। তাছাড়া, স্বল্প মেয়াদের চুক্তির চাকরি নিয়ে অনেকেই বিরক্ত। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, পাঞ্জাব, জম্মু-কাশ্মীর, হরিয়ানা, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, বিহার, ছত্তীসগড়, মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্য থেকে প্রতি বছর বহু তরুণ সেনায় যোগ দেয়। তাদের কাছে অগ্নিবীর প্রকল্প বড় ধাক্কা।
বিজেপি নেতৃত্ব হারের যে সব কারণ দলীয় স্তরে উল্লেখ করেছেন তাতে এই প্রকল্পের উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, সেনায় চাকরির জন্য বহু তরুণ স্কুলে পড়ার সময় থেকে দৈহিক ও মানসিক সক্ষমতা অর্জনের প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করে। অগ্নিবীর প্রকল্প তাদের ও পবিরারের কাছে বড় ধাক্কা। পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত শিল্পবিহীন রাজ্যগুলিতে এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ বেশি।
অসন্তোষের ক্ষতে মলম দিতে লোকসভা ভোটের আগেই একটি কমিটি তৈরি করেছিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারও এই প্রকল্প নিয়ে জন-অসন্তোষের কথা কেন্দ্রকে জানিয়েছিল। লোকসভার ভোট মিটতেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার তাঁর দলকে দিয়ে দাবি তোলেন অগ্নিবীর প্রকল্প বদলাতে হবে। প্রকল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় করতে হবে অথবা তুলে দেওয়া দরকার। কংগ্রেসের ইস্তাহারে দ্বিতীয় প্রস্তাবটির কথা বলা আছে। ভোট মিটতে দেখা যাচ্ছে মোদী সরকার বিরোধীদের তোলা অভিযোগ, প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে অগ্নিবীর প্রকল্প শোধরাতে উদ্যোগী হয়েছে।
সরকারি সূত্রের খবর, বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্ট কিছুদিনের মধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক হয়ে প্রতিরক্ষা বিষয়ক সর্বোচ্চ কমিটির কাছে পেশ করা হবে। ওই কমিটির প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাৎপর্যপূর্ণ হল, মোদী জমানায় সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী সূচনা, শিলান্যাস, উদ্বোধন করলেও অগ্নিবীর প্রকল্প ছিল ব্যতিক্রম। তিন বছর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রকল্পটি ঘোষণার পর সারা দেশে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল।
We hate spam as much as you do