দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্দেশিকা প্রসঙ্গে ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (SFI) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে অবিলম্বে এই নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে এসএফআই জানিয়েছে, “গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর দমন করা এই ধরনের ঘটনার সমাধান নয়। ভিন্নমত পোষণ এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডের অন্তর্নিহিত এবং সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত। সমাবেশ এবং বিক্ষোভের উপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশের সাথে তাল মিলিয়ে, এই ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার অজুহাত হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে বলে মনে হয়।”
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ নিষিদ্ধ প্রতিবাদে SFI, AISA
18 Feb 2026,
আগামী ১ মাসের জন্য দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যে কোনও ধরণের বিক্ষোভ, প্রতিবাদ নিষিদ্ধ করা হল। মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি এক নির্দেশিকায় এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়েছে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি বিধি নিয়ে প্রতিবাদ চলাকালীন জনৈক ইউটিউবারের সঙ্গে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন-এর (AISA) বিতণ্ডা এবং তার প্রেক্ষিতে দুই পাল্টা এফআইআর-এর পর এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
দিল্লি ইউনিভার্সিটির প্রোক্টর-এর সই করা ওই চিঠিতে জানানো হয়েছে, আগামী এক মাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যে কোনও সভা, মিছিল, সমাবেশ, প্রতিবাদ জাতীয় যে কোনও ধরণের কর্মসূচী নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ক্যাম্পাসে অনিয়ন্ত্রিত জনসমাবেশ, মিছিল বা বিক্ষোভের ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন, জনজীবনের জন্য হুমকি এবং জনসাধারণের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতেই এই আদেশ জারি করা হল। অতীতে, আয়োজকরা প্রায়শই এই ধরনের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে।”
নির্দেশিকাতে বলা হয়েছে, “পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, স্লোগান, বক্তৃতা দেওয়া, মশাল সহ যেকোনো বিপজ্জনক উপকরণ বহন করা নিষিদ্ধ।” নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, “নিষেধাজ্ঞাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে এবং এক মাস পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে।”
প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই আইসা অনুষ্ঠিত এক সভায় ভাষণ দেবার সময় ইতিহাসবিদ সৈয়দ ইরফান হাবিবের ওপর এবিভিপি-র কিছু সদস্য হামলা চালায় বলে অভিযোগ। যদিও এবিভিপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এই ঘটনার পর ১৩ ফেব্রুয়ারি আইসা-র পক্ষ থেকে এক ‘অধিকার যাত্রা’র ডাক দেওয়া হয়। ইউজিসি-র সাম্প্রতিক সমতা বিধি-র পক্ষে আয়োজিত এই অধিকার যাত্রা ঘিরেই এক ইউটিবারের সঙ্গে আইসা-র সমর্থকদের ধস্তাধস্তি হয়। ওই ইউটিউবার একই সময় ইউজিসি সমতা বিধির বিরোধিতা করছিলেন। এই এক দলিত সাংবাদিক ওই ইউটিউবারের হাতে হেনস্থা হন। যে ঘটনায় দিল্লি ইউনিভার্সিটির আইসা সাধারণ সম্পাদক অঞ্জলি শর্মা হস্তক্ষেপ করলে ওই ইউটিউবার তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন এবং পালাতে যান। এরপর আইসার সমর্থকরা ওই ইউটিউবারকে ধরে ফেলেন এবং স্থানীয় থানায় নিয়ে যান।
এই ঘটনার পরেই মরিস নগর পুলিশ থানার সামনে দক্ষিণপন্থী ওই ইউটিউবারের সমর্থনে বেশ কিছু ইউটিউবার জড়ো হন এবং তারা ‘ব্রাহ্মণ্যবাদ জিন্দাবাদ’ শ্লোগান দিতে থাকেন এবং আইসার সদস্যদের উদ্দেশ্যেও তারা আক্রমণাত্মক মন্তব্য রাখেন। এই ঘটনার জেরে ১৪ ফেব্রুয়ারি থানায় দুটি অভিযোগ দায়ের হয়। যার একটি করে আইসা এবং অপরটি করে ইউটিউবার রুচি তিওয়ারী।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নির্দেশিকা প্রসঙ্গে ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের (SFI) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে অবিলম্বে এই নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। ওই বিবৃতিতে এসএফআই জানিয়েছে, “গণতান্ত্রিক কণ্ঠস্বর দমন করা এই ধরনের ঘটনার সমাধান নয়। ভিন্নমত পোষণ এবং শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ডের অন্তর্নিহিত এবং সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত। সমাবেশ এবং বিক্ষোভের উপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশের সাথে তাল মিলিয়ে, এই ঘটনাকে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার অজুহাত হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে বলে মনে হয়।”
We hate spam as much as you do