এদিন তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং শশী পাঁজার উপস্থিতিতে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। নির্বাচনের ঠিক আগে পাহাড়ে বিজেপির এই ভাঙন গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বঙ্গভঙ্গের দাবী করা BJP mla বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা তৃণমূলে যুক্ত হলেন
19 Feb 2026
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড়। দীর্ঘদিনের মান-অভিমান আর বিদ্রোহের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) ত্যাগ করলেন কার্শিয়াঙের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বৃহস্পতিবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যের শাসক শিবিরে নাম লেখালেন তিনি।
এদিন তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং শশী পাঁজার উপস্থিতিতে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। নির্বাচনের ঠিক আগে পাহাড়ে বিজেপির এই ভাঙন গেরুয়া শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাঁর মুখে রবার তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে বাংলা ভাগের কথা। তিনি বিশ্বাস করতেন, পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য উত্তরবঙ্গকে আলাদা করা প্রয়োজন। দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বারবার বেসুরো মন্তব্য করেছেন তিনি, যা নিয়ে বিজেপি বিড়ম্বনায় পড়েছিল।
এবার ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মাকে সামনে রেখে পাহাড়ের মাটিতে সংগঠন মজবুত করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। এতদিন পাহাড়ে তৃণমূলের জমি সেভাবে শক্ত ছিল না। কিন্তু বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার মতো প্রভাবশালী নেতা দলে আসায় দার্জিলিং ও কার্শিয়াং এলাকায় ঘাসফুল শিবিরের পাল্লা ভারী হতে পারে।
বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মার এই ভোলবদল পাহাড়ের সাধারণ মানুষের মনে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যেমন তৃণমূল একে বড় জয় হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বিজেপি একে 'সুবিধাবাদী রাজনীতি' বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না।
পাহাড়বাসী আগামী নির্বাচনে এই পরিবর্তনকে কীভাবে গ্রহণ করেন এবং তৃণমূলকে ঢালাও সমর্থন উজাড় করে দেন কি না, এখন সেটাই দেখার।
We hate spam as much as you do