দেবাঙ্গনা কালিতা , নাতাশা নারওয়াল আর আসিফ ইকবাল তানহা দিল্লী হিংসার অভিযোগ থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পরের দিনই অর্থাত্ আজ দিল্লী পুলিশ হাইকোর্টের জামিন আদেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করল।
নাতাশা, দেবাঙ্গনা, আসিফের জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি পুলিশ
দেবাঙ্গনা কালিতা , নাতাশা নারওয়াল আর আসিফ ইকবাল তানহা দিল্লী হিংসার অভিযোগ থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পরের দিনই অর্থাত্ আজ দিল্লী পুলিশ হাইকোর্টের জামিন আদেশ চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করল।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তারা ইউএপিএ তে অভিযুক্তদের সম্পর্কে দিল্লি হাইকোর্টের ব্যাখায় সন্তুষ্ট নন । তারা সুপ্রিম কোর্টে একটি special leave petition এর আবেদন করতে যাচ্ছেন ।
পুলিশের পক্ষ থেকে আজ বলা হয় হাইকোর্ট ভালো করে চার্জশিটের দেওয়া অভিযোগগুলোর দিকে লক্ষ করেন নি। কারন এদের বিরুদ্ধে স্যোসাল মিডিয়া পোষ্ট, হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ যথেষ্ট প্রমান।
গত বছর সিএএ-এনআরসি ইস্যুতে যখন উত্তাল গোটা দেশ তখন গতবছর মে মাসে ইউএপিএ-র জালে আটকা পড়েন ছাত্র সংগঠনের কর্মী দেবাঙ্গনা কলিতা,নাতাশা নারওয়াল ও আসিফ ইকবাল তানহা। মঙ্গলবার এই তিনজনেরই জামিন দেয় দিল্লি হাইকোর্ট।
পিঁজরা তোড় সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত দেবাঙ্গনা কালিতা, নাতাশা নারওয়াল। অন্যদিকে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া আসিফ ইকবাল তানহা। তাদের প্রত্যেকেই দিল্লি হিংসায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। সূত্রের খবর, বর্তমানে তিন জনকেই ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিন দেন বিচারপতি সিদ্ধার্থ মৃদুল এবং অনুপ জয়রাম ভাম্ভানির বেঞ্চ। এমনকী তাদের উপর চাপানো ইউএপিএ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দুই বিচারক।
এদিকে সিএএ-এনআরসি আন্দোলনের রেশ ধরে গত বছর দফায় দফায় আগুন জ্বলে রাজধানী দিল্লিতে। সাম্প্রদায়িক হিংসার বলি হন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ। আর তারপরই হিংসায় মদতের অভিযোগ এনে একের পর এক ছাত্র নেতাদের গরাদের পিছনে পাঠাতে থাকে কেন্দ্র। যা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে গোটা দেশজুড়ে। সোশ্যাল মিডিয়াও সরব হন নেটিজেনরা। অবশেষে তিন সমাজকর্মীর জামিনে স্বস্তি প্রকাশ করেন সহযোদ্ধারা।
হাইকোর্ট মঙ্গলবার সাফ জানিয়েছে, সরকারের বোঝা উচিত প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ এক বিষয় নয়। দু' টি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। তার পরেও প্রতিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ গুলিয়ে ফেললে সেটা গণতন্ত্রের জন্য দুঃখের হবে। বলা হয়েছে, আইন ভেঙে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ সমাবেশ করার জন্য মামলা হতে পারে। কিন্তু, অহেতুক ইউএপিএ আইন প্রয়োগ ঠিক নয়। কিন্তু মামলা সুপ্রিম কোর্টে যাবে এমনই আন্দাজ করা যাচ্ছিল।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরেই দিল্লি হিংসা নিয়ে ১৭ হাজার ৫০০ পাতার চার্জশিট জমা দেয় দিল্লি পুলিশ। যাতে এই তিনজন ছাড়াও নাম ছিল আরও ১৫ অভিযুক্তের। ওই চার্জশিটেই ২৬০০ পাতাজুড়ে শুধু তাদের অপরাধের বর্ণনা দেওয়া হয় বলেও জানান যায়। যদিও চার্জশিট প্রকাশের পরেই তা নিয়ে বাড়তে থাকে চাপানউতোর । অনেকেই বলেন আইনের পক্ষ নেওয়া সত্ত্বেও একাধিক দেশবিরোধী কাজের অভিযোগ তোলা হয়েছে যা সংবিধান বিরোধী।
দিল্লি পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন
এমনকী দিল্লির বিভিন্ন কলেজের পড়ুয়াকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে দিল্লি পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এমনকী দিল্লি হিংসার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত থাকা প্রমাণ ছড়াই অনেককে গ্রেফতারের অভিযোগে উত্তাল হয় রাজধানীর রাজ্য-রাজনীতি। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার আসিফ ইকবাল তানহা ছাড়াও পুলিশের নজরে পড়েন শিফা উর রহমান, মীরন হায়দরেরাও।
২০১৪ সালের পর মোদী জমানার শুরু থেকেই যেন গোটা এক ধাক্কায় রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়তে থাকে। খ্যাতানামা লেখক থেকে সাধারণ ছাত্র, দেশবিরোধী কাজের অভিযোগে গরাদের পিছনে চলে যান অনেকেই।
ইউএপিএর প্রয়োগ নিয়ে গোটা ভারতবর্ষ জুড়ে মুলত বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই বিতর্ক । জাতীয়তাবাদের উগ্রতা দেশদ্রোহের নামে উন্মত্ততা একটা অভ্যেস হয়ে দাঁড়িয়েছে । এক একটা সময় মনে হয়েছে বর্তমান কেন্দ্রীয় শাসক দল ছাড়া আর বাকি সবাই দেশদ্রোহী । প্রতিবাদ করলেই ইউএপিএ। যদিও অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে দেশের মানুষ শেষ তিনটে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। কর্নাটকে মিউনিসিপ্যাল ভোটে ব্যাপক ধস। উত্তর প্রদেশের পঞ্চায়েত নির্বাচনে যোগীর গ্রহনযোগ্যতা তলানিতে। এরই মধ্যে দিল্লীর হিংসা ছড়িয়েছে। আর পুলিশ কিছু ছাত্রের বিরুদ্ধে ইউএপিএ এর মত গনতন্ত্র বিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । এখন শেষ পর্যন্ত দেশবাসী মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে আছে।
We hate spam as much as you do