Tranding

12:11 PM - 04 Feb 2026

Home / World / পাকিস্তানে ইমরানের দল জয়ী হয়েও ক্ষমতার জন‍্য ডাক নেই। এরা আদালতে

পাকিস্তানে ইমরানের দল জয়ী হয়েও ক্ষমতার জন‍্য ডাক নেই। এরা আদালতে

এখন পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে পিটিআই এগিয়ে থাকলেও এই মূহুর্তে প্রশ্ন হল, কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করায়, জোট সরকারের রুপরেখা কেমন হতে পারে? এরইমধ্যে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছে পিএমএলএন এবং পিপিপি। সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ এন (পিএমএলএন) এর নেতা মারিয়াম আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন যে, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) পাকিস্তান আজ তাদের নেতা নওয়াজ শরীফের সাথে বৈঠক করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগের প্রধান সমন্বয়ক মারিয়াম নওয়াজ শরীফও এতে উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানে ইমরানের দল জয়ী হয়েও ক্ষমতার জন‍্য ডাক নেই। এরা আদালতে

পাকিস্তানে ইমরানের দল জয়ী হয়েও ক্ষমতার জন‍্য ডাক নেই। এরা আদালতে

 ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪


জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করেছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। ২৬৪ আসনের ঘোষিত ফলাফলে স্বতন্ত্ররা ১০১টিতে জয় নিয়ে এগিয়ে আছেন। যাদের প্রায় সবাই ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত।
ডন বলছে, ৭৫ ও ৫৪ আসন নিয়ে নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) ও বিলওয়াল ভুট্টোর দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) নির্বাচনে পিছিয়ে থাকলেও জোট বেঁধে সরকার গঠনের দৌড়ে এগিয়ে আছে। ক্ষমতা ভাগাভাগির আলোচনায় এখন পর্যন্ত নেই কারাবন্দি ইমরানের দল পিটিআই। তারা ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। ইতোমধ্যে পাঞ্জাবের চকওয়ালের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করায় পিটিআই সমর্থিত দুই প্রার্থী ও তাদের ৩০০ সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় সন্ত্রাস ও লাউড স্পিকার নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে জিও নিউজ।

এদিকে, সমগ্র পাঞ্জাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করেছে পিটিআই। দলটির নেতা হাম্মাদ আজহার জানান, আজ (রোববার) কেবল রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাইরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হবে। এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সমগ্র পাঞ্জাব থেকে সন্দেহজনক বার্তা আসছে।’ সমর্থকদের ভাঙচুর কিংবা অগ্নিসংযোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। সরকার গঠন করতে হলে ১৩৪টি আসন থাকতে হবে। এর মধ্যেই মুসলিম লিগ-এন এবং পিপলস পার্টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। তবে সংখ্যারগরিষ্ঠতা পেতে হলে তাদের আরও অন্তত পাঁচজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য অথবা অন্তত পাঁচজন নির্বাচিত এমপি রয়েছে, এমন দলের সমর্থন দরকার হবে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশে বেশ বিলম্ব হওয়ায় ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে নানান সন্দেহ দানা বাঁধতে থাকে। যা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শঙ্কা প্রকাশ করে আসছে।


বালুচিস্তানের সাতটি আসনের ফলাফল ঘোষণা এখনো বাকি আছে। পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর খান অভিযোগ করেছেন তাদের জয় পাওয়া ২২টি আসনের ফলাফল উল্টে দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি ইসলামাবাদে, চারটি সিন্ধু এবং বাকিগুলো পাঞ্জাব প্রদেশে। যার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে এবং নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নিচ্ছে পিটিআইয়ের কর্মীরা। পিটিআই মিডিয়া সেলের এক প্রতিনিধি বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইসলামাবাদসহ দেশের বিভিন্ন শহরে তাদের অফিসের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। পিটিআইয়ের অভিযোগ তাদের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ফলাফল ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বদলে দেয়া হয়েছে, তাদের জয়কে পরাজয়ে রুপান্তর করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফলে পিটিআই এগিয়ে থাকলেও এই মূহুর্তে প্রশ্ন হল, কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করায়, জোট সরকারের রুপরেখা কেমন হতে পারে? এরইমধ্যে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছে পিএমএলএন এবং পিপিপি। সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগ এন (পিএমএলএন) এর নেতা মারিয়াম আওরঙ্গজেব জানিয়েছেন যে, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম) পাকিস্তান আজ তাদের নেতা নওয়াজ শরীফের সাথে বৈঠক করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং পাকিস্তান মুসলিম লিগের প্রধান সমন্বয়ক মারিয়াম নওয়াজ শরীফও এতে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি আধাঘন্টারও বেশী সময় ধরে চলে। বিভিন্ন সূত্র বলছে এই বৈঠকে নতুন সরকার কেমন হবে ও ভবিষ্যত রাজনৈতিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়। এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলে জানা যাচ্ছে যে পিএমএলএন ৭৫টি আসনে জিতে ২য় অবস্থানে রয়েছে, আর এমকিউএম জিতেছে ১৭টি আসন।


পিএমএলএন নেতা নওয়াজ শরীফ নির্বাচনে নিজেদের বিজয় ঘোষণা করে তার ছোটভাই শাহবাজ শরীফকে পাকিস্তান পিপলস পার্টি-পিপিপি, মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট-এমকিউএম, জামিয়াত উলামা-এ-ইসলাম এবং অন্যান্য দলের সাথে জোট বোঝাপড়া করে সরকার গঠনের নির্দেশনা দিয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গওহর খান দাবি করেছেন জাতীয় পরিষদের বেশিরভাগ আসন তারা জিতেছেন এবং ঘোষণা দেন তার দল কেন্দ্র, খাইবার পাখতুন ও পাঞ্জাবে সরকার গঠন করবে।

তবে পিটিআই ইঙ্গিত দিয়েছে তাদের বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটা ছোট রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে পারে যাতে সংসদের সংরক্ষিত আসনগুলো পাওয়া যায় এবং সরকার গঠন করা যায়। ২০২২ সালে পিটিআই ক্ষমতাচ্যুত হলে নওয়াজ শরীফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ, পিপিপি, এমকিউএম, জামিয়াত উলামা-এ-ইসলাম এবং অন্যান্য দল মিলে প্রায় দেড় বছর সরকারে ছিল। তবে নির্বাচনি প্রচরাণার সময় এই দলগুলোকে একে অপরের বিপক্ষে সমালোচনা করতে দেখা যায়।


এমনিতে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের মোট আসনসংখ্যা ৩৩৬টি। তার মধ্যে ২৬৬ আসন হলো সাধারণ আসন, যেগুলোতে সরাসরি ভোট হয়। বাকি ৭০টি আসন সংরক্ষিত। সেগুলোর ৬০টি নারীদের ও ১০টি অমুসলিমদের। পাকিস্তানে সরকার গঠন করার জন্য কোনও দলকে ন্যূনতম ১৩৪টি আসনে জয়লাভ করতে হবে। কিন্তু প্রাথমিক ফলাফল বলছে কেউই সরকার গঠনের জন্য এককভাবে প্রয়োজনীয় সংগরিষ্ঠতা পায় নি। লাহোর ভিত্তিক সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আজমল জামি বিবিসিকে বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি নতুন সরকার গঠনে এখন একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। বল এখন তার কোর্টেই, আর তিনি তার ছেলে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারিকে প্রধানমন্ত্রীত্ব গ্রহণের জন্য আহবান জানাতে পারেন। তবে কোন বিশ্লেষকই আশ্বস্ত হতে পারছেন না যে সহসাই পাকিস্তানে কোন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসতে যাচ্ছে।

‘কারচুপি’র অভিযোগে আদালতে পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীদের ঢল : ‘কারচুপি’র মাধ্যমে জনগণের রায় উপেক্ষা করে বিপক্ষের প্রার্থীদের জিতিয়ে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার অস্থায়ী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে শনিবার পাকিস্তানের আদালতগুলোতে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে ভিড় করেন ‘হেরে’ যাওয়া সতন্ত্র প্রার্থীরা।

এ ধরনের চ্যালেঞ্জ দাখিলকারীদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্ররা, যার মধ্যে হাই-প্রোফাইল রাজনীতিবিদ যেমন পারভেজ এলাহী এবং তার স্ত্রী কায়সার, খাইবার পাখতুনখোয়ার সাবেক অর্থমন্ত্রী তৈমুর ঘাগরা এবং সাবেক স্পিকার মাহমুদ জান, ইসলামাবাদ-ভিত্তিক আইনজীবী শুয়াইব শাহীন, পাঞ্জাবের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ ইয়াসমিন রশিদ, সেইসাথে উসমান দার মা রেহানা দার। পাকিস্তান মুসলিম লীগ নেতা নওয়াজ শরিফ কারচুপি করে নির্বাচনে জিতেছেন- এমন অভিযোগ করে শনিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ইমরান খানের দল পিটিআই। এ ছাড়া নওয়াজের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ করেছেন ইমরান সমর্থকরা।

নওয়াজের আসনে তার বিরুদ্ধে নির্বাচন করা পিটিআইয়ের কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আদালতে আবেদন করেছেন। তাদের দাবি, ফরম-৪৫ এর ফলাফল অনুযায়ী, নওয়াজ শরিফ হেরেছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা ফরম-৪৭ এ তাকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা লাহোর হাইকোর্টে অভিযোগ দায়ের করেন। ফরম-৪৫ হল পাকিস্তানের প্রত্যেকটি ভোটকেন্দ্রের আলাদা ফলাফল। ফরম-৪৫ এর ফল সব কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করার পর ফরম-৪৭ এর মাধ্যমে একটি আসনের পূর্ণ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

৭৪ বছর বয়সী নওয়াজ শরিফ জাতীয় পরিষদের ১৩০ নম্বর আসন থেকে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, এক লাখ ৭২ হাজার ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। সেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পিটিআইয়ের ইয়াসমিন রশিদ এক লাখ ৩০ হাজার ভোট পেয়েছেন। তবে প্রাথমিক ফলাফলে ইয়াসমিন রশিদ এগিয়ে ছিলেন। নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে নির্বাচন করা ইয়াসমিন রশিদ আদালতে অভিযোগ করে বলেছেন, অন্যায়ভাবে নির্বাচন কমিশন নওয়াজকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে।

অপরদিকে, মরিয়ম নওয়াজ জয় পেয়েছেন জাতীয় পরিষদের ১১৯ নম্বর আসন থেকে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, তিনি ৮৩ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক শাহজাদ ভোট পেয়েছেন ৬৮ হাজারের বেশি। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ঠিক একই অভিযোগ করেছেন মরিয়ম নওয়াজের বিরুদ্ধে নির্বাচন করা ফারুক শাহজাদও। এ ছাড়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মোহাম্মদ কোরেশির মেয়েও তার পরাজয়ের বিরুদ্ধে আদালতের দারস্থ হয়েছেন।

১৩ মামলায় জামিন ইমরান খান ও কুরেশির : নির্বাচন হয়ে যাওয়ার দু’দিন পরে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে গত বছর ৯ মে দাঙ্গার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৩ মামলায় জামিন দিয়েছে রাওয়ালপিন্ডির সন্ত্রাস বিরোধী আদালত। একই সঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিটিআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা শাহ মেহমুদ কুরেশিকে জামিন দিয়েছে ১৩ মামলায়। ইমরান খানকে সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে এবং সেনা মিউজিয়ামে হামলার মামলায় জামিন দিয়েছে আদালত। সঙ্গে সঙ্গে ১২টি মামলায় তাকে এক লাখ রুপির বন্ড দিতে বলা হয়েছে।

সন্ত্রাস বিরোধী বিচারক মালিক এজাজ আসিফ জামিন আবেদনের শুনানি করেন। আদালত তার রায়ে বলেছেন, পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতাকে গ্রেপ্তার করে রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ৯ মে’র ওই মামলায় সবাই জামিনে আছেন। এ মামলায় ইমরান খান ও কুরেশিকে অভিযুক্ত করা হয় ৬ ফেব্রুয়ারি। শনিবার জামিন আবেদনের সময় তাদেরকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় ইমরান খান বিচারকের কাছে বলেন, ৯ মে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট থেকে তাকে বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৯ মে’র সহিংসতায় বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে ইমরান খানের বিরুদ্ধে। তাকে জামিন দেয়ার নির্দেশ দিলেও তিনি এখনই জামিনে বের হতে পারবেন কিনা তা পরিষ্কার নয়। সূত্র : ডন, জিও নিউজ, বিবিসি।

Your Opinion

We hate spam as much as you do