তিনি বলেন, 'আজকাল IPL-এর ম্যাচ চলছে। ম্যাচ ফিক্সিং শব্দটা শুনেছেন তো! অন্য়ায় ভাবে যখন আম্পায়ারের উপর চাপ সৃষ্টি করে, খেলোয়াড় কিনে নিয়ে, অধিনায়ককে ভয় দেখিয়ে ম্যাচ জেতা হয়, তাকে ক্রিকেটের ভাষায় ম্যাচ ফিক্সিং বলা হয়। লোকসভা নির্বাচনের আগেও তাই হচ্ছে। আম্পায়ারও উনিই চয়ন করেছেন। ম্যাচ শুরুর আগে আমাদের দলের দুই খেলোয়াড়কে গ্রেফতার করে জেলে পুরে দেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী ম্যাচ ফিক্সিং-এর চেষ্টা করছেন।
'১৮০ আসনও পাবে না BJP', ইন্ডিয়া সমাবেশে চ্যালেঞ্জ রাহুলের
31 Mar 2024
দিল্লির মেগা জোটের মঞ্চে একজোট ইন্ডিয়া জোটের হেভিওয়েটরা। একে একে মঞ্চে বক্তব্য রাখেন সীতারাম ইয়েচুরি, উদ্ধব ঠাকরে, শরদ পাওয়ার, তেজস্বী যাদব, ডেরেক ও'ব্রায়েনরা। সবশেষে বক্তব্য রাখতে উঠে BJP-কে ওপেন চ্যালেঞ্জ জানালেন রাহুল গান্ধী। ১৮০টি আসনও পাবেন না BJP। মন্তব্য কংগ্রেস সাংসদের।
আসন সমঝোতা নিয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার সমস্যা আছে একাধিক রাজ্যে। কিন্তু, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির প্রতিবাদে ডাকা রামলীলা ময়দানের সমাবেশ সাক্ষী থাকল অন্য চিত্রের। আবারও একছাতার নীচে দেখা গেল বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটকে। কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির প্রতিবাদে জোটের শরিক সবদলেরই হেভিওয়েট নেতাদের দেখা গেল একমঞ্চে। কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির প্রতিবাদে রামলীলা ময়দানের এই সমাবেশকে 'গণতন্ত্র বাঁচাও' নাম দিয়েছে ইন্ডিয়া শিবির।
এই মেগা মঞ্চে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। ৪০০ আসন জয়ের যে লক্ষ্য নিয়েছে BJP সেটি নিয়েও কটাক্ষ করলেন তিনি। রবিবার বক্তৃতা করতে গিয়ে BJP-র বিরুদ্ধে 'ম্যাচ ফিক্সিং'-এর অভিযোগ তোলেন রাহুল। তিনি বলেন, 'আজকাল IPL-এর ম্যাচ চলছে। ম্যাচ ফিক্সিং শব্দটা শুনেছেন তো! অন্য়ায় ভাবে যখন আম্পায়ারের উপর চাপ সৃষ্টি করে, খেলোয়াড় কিনে নিয়ে, অধিনায়ককে ভয় দেখিয়ে ম্যাচ জেতা হয়, তাকে ক্রিকেটের ভাষায় ম্যাচ ফিক্সিং বলা হয়। লোকসভা নির্বাচনের আগেও তাই হচ্ছে। আম্পায়ারও উনিই চয়ন করেছেন। ম্যাচ শুরুর আগে আমাদের দলের দুই খেলোয়াড়কে গ্রেফতার করে জেলে পুরে দেওয়া হয়েছে। এই নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদী ম্যাচ ফিক্সিং-এর চেষ্টা করছেন।' রাহুলের সংযোজন, 'এই যে ৪০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন, ইভিএম, ম্যাচ ফিক্সিং, সোশ্যাল মিডিয়া না থাকলে এরা ১৮০ আসনও পাবে না।'
অন্যদিকে, নির্বাচনের মুখে কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্য়াকউন্ট থেকে লেনদেন বন্ধ করা নিয়ে এদিন আবারও সরব হন রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, 'কংগ্রেস দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল। নির্বাচনের মধ্যে দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দলের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের প্রচার চালাতে হবে। মানুষকে পাঠাতে হবে এদিক ওদিক। পোস্টার লাগাতে হবে। তার জন্য টাকা যেখান থেকে খরচ হবে, সেই অ্যাকাউন্টই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ কেমন নির্বাচন? নেতাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জেলে ঢোকানো হচ্ছে, টাকা ফেলে সরকার ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।' এদিন রাহুল বলেন, 'পুলিশ, CBI, ED, আয়কর দিয়ে দেশ চালাতে চাইছে ওরা। সংবাদমাধ্যমকেও কিনে নিতে পারে, চাপসৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু, ভারতের কণ্ঠস্বর রোধ করা যাবে না।'
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের স্ত্রী সুনিতা কেজরিওয়াল বলেন, ‘‘আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসিনি, এসেছি দেশকে বাঁচানোর আবেদন নিয়ে।’’
এরপরই সুনিতার মুখে শোনা যায় ছয় প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেন, ইন্ডিয়া সরকার ক্ষমতায় এলে দেশের কোন প্রান্তে লোডশেডিং হবে না। গরীব প্রান্তিক মানুষকে বিনামূল্য বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। প্রতিটা গ্রামে উন্নতমানের সরকারি স্কুল, মহল্লা ক্লিনিক এবং জেলা গুলোয় মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরি করা হবে। প্রতি কৃষককে ফসলের ন্যায্য দাম এবং এমএসপি ধার্য করা হবে। সুনিতার কথায় নতুন সরকার তৈরি হলে দিল্লিকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হবে।
ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে পাঁচটি দাবি তুলে ধরলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী।
সুষম প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
ED-CBI-এর পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত বন্ধ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
অবিলম্বে হেমন্ত সোরেন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে মুক্তি দিতে হবে।
নির্বাচনের সময় বিরোধী দলগুলিকে আর্থিকভাবে পঙ্গু করার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে তোলা BJP-র অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে একটি সিট গঠন করতে হবে।
We hate spam as much as you do