Tranding

07:48 PM - 22 Mar 2026

Home / National / SIR এ আবার নতুন ফতোয়া, নথি হিসাবে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড চলবে না, বিপদে সাধারন নতুন ভোটার

SIR এ আবার নতুন ফতোয়া, নথি হিসাবে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড চলবে না, বিপদে সাধারন নতুন ভোটার

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রথমবার ভোটার হতে চাওয়া (First-time Voters) পড়ুয়াদের মধ্যে একটি বড় অংশ সমস্যায় পড়তে পারেন। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই স্কুল থেকে প্রাপ্ত অ্যাডমিট কার্ডকেই তাঁরা তাঁদের প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করেন। এখন সেই বিকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবেদন বাতিলের হার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

SIR এ আবার নতুন ফতোয়া, নথি হিসাবে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড চলবে না, বিপদে সাধারন নতুন ভোটার

SIR এ আবার নতুন ফতোয়া, নথি হিসাবে মাধ্যমিক অ্যাডমিট কার্ড চলবে না, বিপদে সাধারন নতুন ভোটার

১৫ জানুয়ারি ২০২৬ 


পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এর বৈধ নথি হিসাবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ করা হবে না। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়ালকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।


এসআইআর-এর জন্য আগেই ১৩টি নথির কথা উল্লেখ করেছিল কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের বৈঠকে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে গ্রহণ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তার পরে সিইও দফতর থেকে এই মর্মে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে প্রস্তাব পাঠানো হয়। কিন্তু মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে বৈধ নথি হিসাবে গ্রাহ্য করার প্রস্তাব খারিজ করে দিল কমিশন।

এসআইআর-এর জন্য কমিশন যে ১৩টি নথির কথা বলেছে, সেগুলি হল ১) কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্র, পেনশন পেমেন্ট অর্ডার ২) ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগের নথি ৩) জন্মের শংসাপত্র ৪) পাসপোর্ট ৫) শিক্ষাগত শংসাপত্র ৬) ডোমিসাইল শংসাপত্র ৭) বনাধিকার শংসাপত্র ৮) জাতিগত শংসাপত্র ৯) জাতীয় নাগরিক পঞ্জিতে নাম ১০) বংশলতিকার শংসাপত্র ১১) সরকারের দেওয়া জমির নথি ১২) আধার কার্ড ১৩) বিহারের এসআইআর নথি।


নো-ম্যাপিং এবং এনুমারেশন ফর্মে তথ্যগত অসঙ্গতির জন্য খসড়া ভোটার তালিকায় নাম থাকা ভোটারদের একাংশকে শুনানির জন্য ডাকছে কমিশন। শুনানিতে কমিশনি নির্ধারিত নথির মধ্যে যে কোনও একটি দেখাতে হবে সংশ্লিষ্ট ভোটারকে। তার পর সেই নথি খতিয়ে দেখবে কমিশন।

ভোগান্তির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনিক মহল


প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই অনমনীয় সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বা নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে জন্ম শংসাপত্রের পর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ এবং সহজলভ্য বয়সের প্রমাণপত্র হলো মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভোটার কার্ড তৈরি বা সংশোধনের ক্ষেত্রে এই নথিটিই বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

 

এখন থেকে নতুন ভোটার হতে চাওয়া তরুণ-তরুণীদের ক্ষেত্রে আধার কার্ড, ডিজিটাল জন্ম শংসাপত্র বা পাসপোর্টের মতো নথির ওপরই সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হবে। যাঁদের কাছে এই ডিজিটাল নথিগুলি নেই বা যে নথিতে ত্রুটি আছে, তাঁদের জন্য ভোটার তালিকায় নাম তোলা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।


কেন এই কঠোর অবস্থান কমিশনের?


নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে সারা দেশে একটি অভিন্ন ও কঠোর নিয়ম বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

এসআইআর (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে বা শিবিরের মাধ্যমে নথি যাচাই চলছে। বহু মানুষ ইতিপূর্বেই মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কমিশনের এই 'নবতম সংযোজন' বা নতুন নির্দেশিকার ফলে তাঁদের এখন বিকল্প নথির সন্ধানে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রথমবার ভোটার হতে চাওয়া (First-time Voters) পড়ুয়াদের মধ্যে একটি বড় অংশ সমস্যায় পড়তে পারেন। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই স্কুল থেকে প্রাপ্ত অ্যাডমিট কার্ডকেই তাঁরা তাঁদের প্রধান পরিচয়পত্র হিসেবে গণ্য করেন। এখন সেই বিকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবেদন বাতিলের হার বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা পরিমার্জনের এই কাজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে কমিশন যখন 'স্বচ্ছতা' এবং 'অভিন্নতা'র কথা বলছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের 'সহজলভ্যতা' ও 'হয়রানি'র প্রশ্নটিও প্রকট হয়ে উঠছে। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি বাতিলের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলেও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার, রাজ্য সরকার পুনরায় এই বিষয়ে কোনো আপিল করে কি না, নাকি সাধারণ মানুষকে বিকল্প নথির পথেই হাঁটতে হয়।

Your Opinion

We hate spam as much as you do