উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার রসড়া এলাকার ঘটনা। আক্রান্ত পরিবারটি জানিয়েছে, বিয়ে উপলক্ষে ‘স্বয়ম্বর ম্যারেজ হল’ নামের একটি বাড়ি ভাড়া করা হয়েছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ, বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন সেই বাড়িতে আচমকা হানা দেন অন্তত ২০ জন। সকলের হাতে লোহার রড বা লাঠি ছিল। বিয়েবাড়িতে ঢুকেই চিৎকার করতে শুরু করেন তাঁরা। দলিত পরিবারটিকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। চিৎকার করেই এক জন প্রশ্ন করেন, ‘‘দলিত হয়ে তোরা বিয়ের জন্য হল ভাড়া করিস কী ভাবে?’’
দলিত হয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করার সাহস ? উত্তরপ্রদেশে উচ্চ বর্ণের আক্রমণ
০১ জুন ২০২৫
উত্তরপ্রদেশে ফের হেনস্থার শিকার দলিত পরিবার। অভিযোগ, বিয়ে চলাকালীন বিয়েবাড়িতে হানা দিয়ে বর এবং কনের পরিবারকে বেধড়ক মারধর করে একদল দুষ্কৃতী। প্রশ্ন করা হয়, ‘‘দলিত হয়ে বিয়েবাড়ি ভাড়া নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করিস কোন সাহসে?’’ লাঠি এবং রড দিয়ে পরিবারের একাধিক সদস্যকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ।
উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার রসড়া এলাকার ঘটনা। আক্রান্ত পরিবারটি জানিয়েছে, বিয়ে উপলক্ষে ‘স্বয়ম্বর ম্যারেজ হল’ নামের একটি বাড়ি ভাড়া করা হয়েছিল। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ, বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন সেই বাড়িতে আচমকা হানা দেন অন্তত ২০ জন। সকলের হাতে লোহার রড বা লাঠি ছিল। বিয়েবাড়িতে ঢুকেই চিৎকার করতে শুরু করেন তাঁরা। দলিত পরিবারটিকে উদ্দেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। চিৎকার করেই এক জন প্রশ্ন করেন, ‘‘দলিত হয়ে তোরা বিয়ের জন্য হল ভাড়া করিস কী ভাবে?’’
অভিযোগ, বর এবং কনের সামনেই তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়েছে। দু’জন গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আক্রান্ত পরিবারের এক জন রাঘবেন্দ্র গৌতম। তিনি শনিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করেছে পুলিশ। এফআইআরে আমন সাহনি, দীপক সাহনি, রাহুল, অখিলেশ প্রমুখ এলাকার কয়েক জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বাইরে থেকে কয়েক জনকে নিয়ে আসা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
রসড়া থানার ইন-চার্জ বিপিন সিংহ জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। দলিত পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
গত ১৮ মার্চ লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বান্দি সঞ্জয় কুমারের দেওয়া উত্তরে দেখা গেছে দেশে প্রতি বছরই দলিতদের ওপর অত্যাচার বাড়ছে। এনসিআরবি-র তথ্যের ভিত্তিতে মন্ত্রীর বক্তব্য অনুসারে, ২০২০ সালে দেশে তফশিলি জাতির ওপর অত্যাচারের ৫০,২৯১টি ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছিল। ২০২১ সালে এই ধরণের ঘটনায় লিপিবদ্ধ হয়েছে ৫০,৯০০ টি এবং ২০২২ সালে এই ধরণের ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে ৫৭,৮৮২টি।
এরমধ্যে তফশিলি জাতির ওপর অত্যাচারের ঘটনা সবথেকে বেশি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। ২০২০ সালে সেখানে ১২,৭১৪টি এই ধরণের ঘটনা ঘটেছিল, ২০২১ সালে তা বেড়ে হয় ১৩,১৪৬ এবং ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫,৩৬৮টি।
এরপরেই এই তালিকায় আছে রাজস্থানের নাম। যেখানে ২০২০ থেকে ২০২২ তফশিলি জাতির ওপর অত্যাচারের ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে যথাক্রমে ৭,০১৭, ৭,৫২৪ এবং ৮,৭৫২টি।
মধ্যপ্রদেশে ২০২০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত তফশিলি জাতির ওপর অত্যাচারের ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে যথাক্রমে ৬,৮৯৯, ৭,২১৪ এবং ৭,৭৭৩টি এবং বিহারে এই সময়ে তফশিলি জাতির ওপর লিপিবদ্ধ অত্যাচারের ঘটনা যথাক্রমে ৭,৩৬৮, ৫,৮৪২ এবং ৬,৫০৯টি।
We hate spam as much as you do