Tranding

06:56 PM - 04 Feb 2026

Home / Entertainment / কবিতা-একটি ফ্যাসিবিরোধী সংলাপ, প্রতিফলনে বাঁচা

কবিতা-একটি ফ্যাসিবিরোধী সংলাপ, প্রতিফলনে বাঁচা

রাজা চায় শুধু ছোটদের যুদ্ধ শেখানোর ইঙ্গিত। চোখের ভিতর চাকচিক্যময় অকাট্য সব ভিডিও ক্লিপ। যুদ্ধ আর যুদ্ধ। বুকপদ্মে বাকযুদ্ধের অস্ত্রের সংলাপ। মুখস্থ হয়েছে নির্জলা ঘৃণা। গান্ধীর চশমাকে রাজবেশ পরিয়ে পরিপাট্য মিছিলে নগরভ্রমন। সামনে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ধূলাগড়,বসিরহাট। ঐখানে একটা নদী আছে। অসংখ্য চিৎকার আছে। লাশ আর ক্ষুধা।

কবিতা-একটি ফ্যাসিবিরোধী সংলাপ, প্রতিফলনে বাঁচা

কবিতা 

শঙ্খজিদে
দিগন্ত রায়

 

একটি ফ্যাসিবিরোধী সংলাপ


শঙ্খজিদে


গোপনে দগ্ধ হয়ে যাই। খুলে রাখি জামার বোতাম। লুকিয়ে রাখি অন্ধ আগুন। এ কি সৌধ সদৃশ নির্মাণ,আমার চতুর্দিকে-আজীবন এসবের থেকে নিষ্কৃতি চেয়েছি। ফুল,নদী,সবুজ বসন্ত,আজীবন মায়াময় কোশা-কুশি ছেড়ে রেখে এসেছি। সামুদ্রিক জিভের সামনে সংকোচে খুলে ফেলেছি স্ববিরোধী মুখ।


এইসব চাওয়া পাওয়া,কবেকার ভাঙা জানালায় সবুজের ঘন সমাবেশ। রাত আর দিন। চারিদিকে বিধ্বংসী আগুন। খরস্রোতা নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে আমাদের শ্বাস। এর পরেও গ্যাস চেম্বারের প্রগাঢ় দূষণের সাথে নিরীক্ষা শানিত তুলনা টানলে আপনি, আপনারা ব্যথিত হবেন সুধী নাগরিকবৃন্দ?

 

রাজা চায় শুধু ছোটদের যুদ্ধ শেখানোর ইঙ্গিত। চোখের ভিতর চাকচিক্যময় অকাট্য সব ভিডিও ক্লিপ। যুদ্ধ আর যুদ্ধ। বুকপদ্মে বাকযুদ্ধের অস্ত্রের সংলাপ। মুখস্থ হয়েছে নির্জলা ঘৃণা। গান্ধীর চশমাকে রাজবেশ পরিয়ে পরিপাট্য মিছিলে নগরভ্রমন। সামনে দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ধূলাগড়,বসিরহাট। ঐখানে একটা নদী আছে। অসংখ্য চিৎকার আছে। লাশ আর ক্ষুধা।

 

ক্ষুধার্ত মানুষ দেখলেই ছুড়ে দিচ্ছে যুদ্ধ। ছুড়ে দিচ্ছে ব্যধিভার-সংক্রমন। ছুড়ে দিচ্ছে ছুড়ি আর কাটারির ধার। গোপনে দগ্ধ হয়ে যাই। খুলে রাখি জামার বোতাম। এখানে চিন্তার চারপাশে সেনা মোতায়েন। গান স্যালুট দিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে মিথ্যার দেরাজে।

 

এ সমস্ত নির্মাণের গায়ে জ্বলজ্বল করছে হিংস্র আগুন। কাচের ঘরের ভিতর উন্মাদ আকাশ। এ সমস্ত বেঁচে থাকা আদতেই বহুজন্মের প্রাচীন দাসত্ব। সারা গা ছেয়ে যাচ্ছে ইউএপিএ শব্দে। নোনাজলের ক্ষতয় ছটফট করছে যুবতী পাটলিখানপুর। ছটফট করছে যোগেশগঞ্জের কাদামাটির প্রৌঢ়া প্রতিমা। বাঘ টেনে নিয়ে গেছে পুরুষের মাংস। সিঁথি থেকে সাফ হয়ে গেছে ধূসর এই রক্তদাগ। আমাকে চিহ্নিত করতে পারলে আমি জানি মহামান্য রাষ্ট্রযন্ত্র,আপনি আমার বাকযন্ত্রে সেন্সর লাগিয়ে গুনে রাখবেন বিরুদ্ধতা! 


এতকিছু জেনেও গোপনে দগ্ধ হয়ে যাই বারবার। আপনার হাসিতে লেগে আছে চেঙ্গিস খান,লেগে আছে বেনিতো মুসোলিনি! আপনি হেসে উঠুন সার্কাসজোকারের রঙিন মুখবয়বের মতো। আপনি হেসে উঠুন। পিছন থেকে চাবুক মেরে খুলে দিন পাঁজরের হাড়। 


আপনি হেসে উঠুন। কি ভীষণ ঘৃণায় চতুর্দিক যুদ্ধে ছেয়ে যাবে। আমাদের অস্ত্র হবে প্রগাঢ় জীবন। আমাদের অস্ত্র হবে মানুষের পরিপাকের আয়োজন। আমাদের অস্ত্র হবে অক্ষরবতী জিভের দাবী আর যুবতী বিড়িশ্রমিকের স্নিগ্ধ ওষ্ঠপুট। 

 

আপনি যুদ্ধ চাইলে আমরাও আপনার রুক্ষ আর দীর্ঘ হাসির সামনে জ্বলন্ত আগুন হয়ে ঘিরে ফেলবো আপনার সমস্ত প্রবৃত্তি!


আমরা লাশ হওয়ার আগে জেনে রাখবেন,আমরা পচাগন্ধময় মর্গের টেবিলে যাওয়ার আগে জেনে রাখবেন, আপনার শরীর থেকে খুবলে নেবোই ঘৃণাবাহী ধমনীর তার,ক্ষমতার নৃশংস মগজ...

 

প্রতিফলনে বাঁচা


দিগন্ত রায় 


কালো কালো মেঘে জটিল মনের শঙ্কাগুলো 
যায় আকাশে ছড়িয়ে কেবল 
চাকায় চেপে চাকার গতি বাড়িয়ে সুবিধা মত 
চরাচরকে ক্ষত বিক্ষত করে 
পিচ্ছিল পথে চাঁদ ধরা চাই আগে 
সেতুগুলো যায় ভেঙে বৃত্তে যাপন ছিন্নদ্বীপে 
যূথবদ্ধ পিঁপড়ের মত ভুলেছি বাঁচতে 
নগ্ন চাঁদের স্নান দেখতে ডোবায় ঝাঁপ
রূপালি পর্দা চালান করে বেশভূষা আর মনের স্খলন 
বিজ্ঞাপনে হয় লোভাতুর…সুখের অসুখ 
পণ্যর ছোঁয়া ছড়ায় স্নায়ুতে স্নায়ুতে 
পাশার নেশা ডোবায় কেবল লোভের চোরাবালিতে 
নাকের ডগায় ঝোলায় বণিক মরীচিকা 
ঝড়ের হাওয়ায় উল্টেপাল্টে ছকের হিসাব খাতা 
বিবেকগুলো ঘুমায় জতুগৃহে 
মেকআপের মুখ শিকার খোঁজে আড়ম্বরের লক্ষে 
স্বার্থে বেরয় দাঁত ও নখ…রঙ যায় গলে গলে 
পুকুরধারে চাঁদ খুঁজতে লোভের রাতে 
প্রবঞ্চনা ঢিল ছুঁড়ে মারে প্রতিবিম্বে 

 

নেটের জালে হাত বাড়ালেই বন্ধু 
রাতের তারারা রাত জাগে কী এক নেশায় 
মৃত তারারাও জাগিয়ে রাখে আশা  
প্রতিফলনের জীবনে যায়না তাদের ছোঁয়া 

 

যন্ত্রের এই রুক্ষ মরুর দেশে নামে না বৃষ্টি 
চেতনা জুড়ে বৃষ্টি কখনও নামলে রাস্তায় 
রামধনু যায় দেখা পথের জমা জলে 

দুরন্ত সেই চাকাটা যায় ছুটে হঠাৎ রামধনুকে ছিটিয়ে….

 

চিত্র- পলাশ

 

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do