ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কেন্দ্রের প্রধান হোসেন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটিতে চালানো হামলাটি সরাসরি ‘আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর একটি আঘাত’। উল্লেখ্য, এই ইনস্টিটিউটটি ইরানে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন এবং সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধের গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছিল। সিএনএন-এর পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরান ও লেবাননের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে।
মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ইরানের শতবর্ষের হাসপাতাল ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট’ ধ্বংস হয়ে গেল
০৩ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে এবার ইরানে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট’ মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইরান সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো যখন চিকিৎসা স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধে বারবার সতর্কবাণী দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটল।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কেন্দ্রের প্রধান হোসেন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটিতে চালানো হামলাটি সরাসরি ‘আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর একটি আঘাত’। উল্লেখ্য, এই ইনস্টিটিউটটি ইরানে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন এবং সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধের গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছিল। সিএনএন-এর পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরান ও লেবাননের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে। ইরান রেড ক্রিসেন্টের ১ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩১৬টি স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, গড়ে প্রতি ছয় ঘণ্টায় অন্তত একবার ইরান, লেবানন বা ইসরাইলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং চিকিৎসা স্থাপনাগুলো সব সময়ই সুরক্ষার দাবিদার। এই ধ্বংসযজ্ঞ কেবল একটি ভবন ধ্বংস নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা : ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সুপেয় পানি শোধনাগারের (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে ভয়াবহ হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তে তেহরান চুক্তিতে রাজি না হলে এই হামলা চালানো হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই হুমকিকে সরাসরি ‹যুদ্ধাপরাধ› হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিফেন জে র্যাপ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, পানি শোধনাগারের মতো স্থাপনায় হামলা চালানো নিঃসন্দেহে যুদ্ধাপরাধের শামিল। এ নিয়ে তর্কের কোনো অবকাশ নেই। এরই মধ্যে চলমান যুদ্ধে ১ লাখ ১৩ হাজারেরও বেশি বেসামরিক স্থাপনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার সাথে নতুন এই হুমকি ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) এই যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উসকে না দিতে এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন বন্ধ করতে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত দাবি করেছে।
হুঁশিয়ারি দিতে মার্কিন শিল্প স্থাপনাগুলোতে হামলা ইরানের : সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর বা আইআরজিসি। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই হামলা কেবল একটি ‘সতর্কবাণী’। যদি ইরানের শিল্পখাতে ভবিষ্যতে কোনো আক্রমণ চালানো হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং ‘দখলদার ইসরাইলি শাসনব্যবস্থার’ মূল ভিত্তি উপড়ে ফেলার মতো আরও বড় ও বেদনাদায়ক পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।
We hate spam as much as you do