সেই কোনি সিনেমার কথা মনে ? একটা মেয়েকে উঠতে দেব না। দেশের ক্ষতি হয় হোক, তবু লবি করে নামিয়ে দেবো! ২০১৪ সালে সুতীর্থার জীবনে নেমে এসেছিল অন্ধকার৷
বাংলার মেয়ে নৈহাটির সুতীর্থা যাচ্ছে অলিম্পিকে( টোকিও)
আপনি উত্তর ২৪পরগনা জেলার নৈহাটির বাসিন্দা সুতীর্থা মুখার্জীকে চেনেন? ও এবছর টোকিও অলিম্পিকে ভারতবর্ষের হয়ে মেয়েদের টেবিল টেনিসে প্রতিনিধিত্ব করবে। সুতীর্থার মায়ের ইচ্ছা সফল হতে চলেছে। সেই ছোট্ট বেলায় সুতীর্থা ব্যাট ধরেছিল। মাত্র আর কয়েকটা হাতে গোনা দিনের পর টোকিও অলিম্পিক শুরু হচ্ছে। সুতীর্থার সঙ্গে থাকছে মনিকা বাটরা এবং অচান্তা সারাথ কামাল। এরা সব হরিয়ানার সোনিপথে জোর কদমে অনুশীলনে ব্যস্ত। চারজনের মধ্যে আর একজন সাথিয়ান গনেশন তার নিজের শহর চেন্নাইতে প্রাকটিস করছে। ২৫ বছরের দক্ষিন পূর্ব রেলের সুতীর্থা উৎসাহে উদ্দীপনায় একেবারে ফুটছে। সুতীর্থা বলেছে ও ওখানে কিছু করতে চায়। বারবার বাংলার নিজের মেয়েটা ওর মায়ের কথা বলছে। ওর মা মেয়ের উন্নতির জন্য বহু স্বার্থ ত্যাগ করেছেন। দুবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়ন মুখার্জীর যাত্রাপথ নাটকীয়তায় পূর্ণ। ২০১৮ এর CWG মহিলা দলের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত সুতীর্থার মনে টেবিল টেনিসের বীজ বুনে দেন ওর মা সেই মাত্র ছয় বছর বয়সে। সুতীর্থার জন্য যাদবপুর চলে আসেন। সৌম্যদীপ রায় পৌলমী ঘটক টেবিল টেনিস একাডেমিতে গত সাত বছর আগে যায়।
সেই কোনি সিনেমার কথা মনে ? একটা মেয়েকে উঠতে দেব না। দেশের ক্ষতি হয় হোক, তবু লবি করে নামিয়ে দেবো! ২০১৪ সালে সুতীর্থার জীবনে নেমে এসেছিল অন্ধকার৷ দেশের এক নম্বর খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় টিটিতে নামার আগেই তাঁকে ১৪ মাস সাসপেন্ড হতে হয়েছিল জুনিয়র বিভাগে বয়স ভাঁড়ানোর বাজে অভিযোগে ৷ টিটি মহলের ধারণা , এটা সুতীর্থার বিরুদ্ধে চক্রান্ত ছিল৷ আঠেরো বছরের একটা মেয়ে এত দ্রুত সেরা হয়ে যাচ্ছে দেখেই তাঁকে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল৷ সাময়িকভাবে থামানো গেলেও সুতীর্থাকে অবশ্য থামানো গেল না৷ ফিরে এসেই ২০১৬ তে সুতীর্থা জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায়।
আবার বাংলা তার টেবিল টেনিসে আর একটা পৌলমী ঘটক পেয়ে যায়। কমনওয়েলথ এর মত প্রেস্টিজিয়াস খেলায় অংশ নিয়ে "বাংলার হৃদয়ের মেয়ে" সেই সুতীর্থা এবার যাচ্ছে টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিতে।
We hate spam as much as you do