রাশিয়া বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড। এরপর ইউরো কাপের ফাইনাল। ট্রফি আসেনি। কাতার বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবেই নেমেছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচেই তার প্রমাণ মেলে। ইরানের বিরুদ্ধে ৬-২’র বিশাল ব্যবধানে জয়। গ্রুপ পর্ব আর নকআউট এক নয়। স্নায়ুর চাপ বলে একটা বিষয় থাকে। যে ভালো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সাফল্য তাদেরই। এখানেই যেন বাজিমাত করল ফ্রান্স।
শেষ চারে ফ্রান্স,হ্যারির পেনাল্টি মিস ইংল্যান্ডকে বিপদে ফেলল
Sun, 11 December 22
ক্লাব ফুটবলে সতীর্থ। বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দেশের অধিনায়ক। হুগো লরিস ও হ্যারি কেন। ইংল্যান্ড এবং ফ্রান্সের রুদ্ধশ্বাস একটা ম্যাচ হবে, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্য়ম অবশ্য আগে থেকেই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রেখেছিল। ফ্রান্স শিবিরে সবচেয়ে দুর্বল জায়গা কোনটা! ফরাসি অধিনায়ক তথা গোলরক্ষক হুগো লরিস সেই দুর্বল জায়গা, এমনটাই ম্যাচের আগে চিহ্নিত করেছিল তারা। ইংল্যান্ডের বিদায়ের পর প্রশ্ন, মানসিক যুদ্ধে কি জিতলেন সেই লরিসই? এগিয়ে যাওয়া, পেনাল্টি থেকে গোল শোধ, ফের এগিয়ে যাওয়া, ফের পেনাল্টি! একটা সময় মনে হয়েছিল টাইব্রেকারে গড়াবে ম্যাচ। পার্থক্য হয়ে দাঁড়াল হ্যারি কেনের দ্বিতীয় স্পট-কিকটাই। শেষ অবধি ২-১ ব্যবধানে জিতে সেমিফাইনালে গত বারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স।
রাশিয়া বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠেছিল ইংল্যান্ড। এরপর ইউরো কাপের ফাইনাল। ট্রফি আসেনি। কাতার বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবেই নেমেছিল ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচেই তার প্রমাণ মেলে। ইরানের বিরুদ্ধে ৬-২’র বিশাল ব্যবধানে জয়। গ্রুপ পর্ব আর নকআউট এক নয়। স্নায়ুর চাপ বলে একটা বিষয় থাকে। যে ভালো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, সাফল্য তাদেরই। এখানেই যেন বাজিমাত করল ফ্রান্স। ইংল্য়ান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট ম্যাচের আগে ফুটবলারদের বলেছিলেন, ভয়ডরহীন খেলতে। তাদের পারফরম্যান্স খুবই ভালো, তাদের চেয়েও ভালো খেলে শেষ চার নিশ্চিত করল ফ্রান্স।
ইংল্যান্ড ১ (কেন ৫৪’-পেনাল্টি)
ফ্রান্স ২ (শৌমেনি ১৭’, জিরো ৭৮’)
দু-দলের রক্ষণ ভাঙা খুবই কঠিন ছিল। ইংল্য়ান্ড বক্সের বাইরে থেকে গোল খায়নি বহুদিন। এমন সময়ই চমৎকার একটা গোল ফ্রান্সের তরুণ ফুটবলার শৌমেনির। আর গোলটা করলেন বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে। গ্রিজম্য়ানের পাস, ওয়ান টাচ, জোরালো শট। ইংল্যান্ড রক্ষণ কিংবা গোলরক্ষক, কেউ যেন এমন শটের জন্য় প্রস্তুত ছিল না। ম্যাচের মাত্র ১৭ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়া, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় ফ্রান্সের। এমবাপে বারবার প্রতিপক্ষ রক্ষণে আতঙ্ক তৈরি করলেন। ইংল্য়ান্ডও ম্য়াচের নিয়ন্ত্রণ নিতে দেরি করেনি। তবে ১-০ এগিয়েই বিরতিতে যায় ফ্রান্স।
অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস হোক কিংবা দায়সারা মনোভাব। বক্সের মধ্যে বুকায়ো সাকাকে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করেন ফ্রান্সের গোলদাতা শৌমেনি। দেরিতে হলেও, ভিএআর দেখে অবশেষে পেনাল্টি দেন ব্রাজিলিয়ান রেফারি। হ্যারি কেনের সামনে লরিস। মানসিক যুদ্ধ। পেনাল্টিতে জোরালো শটে সমতা ফেরালেন হ্যারি কেন। ৭৭ মিনিটে বিপদ ইংল্য়ান্ড বক্সে বিপদ। অলিভিয়ের জিরোর শট বাঁচিয়ে দেন দেশের হয়ে ৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা ইংল্য়ান্ড গোলরক্ষক। সেই থেকেই কর্নার। গ্রিজম্য়ানের কর্নার ইংল্যান্ড রক্ষণে ধাক্কা খেয়ে তাঁর কাছেই। গ্রিজম্যানের ক্রস, হেডে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অলিভিয়ের জিরো।
ম্যাচের ফেরার যথেষ্ট সুযোগ ছিল ইংল্য়ান্ডের। গোল্ডেন সুযোগ যেন ৮২ মিনিটে। ফের ফরাসি রক্ষণের ভুল। গোলকিপারের দিকেই বল যাচ্ছিল। তাড়া করছিলেন মেসন মাউন্ট। আরও একটা দায়সাড়া মনোভাবের পরিচয় ফরাসি ডিফেন্সের। মাউন্টকে অযথাই ফাউল করেন থিও হার্নান্ডেজ। ম্য়াচে দ্বিতীয় পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় শটটিও নিতে আসেন অধিনায়ক হ্যারি কেনই। ৫৩টি গোল করে ইংল্যান্ডের সর্বাধিক গোল স্কোরার হিসেব রুনিকে ছুঁয়েছেন। দ্বিতীয় পেনাল্টি থেকে গোল করলে রেকর্ড এবং ইংল্যান্ডের সুযোগ বাড়ত। গোলে শটই রাখতে পারলেন না হ্যারি কেন।
ক্রস বারের অনেকটা উপর দিয়ে হ্যারি কেনের পেনাল্টি শট এবং বিশ্বকাপে টিকে থাকার সুযোগটা বেরিয়ে গেল। শেষ মুহূর্তে বক্সের বাইরে একটা ফ্রি-কিকও পেয়েছিল ইংল্যান্ড। মার্কাস ব়্যাশফোর্ড দারুণ ফ্রি-কিক নেন। বলটা ডিপ করে জালে জড়ায়নি অল্পের জন্য। ইংল্যান্ডের বিদায় নিশ্চিত হয়েছে কিছুক্ষণের মধ্যেই। এ বারের মতো খালি হাতেই দেশে ফিরতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে।
We hate spam as much as you do