Tranding

04:14 AM - 16 Feb 2026

Home / Article / ইসলামি শরীর ও বেদান্তীয় হৃদয়ের দ্বান্দ্বিক মিলন : ২০২৬-এর সামাজিক সংকটে বিবেকানন্দের বৈপ্লবিক পথ ।

ইসলামি শরীর ও বেদান্তীয় হৃদয়ের দ্বান্দ্বিক মিলন : ২০২৬-এর সামাজিক সংকটে বিবেকানন্দের বৈপ্লবিক পথ ।

আজ ২০২৬ সালে বাংলার আকাশে যখন সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে, তখন আমাদের সমাজ ও অর্থনীতির রক্তক্ষরণকে আড়াল করতে ধর্মের আফিম ব্যবহার করা হচ্ছে। দক্ষিণপন্থী ও উগ্রবাদী শক্তির আস্ফালন যখন মানুষের ভাত ও অধিকার কেড়ে নিয়ে তাকে ধর্মীয় উন্মাদনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তখন বেলুড় মঠের এই খিলানগুলো এক নীরব কিন্তু প্রচণ্ড শক্তিশালী প্রতিবাদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে

ইসলামি শরীর ও বেদান্তীয় হৃদয়ের দ্বান্দ্বিক মিলন : ২০২৬-এর সামাজিক  সংকটে বিবেকানন্দের বৈপ্লবিক পথ ।

ইসলামি শরীর ও বেদান্তীয় হৃদয়ের দ্বান্দ্বিক মিলন : ২০২৬-এর সামাজিক  সংকটে বিবেকানন্দের বৈপ্লবিক পথ ।

গৌতম হালদার
১৫.০২.২০২৫

বাংলার এই পবিত্র মাটি কোনো নিছক ভৌগোলিক মানচিত্র বা কোনো সাধারণ ভূখণ্ড নয়; বরং এটি এক সহস্রাব্দের রক্তে ভেজা সমন্বয়বাদী সংস্কৃতির এমন এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরি, যার প্রতিটি লাভাস্রোতে সাম্প্রদায়িকতার সংকীর্ণ আবর্জনা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। আজ ২০২৬ সালের এই উত্তাল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আমরা যখন দেখি ধর্মের নামে ঘৃণার বিষবাষ্প ছড়িয়ে এই মাটিকে কলঙ্কিত করার এক সুপরিকল্পিত নীল নকশা চলছে, তখন আমাদের ফিরে তাকাতেই হয় সেই অমোঘ ইতিহাসের দিকে যা আমাদের মেরুদণ্ডকে সোজা রাখতে শেখায়। বাংলার ধূলিকণা চণ্ডীদাসের সেই অমোঘ বজ্রনির্ঘোষে আজও স্পন্দিত হয়—‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’। এই শাশ্বত সত্যের এক অপ্রতিম এবং বিধ্বংসী রূপায়ণ ঘটেছিল ১৮৯৭ সালের ৪ঠা মার্চ, যখন স্বামী বিবেকানন্দ নামক এক আধ্যাত্মিক বিপ্লবীর হাত ধরে বেলুড়ের পুণ্যভূমিতে মঠের জন্য জমি ক্রয় করা হয়। এটি কোনো সাধারণ ভূ-খণ্ড ছিল না, বরং এটি ছিল এক বিশ্বজনীন মানবতাবাদের রণক্ষেত্র নির্মাণের প্রথম পদক্ষেপ। ১৮৯৮ সালের ৯ই ডিসেম্বর বিবেকানন্দ যখন স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণের পবিত্র চিতাভস্ম নিজের কাঁধে বহন করে এই ভূমিতে স্থাপন করেছিলেন, তখন কেবল একটি মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়নি, বরং সূচিত হয়েছিল এক নতুন আধ্যাত্মিক মহাবিপ্লবের, যা জগতকে শিখিয়েছিল যে বিভাজনই মৃত্যু আর ঐক্যই প্রকৃত জীবন।
বিবেকানন্দ সেই তথাকথিত পলায়নবাদী সন্ন্যাসী ছিলেন না যিনি নির্জনে মোক্ষ খুঁজতেন; তিনি ছিলেন এক আধুনিক বজ্রনির্ঘোষ যার বিশ্বজনীন দৃষ্টির কাছে সাম্প্রদায়িকতার ক্ষুদ্রতা ছিল নর্দমার সমতুল্য। ১৮৯৮ সালের ১০ই জুন আলমোড়া থেকে তাঁর মুসলিম বন্ধু মোহাম্মদ সরফরাজ হোসেনকে লেখা সেই ঐতিহাসিক চিঠিতে তিনি যে তাত্ত্বিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন, তা আজও রাজনীতির কারবারিদের বুক কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনি অকুতোভয়ে ঘোষণা করেছিলেন যে ভারতবর্ষের একমাত্র ভবিষ্যৎ ও মুক্তির পথ নিহিত রয়েছে এক 'ইসলামি শরীর ও বেদান্তীয় হৃদয়ের' অভিন্ন মিলনে। এটি কেবল একটি আলঙ্কারিক বাক্য ছিল না, এটি ছিল কয়েক হাজার বছরের ভারতীয় ইতিহাসের এক চূড়ান্ত নির্যাস এবং বামপন্থী চেতনার সেই আদি বীজ যেখানে শ্রম ও সাম্যই ছিল শেষ কথা। যারা আজ বাংলার বুকে বিভাজনের কাঁটাতার বসাতে চায়, তাদের জন্য বেলুড় মঠের সেই আকাশচুম্বী গম্বুজ আর খিলানগুলি এক চিরকালীন ধিক্কার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
বেলুড় মঠের শ্রীরামকৃষ্ণ মন্দিরটি কেবল স্থাপত্যের নিরিখে এক বিস্ময় নয়, এটি সরাসরি সাম্প্রদায়িকতার আদিম এবং কুৎসিত ধারণাকে সমাহিত করে দেওয়ার এক চূড়ান্ত দলিল। বিবেকানন্দ তাঁর সমগ্র ভারত ভ্রমণ এবং পাশ্চাত্য পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতায় এই মন্দিরের নকশা নিজের হৃদয়ে গেঁথেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক মহাশক্তিপীঠ গড়ে তুলতে, যেখানে প্রবেশ করলে পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মের মানুষ নিজের আত্মার প্রতিধ্বনি শুনতে পাবে। ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৮ সালের সেই মহানির্মাণ পর্বের দিকে তাকালে আমরা এক বিস্ময়কর সত্যের সম্মুখীন হই। তৎকালীন প্রবাদপ্রতিম প্রকৌশলী স্যার রাজেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ডায়েরির কিছু অসম্পাদিত পাতায় এবং মার্টিন বার্ন কোম্পানির সংরক্ষিত নথিতে এই মন্দিরের কারিগরি জটিলতার এক অদ্ভুত বর্ণনা পাওয়া যায়। রাজেন্দ্রনাথ লিখেছিলেন যে, স্বামী বিবেকানন্দের দেওয়া নকশাটি যখন তিনি প্রথম হাতে পান, তখন তিনি চমকে গিয়েছিলেন। মন্দিরটি এমনভাবে পরিকল্পিত ছিল যেখানে ইসলামিক স্থাপত্যের 'জ্যামিতিক ভারসাম্য' এবং হিন্দু স্থাপত্যের 'অলঙ্করণ আধ্যাত্মিকতা' একবিন্দুতে মিলিত হওয়া কারিগরি দিক থেকে ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
মার্টিন বার্ন কোম্পানির নথিতে দেখা যায়, প্রধান প্রকৌশলীদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় ছিল মন্দিরের তিনটি বিশালাকার গম্বুজ। এই গম্বুজগুলি নিছক মুঘল স্থাপত্যের অনুকরণ ছিল না; এগুলি ছিল ইসলামি ঐতিহ্যের সেই রাজকীয় আভিজাত্যের স্মারক যা আধ্যাত্মিক উদারতার জয়গান গায়। স্যার রাজেন্দ্রনাথের ডায়েরিতে উল্লেখ আছে যে, মন্দিরের প্রতিটি জানালা এবং অলিন্দ উত্তর ভারতের ফতেপুর সিক্রির প্রাসাদ বা প্রাচীন মুঘল দুর্গের ধাঁচে তৈরি করা হয়েছে যা সাধারণত মসজিদে দেখা যায়। এই স্থাপত্য নির্মাণের সময় প্রকৌশলীরা যখন হিন্দু মন্দিরের ছাদ ও ইসলামিক গম্বুজের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন তা কেবল সিমেন্ট-পাথরের লড়াই ছিল না, তা ছিল দুটি মহান সংস্কৃতির তাত্ত্বিক আলিঙ্গন। বিবেকানন্দের দর্শনকে ইঁট-পাথরে রূপান্তরিত করার সময় প্রকৌশলীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, মন্দিরের স্থাপত্য দেখে যেন কারোর মনে না হয় যে এটি কোনো একপাক্ষিক ধর্মীয় ভবন। ১৯৩৮ সালের ১৪ই জানুয়ারি মকর সংক্রান্তির সেই পুণ্য তিথিতে যখন মন্দিরটির উদ্বোধন হয়েছিল, তখন স্যার রাজেন্দ্রনাথ লিখেছিলেন— "আজ পাথরগুলো কথা বলছে; তারা বলছে যে ভারত কেবল তখনই বাঁচে যখন সে সবাইকে আপন করে নেয়।"
 

আজ ২০২৬ সালে বাংলার আকাশে যখন সাম্প্রদায়িক অপশক্তির কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে, তখন আমাদের সমাজ ও অর্থনীতির রক্তক্ষরণকে আড়াল করতে ধর্মের আফিম ব্যবহার করা হচ্ছে। দক্ষিণপন্থী ও উগ্রবাদী শক্তির আস্ফালন যখন মানুষের ভাত ও অধিকার কেড়ে নিয়ে তাকে ধর্মীয় উন্মাদনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তখন বেলুড় মঠের এই খিলানগুলো এক নীরব কিন্তু প্রচণ্ড শক্তিশালী প্রতিবাদ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সাধারণ মানুষের রুটি-রুজির লড়াই, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্যের মতো জ্বলন্ত সমস্যাগুলোকে সুকৌশলে সরিয়ে রেখে মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিভাজনের তলোয়ার। রামকৃষ্ণ মিশনের মূল মন্ত্র ‘শিব জ্ঞানে জীব সেবা’ আসলে সেই সব রাজনৈতিক শকুনের বিরুদ্ধে এক আধ্যাত্মিক ও বৈপ্লবিক তরবারি, যা জাতপাত আর ধর্মের কৃত্রিম দেওয়ালকে নিমেষে ধূলিসাৎ করে দেয়। এই বৈপ্লবিক আদর্শের কারণেই বেলুড় মঠ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলিতে ধর্মের কোনো তথাকথিত শুচিবায়ু কোনোদিন স্থান পায়নি। সেখানে দাঁড়িয়ে মানবতার সেবা করা চিকিৎসকদের তালিকায় যখন ডক্টর গুফরান আলীর নাম উঠে আসে, তখন সেটি কেবল একটি পেশাগত পরিচয় থাকে না, সেটি হয়ে ওঠে বাংলার সম্প্রীতির এক জীবন্ত মেনিফেস্টো।
২০২৪-২৫ থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত ডক্টর গুফরান আলী একজন অত্যন্ত দক্ষ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট হিসেবে মিশনের সেবাকার্যের সাথে যেভাবে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছেন, তা তথাকথিত সাম্প্রদায়িক রাজনীতির মুখে এক চরম কুঠারাঘাত। তাঁর প্রতিদিনের সংগ্রাম ও নিষ্ঠা প্রমাণ করে যে রামকৃষ্ণ মিশনের কাছে চিকিৎসা শাস্ত্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। একইভাবে ডক্টর হ্যারিস এমডি সেপাইয়ের মতো বিশিষ্ট অনকোলজিস্ট যখন ক্যানসারের মতো মারণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিশনের সেবা প্রতিষ্ঠানের ঢাল হয়ে দাঁড়ান, তখন তথাকথিত বিভাজনের রাজনীতি পরাজিত হয়। এই চিকিৎসকরাই তো সেই প্রকৃত সর্বহারা শ্রেণির প্রতিনিধি যারা নিজেদের মেধা ও শ্রমকে উৎসর্গ করেছেন আর্তমানবতার সেবায়। পশু চিকিৎসা ক্ষেত্রে ডক্টর আব্দুল রাকিবের অবদান এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁর এই অবিচ্ছিন্ন সেবা কার্যক্রম এটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে জীবে প্রেমের আদর্শে মানুষের মতো পশুর প্রতিও মিশনের ভালোবাসা অকৃত্রিম। এটিই তো সেই বামপন্থী দর্শনের চূড়ান্ত রূপ যেখানে প্রতিটি প্রাণের অধিকার সমানভাবে স্বীকৃত।
মঠের গৈরিকধারী সন্ন্যাসীদের চোখে এই মুসলিম চিকিৎসকদের প্রতি যে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা কাজ করে, তা কেবল পেশাগত নয়, বরং সেটি এক আধ্যাত্মিক আলিঙ্গন। বেলুড় মঠের এই সেবা কার্যক্রমের সবচেয়ে শিক্ষণীয় দিকটি হলো চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি অটল শ্রদ্ধা। বিশ্বের ইতিহাসে এটি এক বিরলতম নজির যে একটি হিন্দু সন্ন্যাসী সংগঠনের সদর দপ্তরে কর্মরত চিকিৎসকরা অত্যন্ত নিয়মিতভাবে এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নামাজ আদায় করার সুযোগ পান। মিশনের সন্ন্যাসীরা এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে একজন চিকিৎসকের কাছে আর্তের সেবাই হলো পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপাসনা এবং তিনি কোন ভাষায় তাঁর স্রষ্টাকে ডাকবেন, তা একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিক সার্বভৌমত্ব। এটি কি সেই সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক পাঠ নয় যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা একবিন্দুতে মিলিত হয়? বর্তমানের এই সময়কাল কেবল সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার নয়, বরং এটি এক গভীর সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়। দক্ষিণপন্থী রাজনীতির আস্ফালান যখন মানুষের ভাত ও অধিকার কেড়ে নিচ্ছে, তখন বেলুড় মঠের এই চিকিৎসকরাই হয়ে উঠছেন প্রকৃত জনযোদ্ধা।
২০২৬ সালের এই প্রখর বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আমাদের বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন যে, কেন আজ এক দল মানুষ বাংলার এই ঐতিহ্যকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছে। আসলে সাম্প্রদায়িকতা হলো কর্পোরেট পুঁজিবাদের এমন এক ঢাল যা সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক শোষণকে আড়াল করে রাখে। যখন মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের অধিকার নিয়ে কথা ওঠার কথা, তখনই তাকে মন্দিরে বা মসজিদে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বেলুড় মঠের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই মিথ্যেচারের বিরুদ্ধে এক অটল হিমালয়। ডক্টর গুফরান আলীর মতো চিকিৎসকরা যখন মঠ প্রাঙ্গণে আল্লাহর দরবারে সিজদা করেন, তখন সেটি রামকৃষ্ণ মিশনের সর্বধর্ম সমন্বয় আদর্শের এক অগ্নিনির্ভর প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়। রাজনীতির কুচক্রীরা যেখানে মন্দির আর মসজিদের মাঝখানে রক্তের গঙ্গা বইয়ে দিতে চায়, সেখানে বেলুড় মঠ একই আঙিনায় আরতি আর আজানকে মিলিয়ে এক দিব্য জগতের সৃষ্টি করেছে। এই বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি যে কত বড় মিথ্যাচার এবং ভণ্ডামি, তা ডক্টর গুফরান আলী বা ডক্টর হ্যারিস সেপাইদের রক্ত ঘামানো পরিশ্রম আর তাঁদের সেবারত হাতের আঙুলগুলোই বলে দেয়। বাংলার সাধারণ মানুষের হৃদস্পন্দনে এই সমন্বয়ের সুর এতটাই প্রগাঢ় যে কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র একে উপড়ে ফেলতে পারবে না। এটি বাংলার সেই অজেয় আত্মা, যা বারবার আঘাত খেয়েও আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। বিবেকানন্দ যে সমাজতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে শূদ্ররা জাগবে এবং নবভারত গঠিত হবে, বেলুড় মঠের এই সেবাকার্য সেই লক্ষ্যেই এক অবিচল অগ্রযাত্রা।
বিবেকানন্দ যখন 'বর্তমান ভারত' গ্রন্থে ঘোষণা করেছিলেন যে—"মুচি মেথর তোমারা ভাই", তখন তিনি আসলে এক শ্রেণিহীন সমাজেরই ইশতেহার লিখেছিলেন। তাঁর চোখে ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ ছিল সেই নবজাগরণ যা আসবে লাঙল ধরে, কলকারখানা থেকে, হাট-বাজার থেকে। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আমরা দেখি সেই মেহনতি মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি সাম্প্রদায়িক আক্রমণের শিকার। কিন্তু বেলুড় মঠের সেবাপ্রাঙ্গণে ডক্টর গুফরান আলীর উপস্থিতি এই ঘৃণার রাজনীতির মুখে এক সজোর চপেটাঘাত। একজন বিশেষজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট হিসেবে তিনি যখন প্রতিদিন কয়েকশ রোগীর রোগ নির্ণয় করেন, তখন তাঁর কলমের কালিতে কোনো সাম্প্রদায়িক বিভাজন থাকে না। তিনি জানেন, দারিদ্র্যের কোনো আলাদা ধর্ম হয় না; একজন হিন্দু বিধবা আর একজন মুসলিম দিনমজুরের পাকস্থলীর হাহাকার একই ভাষায় কথা বলে। এই যে মানুষের যন্ত্রণাকে সমব্যথী হয়ে অনুধাবন করা, এটাই হলো প্রকৃত বামপন্থা এবং এটাই বিবেকানন্দের প্রকৃত অভীপ্সা।
বর্তমানে রাজ্যের বুকে যে পরিমাণ সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটেছে, তাতে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকা ওষ্ঠাগত। ধর্ম আর বর্ণ নিয়ে যে নীচ রাজনীতি শুরু হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজ্যের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির ওপর। সাধারণ মানুষ যখন রুটি-রুজির লড়াইয়ে ব্যস্ত, তখন স্বার্থান্বেষী মহলগুলো তাদের হাতে বিভাজনের অস্ত্র তুলে দিতে চাইছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বেলুড় মঠের এই চিকিৎসকদের ভূমিকা কেবল চিকিৎসার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি হয়ে উঠেছে এক নিঃশব্দ অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ। ডক্টর গুফরান আলী বা ডক্টর হ্যারিস সেপাইরা যখন মিশনের সেবাকার্যে লিপ্ত থাকেন, তখন তাঁরা প্রমাণ করেন যে বাংলার মেধা ও প্রতিভা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সম্পত্তি নয়। তারা দেখিয়ে দেন যে, যদি সুযোগ ও পরিবেশ সঠিক থাকে, তবে বাংলার হিন্দু-মুসলিম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই রাজ্যের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পারে। অথচ আজ এক শ্রেণির মানুষ ধর্মের জিগির তুলে উন্নয়নকে স্তব্ধ করে দিচ্ছে, যা আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য এক অন্ধকার ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিবেকের দহন থেকেই বিপ্লবের জন্ম হয়। আজ আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, সাম্প্রদায়িকতা কেবল একটি ধর্মীয় সমস্যা নয়, এটি একটি গভীর অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্র। যখন রাজ্যের কলকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায়, যখন কৃষকেরা তাদের ফসলের ন্যায্য দাম পায় না, তখন মানুষের ক্ষোভকে বিপথগামী করার জন্যই দাঙ্গার নীল নকশা তৈরি করা হয়। ডক্টর আব্দুল রাকিবের মতো পশু চিকিৎসকেরা যখন গ্রামের সাধারণ চাষিদের গবাদি পশুর চিকিৎসা করেন, তখন সেই চাষিটি জানতে চায় না ডাক্তারের ধর্ম কী। সে দেখে তার পরিবারের একমাত্র সম্বলটিকে কে বাঁচিয়ে দিল। এই যে কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার সম্পর্ক, এটিই বাংলার প্রকৃত অর্থনীতি। এই অর্থনীতিতে কোনো সাম্প্রদায়িক ভাগাভাগি চলে না। ২০২৬ সালের এই অগ্নিগর্ভ সময়ে আমাদের শপথ নিতে হবে যে, আমরা আমাদের এই সমন্বয়ী সংস্কৃতিকে কোনো ধনিক শ্রেণির বা উগ্রবাদী শক্তির হাতে বিকিকিনি হতে দেব না। আমাদের লড়াই হতে হবে সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে যা মানুষকে ঘৃণা করতে শেখায়। আমাদের লড়াই হতে হবে সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যা মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়ে তাকে ধর্মের ললিপপ ধরিয়ে দেয়।

রামকৃষ্ণ মিশনের মূল মন্ত্র ‘শিব জ্ঞানে জীব সেবা’ আসলে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় বামপন্থী স্লোগান। কারণ এর অর্থ হলো—সৃষ্টির প্রতিটি কণার সেবা করা মানেই হচ্ছে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সেবা করা। ডক্টর হ্যারিস সেপাই যখন ক্যানসার ওয়ার্ডে লড়াই করেন, তখন তিনি কেবল রোগাক্রান্ত কোষের সাথে লড়ছেন না, তিনি লড়ছেন সেই অসহায়তার সাথে যা মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। বাংলার প্রতিটি মানুষ যদি এই সত্যটি উপলব্ধি করতে পারে যে, আমাদের প্রকৃত শত্রু কোনো প্রতিবেশী ধর্মাবলম্বী মানুষ নয়, বরং আমাদের শত্রু হলো দারিদ্র্য, অনাহার এবং শোষনকারী পুঁজিবাদ—তবেই ২০২৬ সালের এই সংকটের অবসান ঘটবে। বেলুড় মঠের প্রতিটি গম্বুজ ও খিলান আজ গর্জে উঠে এই কথাই বলছে। মুক্তির একমাত্র পথ হলো ডক্টর গুফরান আলীর মতো ত্যাগী মানুষের হাত শক্ত করা, স্বামী বিবেকানন্দের সেই অগ্নিকুণ্ডকে নিজেদের হৃদয়ে ধারণ করা এবং সাম্প্রদায়িকতার প্রতিটি বিষদাঁতকে উপড়ে ফেলা।
আজ ২০২৬ সালের এই প্রখর মধ্যাহ্নে দাঁড়িয়ে আমাদের স্বীকার করে নিতেই হবে যে, বাংলার সমাজ ও অর্থনীতি আজ এক গভীর খাদের কিনারায়। একদিকে যখন ধনিক শ্রেণির নির্লজ্জ পুঁজি স্ফীতি ঘটছে, অন্যদিকে সাধারণ মেহনতি মানুষের হেঁশেলে তখন নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর দশা। যখন বাজারের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণহীনভাবে আকাশ ছুঁয়ে যায়, যখন শিক্ষিত যুবকের ডিগ্রি কেবল কাগুজে প্রমাণ হয়ে আলমারিতে বন্দি থাকে, তখনই সুকৌশলে রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে নামিয়ে দেওয়া হয় সাম্প্রদায়িকতার সেই পুরনো মেনিফেস্টো। এটি কোনো রাজনৈতিক কৌশল ছিল না, ছিল এক আধ্যাত্মিক বাধ্যবাধকতা। স্বামী বিবেকানন্দ আলমোড়া থেকে তাঁর মুসলিম বন্ধুকে যে 'ইসলামি শরীর ও বেদান্তীয় হৃদয়ের' কথা লিখেছিলেন, তা আসলে এক গভীর সমাজতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। ইসলামি শরীরে তিনি চেয়েছিলেন সেই অদম্য সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ, যা ধর্মের নামে মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয় না। আর বেদান্তীয় হৃদয়ে তিনি চেয়েছিলেন সেই মহাজাগতিক সত্য, যা মানুষের ভেতরেই ঈশ্বরের সন্ধান দেয়। এই দুইয়ের মিলনেই জন্ম নেবে সেই ভারত যা সারা বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।
বিবেকানন্দের সেই বিখ্যাত উক্তি—"অভিশপ্ত সেই দেশ যেখানে ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষকে অবজ্ঞা করা হয়"—আজ ২০২৬ সালে বাংলার প্রতিটি ব্লকে প্রতিধ্বনিত হওয়া উচিত। বিবেকানন্দ কেবল আধ্যাত্মিক গুরু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের প্রথম আধুনিক সমাজতন্ত্রী। তিনি যখন বলেছিলেন যে, "শূদ্ররাজ্য আসিবে", তখন তিনি আসলে শ্রমজীবী মানুষের শাসন বা প্রলেতারিয়েত শাসনেরই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। আজ যখন ধর্মের নামে সেই শূদ্র বা শ্রমিক শ্রেণির মধ্যেই বিভাজন ঘটিয়ে তাদের লড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তখন বিবেকানন্দের আত্মা নিশ্চিতভাবে ব্যথিত হয়। কিন্তু বেলুড় মঠ সেই বিভাজনের বিরুদ্ধে এক দুর্ভেদ্য দেওয়াল। ডক্টর গুফরান আলী যখন মঠ প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তাঁর ধর্মীয় কর্তব্য পালন করেন, তখন তাঁর পাশে গৈরিকধারী সন্ন্যাসীদের অবস্থান আসলে সেই 'সমাজতান্ত্রিক আধ্যাত্মিকতার' পরিচয় দেয়। এখানে সন্ন্যাসী মানে শোষক নয়, সন্ন্যাসী মানে ত্যাগের প্রতীক যে শ্রমিকের পাশে দাঁড়িয়ে লড়াই করতে জানে। আজ বাংলার রাজপথে যে সাম্প্রদায়িক আস্ফালন আমরা দেখছি, তা আসলে সেই বুর্জোয়া শ্রেণির কারসাজি যারা চায় না বাংলার কৃষক ও শ্রমিক একজোট হোক।
পুঁজিবাদের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা এই সাম্প্রদায়িক দানব যখন মানুষের অন্ন কেড়ে নিয়ে তাকে ধর্মীয় উন্মাদনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তখন বামপন্থী মনোভাবাপন্ন প্রতিটি শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কর্তব্য হলো এই মিথ্যেচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। ডক্টর গুফরান আলীর প্রতিটি সার্জারি আসলে সাম্প্রদায়িকতার বুকের ওপর এক একটি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। ডক্টর হ্যারিস সেপাইয়ের প্রতিটি প্রেসক্রিপশন আসলে বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে এক একটি মৃত্যুপরোয়ানা। ২০২৬ সালের এই আধুনিক যুগেও যারা মধ্যযুগীয় বর্বরতা ফিরিয়ে আনতে চায়, তারা বেলুড় মঠের এই আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক আধ্যাত্মিকতার কাছে বারবার পরাজিত হবে। বিবেকানন্দ চেয়েছিলেন এমন এক ভারত গড়তে যেখানে মন্দির আর মসজিদের মধ্যে কোনো দেওয়াল থাকবে না। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক সমাজ যেখানে মানুষের যোগ্যতা হবে তার একমাত্র পরিচয়। বেলুড় মঠ সেই স্বপ্নের সফল বাস্তবায়ন। এখানে কোনো মুসলিম চিকিৎসকের নামাজ পড়া যেমন স্বাভাবিক, ঠিক তেমনি একজন হিন্দু সন্ন্যাসীর আর্তমানবতার সেবা করাও সমান পবিত্র। এই পবিত্র সহাবস্থানই হলো বাংলার প্রকৃত শক্তি এবং এটিই একমাত্র পথ যা আমাদের আগামীর মুক্তির স্বাদ দিতে পারে।
রাজনীতির স্বার্থে যারা আজ ইতিহাসকে বিকৃত করতে চাইছে, তারা কি জানে না যে বাংলার এই সমন্বয়ী সংস্কৃতি কত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে? ২০২৬ সালের এই সংকটময় মুহূর্তে আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ক্ষুধার কোনো ধর্ম হয় না, শ্রমিকের ঘামের কোনো আলাদা রঙ হয় না। যখন একজন মুসলিম চিকিৎসক একজন হিন্দু রোগীর প্রাণ বাঁচান, তখন সেখানে কোনো শাস্ত্রীয় বিতর্ক থাকে না, থাকে কেবল এক পরম মানবিক সত্য। এই সত্যকেই আজ আমাদের হাতিয়ার করতে হবে সেই সব অপশক্তির বিরুদ্ধে যারা ধর্মের নামে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। বাংলার অর্থনীতি যখন ধুঁকছে, যখন শিক্ষিত যুবকেরা কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে, তখন তাদের বিভ্রান্ত করার জন্য সাম্প্রদায়িকতার বিষ গেলানো হচ্ছে। আমাদের সোচ্চার হতে হবে এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে। বিবেকানন্দের সেই 'ইসলামি শরীর ও বেদান্তীয় হৃদয়' আসলে কোনো ধর্মতাত্ত্বিক সমন্বয় নয়, বরং এটি ছিল এক সুদৃঢ় সামাজিক ও আধ্যাত্মিক কাঠামো নির্মাণের ডাক যেখানে অসাম্যের কোনো স্থান নেই। ডক্টর গুফরান আলী বা ডক্টর হ্যারিস সেপাইরা সেই কাঠামোরই এক একটি জীবন্ত স্তম্ভ।
পরিশেষে এই কথাটি অত্যন্ত কঠোরভাবে উচ্চারণ করা প্রয়োজন যে বেলুড় মঠ কেবল একটি ইট-পাথরের স্থাপত্য নয়, এটি বাংলার অজেয় আত্মার এক জীবন্ত এবং জ্বলন্ত দর্শন। ডক্টর গুফরান আলী থেকে শুরু করে স্বামী বিজ্ঞানানন্দ—সবার অবদানই বাংলার এই মহিমান্বিত ইতিহাসের এক একটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায়। এই বাংলা বিভাজনের বিরুদ্ধে এক চিরকালীন এবং আপোষহীন প্রতিবাদ। রাজনীতির স্বার্থে যারা মানুষকে ভাগ করার দিবাস্বপ্ন দেখে, তারা আসলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। তারা যদি বেলুড় মঠের এই স্থাপত্য আর সেবার মহান ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেয়, তবে ইতিহাস তারা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করবে। বাংলার এই মহামিলনের ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার ক্ষমতা কোনো অপশক্তির নেই, কারণ এটি সত্যের এক অটল হিমালয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিবেকানন্দের সেই অমোঘ বাণী—‘বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর / জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’—আজও বাংলার প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে। এই মাটিতেই সব ধর্মের মানুষ একে অপরের হাত ধরে ভাই-ভাই হিসেবে থাকবে এবং এই ঐক্যই হবে আমাদের আগামীর লড়াইয়ের মূল শক্তি।
যারা বিভাজনের বিষবাষ্প ছড়াতে চায়, তাদের পরাজয় সুনিশ্চিত, কারণ বাংলার হৃদয়ে আজ ডক্টর গুফরান আলীদের মতো মানুষেরা নীরবে মানবতার যে সুর বাজিয়ে চলেছেন, তা সমস্ত রাজনৈতিক আস্ফালনের চেয়ে কোটি গুণ বেশি শক্তিশালী। মুক্তির একমাত্র পথ হলো এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সোচ্চার হওয়া এবং বাংলার এই পবিত্র মাটির মর্যাদা রক্ষা করা। সত্যের জয় হবেই, কারণ শ্রমিকের হাত আর চিকিৎসকের সেবা কোনোদিন জাত বিচার করে না। এই সমন্বয়ই বাংলার শেষ কথা এবং আমাদের আগামীর সার্বভৌমত্বের মূল মন্ত্র। বাংলার মানুষ কোনোদিন সাম্প্রদায়িকতার কাছে মাথা নত করেনি, ২০২৬ সালেও করবে না। আমাদের ঐক্যই হবে বিভাজনকারীদের যোগ্য জবাব। আসুন, আমরা সেই সব মানুষের হাত শক্ত করি যারা নিঃশব্দে মানবতার জয়গান গাইছেন, আর উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করি—বাংলা বিভাজনের নয়, বাংলা মিলনের; বাংলা ঘৃণার নয়, বাংলা ভালোবাসার। এই মহামিলনের যজ্ঞে যদি আমরা এক হতে পারি, তবেই সার্থক হবে বিবেকানন্দের স্বপ্ন আর সুরক্ষিত হবে আমাদের বাংলার ভবিষ্যৎ। মুক্তির পথ একটাই—প্রতিবাদ,ঐক্য এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবা।বাংলা জাগছে,বাংলা জাগবেই।




 

Your Opinion

We hate spam as much as you do