আইনজীবীমহল মনে করছে, রিভিউ পিটিশন ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনও রাস্তা খোলা নেই রাজ্যের কাছে। এর আগে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মামলা বিচারাধীন বলে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে কোনও উত্তর আপনাদের কাছে দেব না। যা আমি বিধানসভায় বা ওই দিন আপনারা প্রশ্ন করেছিলেন দিয়ে দিয়েছি, বাদবাকিটা বিষয়টা বিচারাধীন, আমি বিচারাধীন বিষয়ে কোনও মন্তব্যে যাব না’।
DA ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চুপ। সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন হওয়ার সম্ভাবনা?
February 15, 2026
বকেয়া ডিএ নিয়ে জট অব্যাহত। প্রায় এক দশকের আইনি লড়াই শেষে, বকেয়া DA (Dearness Allowance) মামলায় সুপ্রিম জয় পেলেও এখনও ডিএ হাতে পাননি রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। পঞ্চম পে কমিশনের বকেয়া ডিএ মামলায় ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত জমে থাকা বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের ডিএ (DA) রায় নিয়ে বর্তমানে নানা মহলে চর্চা চলছে।
ডিএ দেওয়া নিয়ে কী বক্তব্য মূখ্যমন্ত্রীর?
সম্প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মমতা বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে আমাদের রাস্তা খোলা আছে। সুপ্রিম কোর্টও কমিটি গঠন করেছে, আমরাও কমিটি গঠন করেছি। ওঁরা এই বিষয়টা দেখে নেবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমি আর এর মধ্যে ঢুকতে চাইছি না। আইনত যেটা সম্ভব হবে সেটা দেখে নেওয়া হবে।’
আইনজীবীমহল মনে করছে, রিভিউ পিটিশন ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনও রাস্তা খোলা নেই রাজ্যের কাছে। এর আগে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মামলা বিচারাধীন বলে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে কোনও উত্তর আপনাদের কাছে দেব না। যা আমি বিধানসভায় বা ওই দিন আপনারা প্রশ্ন করেছিলেন দিয়ে দিয়েছি, বাদবাকিটা বিষয়টা বিচারাধীন, আমি বিচারাধীন বিষয়ে কোনও মন্তব্যে যাব না’।
আবার এর আগে ডিএ মামলার রায়দানের পর সেই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘রায়ের কপি রিভিউ করা হবে। আমাদের তৈরি করা এই ৫ সদস্যের কমিটি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে এবং তারা যে রিপোর্ট বা পরামর্শ দেবে সেই মতো সরকার কাজ করবে।’ ডিএ বিষয়ে আদালতের রায় পর্যালোচনা করে সমস্ত সমস্যা দূর করতে রাজ্যের মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি ৫ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে আগেই। এবার সরকার বকেয়া ডিএ মেটাবে নাকি ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবে তা বলা শক্ত।
যেহেতু বকেয়া নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য নেই সরকারের তাই রায়ের পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে। সূত্রের খবর, কোন যুক্তিতে রিভিউ পিটিশন দায়ের করা যায়, সেই বিষয়ে রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকরা আইনজ্ঞদের পরামর্শ নিচ্ছেন।
নবান্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, একাধিক যুক্তি নিয়ে সুপ্রিম দরজায় কড়া নাড়তে পারে রাজ্য। যেমন ২০০৯–এর ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯–এর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারের প্রত্যেক কর্মচারীর বেতন কাঠামো ছিল ভিন্ন। জেলা থেকে সচিবালায়ে এই কর্মচারীরা একাধিক দপ্তরে কাজ করেছেন। প্রতি বছর তাঁদের ন্যূনতম তিন শতাংশ বেতন বৃদ্ধি হয়েছে। সেই অনুযায়ী মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার পরিমাণও পরিবর্তন হয়েছে।
আরও যুক্তি, প্রতি বছর ডিএ একই হারে দেওয়া হয় না। সুতরাং সব মিলিয়ে এই বড় হিসেব–নিকেশের ক্ষেত্রে আরও সময় দরকার। আইনজ্ঞদের একাংশের মতে, রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে আপাতত কিছুটা সময় নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তবে রিট পিটিশনে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বড় কোনও হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও যে খুব কম সেটাই মনে করা হচ্ছে। এবার আসন্ন সময়ে রাজ্য কী পদক্ষেপ করবে সেটাই দেখার।
We hate spam as much as you do