Tranding

03:48 AM - 15 Apr 2026

Home / National / "বিজেপি হটাও কামধান্দা বাঁচাও" শ্রমিক বিক্ষোভে জ্বলছে যোগীরাজ‍্যের নয়ডা-মিরাট,

"বিজেপি হটাও কামধান্দা বাঁচাও" শ্রমিক বিক্ষোভে জ্বলছে যোগীরাজ‍্যের নয়ডা-মিরাট,

কারও বেতন ৯ হাজার টাকা। কারও ১৩ হাজার টাকা। কনৌজ, কানপুর কিংবা বিজনৌর, কাটিহার... নয়ডার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার একাধিক সেক্টরে সার দেওয়া হোসিয়ারি কমপ্লেক্স এরিয়ার নানাবিধ বস্ত্র কারখানার কর্মীদের কমবেশি জীবনযুদ্ধ এরকমই। বছরের পর বছর দাবি তোলা হলেও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি হয়নি। গুরুগ্রামে ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৯ হাজার টাকা। আমাদের কেন বাড়বে না? এই দাবি ছিল হাজার হাজার কর্মী, কারখানা শ্রমিকের।

"বিজেপি হটাও কামধান্দা বাঁচাও" শ্রমিক বিক্ষোভে জ্বলছে যোগীরাজ‍্যের নয়ডা-মিরাট,

"বিজেপি হটাও কামধান্দা বাঁচাও" শ্রমিক বিক্ষোভে জ্বলছে যোগীরাজ‍্যের নয়ডা-মিরাট,

১৪ এপ্রিল, ২০২৬ 


 ‘বেতন ৯ হাজার টাকা। ঘরভাড়া ৪ হাজার টাকা। ৩ কেজির যে গ্যাস সিলিন্ডারের বাজারে দাম ছিল ৯০ টাকা, সেটা কিনতে হচ্ছে ৪০০ টাকায়। গত বছর কত টাকা বেতন বেড়েছিল? ৩৯ টাকা! আমরা কি বাঁচব না?’ নয়ডার হোসিয়ারি কারখানার কর্মীদের এই প্রশ্নই গত তিনদিন ধরে ক্ষোভে পূঞ্জীভূত হচ্ছিল। সোমবার তা ঝড় হয়ে আছড়ে পড়ল যোগীরাজ্যের রাজপথে। মিরাটে আবার বুলডোজার নীতির প্রতিবাদে চারদিন ধরে চলছে ব্যবসায়ী বিক্ষোভ। সেখানকার এমপি রামায়ণ-খ্যাত অরুণ গোভিল বিক্ষোভস্থলে না আসায় রাগ আরও বেড়েছে। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে ভোট। নয়ডা থেকে মিরাটে স্লোগান উঠেছে, বিজেপি হটাও কামধান্দা বাঁচাও! উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রবিবারও বাংলায় বিজেপির হয়ে ভোটপ্রচারে এসে ‘মোদির সুশাসনের’ স্বপ্ন ফেরি করেছেন। ঠিক তখনই সুশাসনের জ্বলন্ত নমুনা দেখতে পেল গোটা ভারত!
কেমন সেই সুশাসন? কারও বেতন ৯ হাজার টাকা। কারও ১৩ হাজার টাকা। কনৌজ, কানপুর কিংবা বিজনৌর, কাটিহার... নয়ডার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকার একাধিক সেক্টরে সার দেওয়া হোসিয়ারি কমপ্লেক্স এরিয়ার নানাবিধ বস্ত্র কারখানার কর্মীদের কমবেশি জীবনযুদ্ধ এরকমই। বছরের পর বছর দাবি তোলা হলেও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি হয়নি। গুরুগ্রামে ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৯ হাজার টাকা। আমাদের কেন বাড়বে না? এই দাবি ছিল হাজার হাজার কর্মী, কারখানা শ্রমিকের। কিন্তু যোগী প্রশাসন অথবা মালিকপক্ষ কানেই নেয়নি। তার জেরে তিনদিন ধরে নয়ডায় চলছে বিক্ষোভ। কিন্তু জেলা প্রশাসনের হেলদোল ছিল না। উপায়ান্তর না দেখে কারখানা শ্রমিক, মূলত মহিলা কর্মীরা নয়ডা থেকে দিল্লির সংযোগ সড়ক রুদ্ধ করে দেয়। উত্তাল হয়ে ওঠে নয়ডা-দিল্লি সীমান্ত। নয়ডা-মিরাট রোড করিডর স্তব্ধ হয়ে যায়। ৯ নং জাতীয় সড়ক থেকে মিরাট এক্সপ্রেসও বন্ধ থাকে সারাদিন। পুলিশ প্রশাসনের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত শ্রমিকরা। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে উৎপাদন ইউনিট। সংঘর্ষ হয় তীব্র। সকাল থেকে রাস্তা আটতে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে মানুষ। 
মিরাটে আবার ৮৬ বছরের পুরানো সেন্ট্রাল মার্কেটে বুলডোজার চালানোর প্রতিবাদে রাস্তায় অবস্থান বিক্ষোভ করছেন ব্যবসায়ীরা। সেন্ট্রাল মার্কেট পুরোপুরি স্তব্ধ। আবাসন উন্নয়ন বোর্ডের বিল্ডিংয়ে কোনো বাণিজ্য কমপ্লেক্স রাখা যাবে না—এই মর্মে অভিযানে নামে জেলা প্রশাসন। আর প্রতিবাদে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি দাবি করে সরকারই ১৯৯০ সাল এই অনুমতি দিয়েছিল।
২৪ ঘণ্টা আগেই যোগী আদিত্যনাথ বাংলায় ভোটপ্রচারে এসে বলেছিলেন, ‘উত্তরপ্রদেশ ভারতের গ্রোথ ইঞ্জিনে পরিণত হয়েছে।’ সেই যোগীরাজ্যেই সাধারণ কারখানা শ্রমিকরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেছে, ‘১২ ঘণ্টা কাজ করানো হয়। কোনো ওভারটাইম নেই। মাঝেমধ্যেই মিল মালিকপক্ষ বলে, সাতদিনই কাজ করবে। একদিন ছুটি নিয়ে কী হবে?’ এদিন অবশ্য সমস্যা মেটাতে কমিটি গড়ে যোগী বলেছেন, ‘এই অশান্তি আর নৈরাজ্য সৃষ্টির পিছনে চক্রান্ত আছে।’  অখিলেশ যাদবের পালটা কটাক্ষ, ‘আপনার পুলিশের গোয়েন্দারা তাহলে কোথায় ছিল? আপনাকে সুরক্ষা দিতে বাংলায় গিয়েছিল ভোটপ্রচারে? যে মিরাটে ১৮৫৭ সালের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, সেখান থেকেই যোগীরাজের পতনের শুরু হল।’

Your Opinion

We hate spam as much as you do