আজাদির অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে দেশ আগামী পঁচিশ বছরে কেমন হবে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাণী শুনেছে জনগণ। অর্থনৈতিক অগ্রগতির রঙিন স্বপ্ন দেখানো হয়েছে দেশবাসীকে। কিন্তু দেশের বর্তমান ছবিটা ভয়াবহ। তিনি যখন ভবিষ্যতের ছবি দেখাচ্ছেন, তখন সেই অগাস্ট মাসেই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব রেকর্ড হারে বেড়েছে। সিএমআইই-র গত অগাস্ট মাসের হিসেব বলছে, দেশের যুব সমাজের প্রতি ১০০ জনে ৩৪ জন বেকার।
মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের রেকর্ড হার,কেরল সর্বনিম্ন বেকার
Sept 15, 2022
মূল্যবৃদ্ধিতে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। তার মধ্যে সামনে এল ভয়ঙ্কর তথ্য, কোভিড লকডাউন পরবর্তীতে গ্রামীণ ভারতে হু-হু করে বেড়েছে বেকারত্ব। চাকরি খুইয়ে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখে দেশের তরুণ যুবসমাজ।
তথ্য বলছে ২০২০ সালে জানুয়ারি থেকে মার্চ এই প্রথম তিনমাসে গ্রামীণ ভারতে বেকারত্বের হার ছিল ৬.৮ শতাংশ। যা কোভিড লকডাউন পরবর্তীতে বেড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। ১২.১ শতাংশ। ‘দ্য ইন্ডিয়া ডিসক্রিমিনেশন রিপোর্ট’ অনুসারে সামনে এসেছে এই তথ্য। শহরাঞ্চলের ক্ষেত্রে এই হার আরও মারাত্মক।
প্রাক কোভিড কালে এই হার ছিল ৯ শতাংশের কাছাকাছি যা কোভিড পরবর্তীতে বেড়ে হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশের কাছাকাছি। প্রতিবেদন অনুসারে বলা হয়েছে, গ্রামীণ এলাকায়, বেকারত্বের সামগ্রিক হার ১০.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ২২.২ শতাংশ। শহুরে এলাকায় এই হার আরও উদ্বেগজনক, ১৫ শতাংশ থেকে ৫০.৩ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে সমীক্ষায় দেখে গিয়েছে সংখ্যালঘু অথবা আদিবাসী সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বেকারত্বের সামগ্রিক হার সাধারণ শ্রেণির চেয়ে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেশি।
অক্সফামের প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে যে ২০২০ সালের এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে পুরুষদের কর্মসংস্থান হ্রাসের মধ্যেও মহিলাদের কর্মসংস্থানে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হরিয়ানার, যেখানে বেকারত্বের হার ৩৪.৫ শতাংশে পৌঁছেছে, তারপরে রয়েছে রাজস্থান ২৮.৮ শতাংশ। বেকারত্বের হার বৃদ্ধির কারণ হল কাজের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের হার খুবই কম।
এর পাশাপাশি সরকারের জন্য বড় ধাক্কা। জুন মাসে দেশে বেকারত্বের হার বেড়েছে। জুন মাসে দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৮০ শতাংশে। কৃষি খাতে ১.৩ কোটি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন, যার কারণে বেকারত্ব বেড়েছে। সিএমআইই তথ্য প্রকাশ করে এ কথা জানিয়েছে।
সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি , CMIE তথ্য অনুসারে, গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের হার জুন মাসে বেড়ে হয়েছে ৮.৩ শতাংশ। যা মে মাসে ছিল ৭.৩০ শতাংশ । শহরাঞ্চলে, পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল এবং বেকারত্বের হার ৭.৯ শতাংশে রেকর্ড করা হয়েছে, যা মে মাসে ছিল ৭.১২ শতাংশ। গত জুনে পরিসংখ্যান অনুযায়ী চাকরি কমেছে ১.৩ কোটি। বেকারত্ব বেড়েছে প্রায় ৩০ লাখ।
আজাদির অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে দেশ আগামী পঁচিশ বছরে কেমন হবে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাণী শুনেছে জনগণ। অর্থনৈতিক অগ্রগতির রঙিন স্বপ্ন দেখানো হয়েছে দেশবাসীকে। কিন্তু দেশের বর্তমান ছবিটা ভয়াবহ। তিনি যখন ভবিষ্যতের ছবি দেখাচ্ছেন, তখন সেই অগাস্ট মাসেই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেকারত্ব রেকর্ড হারে বেড়েছে। সিএমআইই-র গত অগাস্ট মাসের হিসেব বলছে, দেশের যুব সমাজের প্রতি ১০০ জনে ৩৪ জন বেকার। ওই রিপোর্ট অনুসারে অগাস্টে বেকারির হার ছিল ৮.৩ শতাংশ। যা এক বছরে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে শহুরে বেকারের হার ৯.৭শতাংশ। গত জুলাইয়ে এই হার ছিল ৮.২১ শতাংশ। উদ্বেগের তথ্য, এই বেকারদের মধ্যে ১৫ থেকে ২৪বছর বয়সিদের পরিমাণ ৩৪ শতাংশ।
পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গ্রামীণ বেকারত্বও। গত জুলাইতে গ্রামে বেকারির হার ছিল ৬.১৪ শতাংশ। অগাস্টে তা বেড়ে হয়েছে ৭.৬৮ শতাংশ। দেশের বেকারত্বের হার সবথেকে বেশি হরিয়ানায়। সেখানে এই হার ৩৭.৩ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে জম্মু কাশ্মীর (৩২.৮ শতাংশ)। তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজস্থান (৩১.৪ শতাংশ)। তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ ও পঞ্জাবে (৭.৪ শতাংশ) বেকারত্ব, সবচেয়ে কম বেকার রয়েছে কেরলে, ৬ শতাংশ।
দেশের সর্বাধিক কর্মসংস্থান হয় উৎপাদন শিল্পে। সেই ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার কমায় কর্মরতদের কাজ খোয়ানোর আশঙ্কা প্রবল বলেই পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। সিএমআইইর অধিকর্তা মহেশ ব্যাসের মতে, বাজারে চাহিদা না বাড়ায় শিল্পে উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। যার জেরে কাজ হারাচ্ছে শিল্প শ্রমিক। তিনি জানান, জুন মাসে উৎপাদন শিল্পে কাজ হারিয়েছে ৪৩ লক্ষ শ্রমিক। জুলাইতে আরও ২ লক্ষ শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে। শুধু উৎপাদন শিল্পে নয়, তথ্য প্রযুক্তি শিল্পেও গত জুন মাসে ৮ লক্ষ লোক কাজ হারিয়েছে। একদিকে কল-কারখানায় উৎপাদনে ধাক্কা, অন্যদিকে তথ্য প্রযুক্তিতে ছাঁটাই বৃদ্ধি ও নতুন নিয়োগ কমে যাওয়ায় দেশে সামগ্রিক বেকারত্ব ভয়ঙ্কর আকার নিতে চলেছে।
We hate spam as much as you do