Tranding

04:19 PM - 22 Mar 2026

Home / National / প্রতিবাদ প্রতিরোধের ঢেউএ নাকাল কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব আইন এখুনি প্রণয়নে সাহস পাচ্ছে না, তবে বাতিল হয়নি।

প্রতিবাদ প্রতিরোধের ঢেউএ নাকাল কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব আইন এখুনি প্রণয়নে সাহস পাচ্ছে না, তবে বাতিল হয়নি।

কেন্দ্রের সিএএ এবং এনআরসি-র প্রসঙ্গ যখনই উঠেছে তখনই বিরোধীতা চরম আকার নিয়েছে। আবার কেন্দ্র কখনই এই বিরোধীতাকে প্রাধান্য না দিয়ে বারংবার তাঁদের সিদ্ধান্তেই অনড় থেকেছে যে সিএএ কার্যকরী হবে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আগামী বছর দেশের পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৪ সালে লোকসভা, এই কথা ভেবেই কী কেন্দ্র সিএএ আইন প্রয়োগ করতে কুণ্ঠিত।

প্রতিবাদ প্রতিরোধের ঢেউএ নাকাল  কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব আইন এখুনি প্রণয়নে সাহস পাচ্ছে না, তবে বাতিল হয়নি।

 প্রতিবাদ প্রতিরোধের ঢেউএ নাকাল 
কেন্দ্রীয় সরকার নাগরিকত্ব আইন এখুনি প্রণয়নে সাহস পাচ্ছে না, তবে বাতিল হয়নি।

 

গনতন্ত্রে প্রতিবাদ এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অবশ্যই সাধারন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে। আজ তাই দেখা যাচ্ছে। গনমাধ্যমের একাংশ যে মোদী সরকারকে সর্বশক্তিমান প্রমান করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে তা এখন অনেকটাই স্থিমিত। দেশজুড়ে মোদী শাহ বিরোধিতার পারদ চড়ছে। 

বিজেপি সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসে যে কটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার মধ্যে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশ বারবারই বিরোধিতায় উত্তাল হয়েছে । প্রায় দু’বছর আগে তৈরী হওয়া এই আইনটিকে বিরোধী আন্দোলনের জেরে প্রণয়ন করতে পারেনি কেন্দ্র। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে সিএএ সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি এখনও ঠিক হয়নি, এর জন্য আরও ছয় মাস সময় চাই। অর্থাৎ যে আইন নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে গত দু’বছর ধরে প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলে আসছে গোটা দেশে, সেই সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রণয়ন পিছিয়ে গেল। পাশাপাশি, সারা দেশে ন্যাশানাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস বা NRC চালু করার কোনো পরিকল্পনা নেই কেন্দ্রীয় সরকারের। 

পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসা অমুসলিম সংখ্যালঘু নাগরিকদের নাগরিকত্ব দিতে CAA চালু করে কেন্দ্র। আইনে বলা হয়েছিল, ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, পারসি এবং খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। নাগরিকত্বের জন্য নিজের এবং বাবা-মায়ের জন্মের প্রমাণপত্র দিতে হবে। কোনও কারণে তা না দিতে পারলে ভারতে ছ’বছর বসবাসের পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন জানাতে পারবেন তাঁরা। আইন সামনে আসা মাত্রই ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেশের একাংশ। বিরোধী পক্ষ থেকে বলা হয়, NRC এবং CAA ব্যবহার করে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নিশানা করতেই এই আইন এনেছে কেন্দ্র। উল্টোদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী অসমে এনআরসি প্রযুক্ত হয়েছে। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সারা দেশে এনআরসি চালু করার কথা ঘোষণা করেছিল। অসমে এনআরসি-র ফলে কয়েক লক্ষ মানুষ নাগরিকত্বের অধিকার হারায়।   


এই মুহূর্তে দেশজুড়ে এনআরসি প্রয়োগ হবে না এবং সিএএ আপাতত মুলতবী থাকবে, কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ আছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ। তবে বাতিল হয়নি। এখনও যদিও কেন্দ্রের তরফে বলা হয়নি যে সিএএ প্রণয়ন হবে না। কিছু মাস সময় চাওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রের সিএএ এবং এনআরসি-র প্রসঙ্গ যখনই উঠেছে তখনই বিরোধীতা চরম আকার নিয়েছে। আবার কেন্দ্র কখনই এই বিরোধীতাকে প্রাধান্য না দিয়ে বারংবার তাঁদের সিদ্ধান্তেই অনড় থেকেছে যে সিএএ কার্যকরী হবে।  রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আগামী বছর দেশের পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, ২০২৪ সালে লোকসভা, এই কথা ভেবেই কী কেন্দ্র সিএএ আইন প্রয়োগ করতে কুণ্ঠিত। কারণ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতেই সিএএ আর এনআরসি নিয়ে বেশী বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তাছাড়া এতদিন আগে উদ্ভুত আইনের নিয়মনীতি ঠিক না হওয়াকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না অনেকেই। 


পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে NRC - CAA ইস্যু বেশিরভাগ যায়গায় বিজেপির বিরুদ্ধে গেছে। তৃণমূলের পক্ষে ভোট সম্মিলিত হতে সাহায্য করেছে। 


বিরোধীরা মনে করছে, তাঁদের প্রতিবাদ সফল হয়েছে, আইন প্রণয়নে ভয় পাচ্ছে কেন্দ্র। তবে, যেহেতু আগামী বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন হতে চলেছে তাই দেশের কোথাও যদি এই মুহূর্তে বিতর্ক জন্ম নেয়, সেটাকেই হাতিয়ার করে বিজেপিকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে বিরোধীরা। অনেকে যদিও বলছেন, কেন্দ্র আর লোকসভা নির্বাচনের আগে কিছুই আনবে না। ফলে কেবলমাত্র নির্বাচনকে মাথায় রেখেই সিএএ পিছিয়ে দেওয়া হয়নি তো, প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক মহল। পাশাপাশি, এনআরসি সারা দেশে প্রয়োগ হবে না। অথচ পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, একদম শুরুতে এনআরসি, সিএএ নিয়ে কখনোই সুর নরম করেনি কেন্দ্র, বরং বারবার জোর দিয়ে বলা হয়েছে আইন বাস্তবায়িত হবেই, তাহলে এখন যত দিন যাচ্ছে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কেন্দ্রের । তবে, এনআরসি না হলেও NPR (national population resister) বা এনপিআর করা হবে এমন কথাই জানিয়েছে কেন্দ্র। 

Your Opinion

We hate spam as much as you do