১৯৫২ সালের ডেনমার্কের সেনা-আইন অনুযায়ী, দখলকারী হামলা চালানোর চেষ্টা করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষা না-করে পাল্টা গুলি চালাবে সামরিক বাহিনী। তার পরে হামলাকারীর উদ্দেশ্য কিংবা প্রত্যাঘাতের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে সেনা। সম্প্রতি ডেনমার্কের একটি সংবাদমাধ্যমকে সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ৭৪ বছরের এই নিয়ম এখনও বলবৎ রয়েছে। পুরনো এই নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডেনমার্ক প্রকারান্তরে আমেরিকাকেই বার্তা দিয়ে রাখল বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্রীনল্যান্ড দখলে এলে ডেনমার্ক ট্রাম্পকে বলেছে আগে গুলি করব তারপর অন্য প্রশ্ন
০৯ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলের আওয়াজ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তা নিয়ে আমেরিকা এবং ডেনমার্কের মধ্যে চাপানউতর চলছে। এই পরিস্থিতিতে ৭৪ বছরের পুরনো একটি নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হোয়াইট হাউসকে কঠোর বার্তা দিয়ে রাখল ডেনমার্ক। স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হল, গ্রিনল্যান্ড দখল করতে গেলে ডেনমার্কের সেনা আগে গুলি চালাবে, তার পরে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে।
১৯৫২ সালের ডেনমার্কের সেনা-আইন অনুযায়ী, দখলকারী হামলা চালানোর চেষ্টা করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতির অপেক্ষা না-করে পাল্টা গুলি চালাবে সামরিক বাহিনী। তার পরে হামলাকারীর উদ্দেশ্য কিংবা প্রত্যাঘাতের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে সেনা। সম্প্রতি ডেনমার্কের একটি সংবাদমাধ্যমকে সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ৭৪ বছরের এই নিয়ম এখনও বলবৎ রয়েছে। পুরনো এই নিয়মের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডেনমার্ক প্রকারান্তরে আমেরিকাকেই বার্তা দিয়ে রাখল বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘ দিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তাদের গ্রিনল্যান্ডের দখল নেওয়া প্রয়োজন। এর ফলে মেরু অঞ্চলও সুরক্ষিত থাকবে বলে দাবি হোয়াইট হাউসের। গত রবিবার আরও এক বার নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, “আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এখন এটা কৌশলগত ব্যাপার।” ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত মন্তব্যের পরেই গর্জে উঠেছিলেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডরিকসেন। ট্রাম্পকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন। সোমবার আরও এক ধাপ এগিয়ে নেটোর ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “আমেরিকা যদি নেটোর অন্য কোনও সদস্যরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে, তা হলে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে।” প্রসঙ্গত ডেনমার্কও আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট নেটোর সদস্য।
ডেনমার্কের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ৫৬ হাজার জনসংখ্যার ‘বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ’ প্রায় ৩০০ বছর ধরে কোপেনহাগেন (ডেনমার্কের রাজধানী)-এর নিয়ন্ত্রণে। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনা ও উন্নয়ন সংক্রান্ত দায়িত্ব দ্বীপটির স্বায়ত্তশাসিত কর্তৃপক্ষ পালন করেন। আর বিদেশ এবং প্রতিরক্ষানীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি নেয় ডেনমার্ক সরকার। দ্বিতীয় দফায় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে ট্রাম্প গত এক বছরে একাধিক বার গ্রিনল্যান্ড দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ করতে বিকল্প পথ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে আমেরিকা। লক্ষ্য অর্জন করতে মার্কিন সামরিক বাহিনী যে সব সময় তাঁর প্রথম পছন্দ, তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এই পরিস্থিতিতে গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়েছে ব্রিটেন, জার্মানি, ফ্রান্সের মতো নেটোর অন্য সদস্যরাষ্ট্রগুলি।
We hate spam as much as you do