শুক্রবার দুপুরে উত্তর দিল্লির রোহিণী আদালতে কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দ্র গোগি(৩৭)-কে আনা হয়। সেখানে তাঁকে কাঠগড়ায় তুলতেই খুব কাছ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরাও গুলিবিদ্ধ হয়। ওই গ্যাংস্টার সহ কমপক্ষে তিন জনের ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে।
আদালতের ভিতরেই গ্যাংস্টারের তাণ্ডব, এলোপাথাড়ি গুলিতে মৃত্যু গ্যাংস্টার সহ ৫ জনের
ভারতবর্ষের রাজধানী দিল্লির রোহিণী আদালত চত্বর সাক্ষী থাকল গ্যাংওয়ারের। বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর দুই আততায়ীর গুলিতে মৃত দাগী মাফিয়া জিতেন্দর মান অরফে গোগী। জানা গিয়েছে, শুক্রবার বেলার এই ঘটনার নেপথ্যে জেলবন্দি মাফিয়া সুনীল অরফে তিল্লু তাজপুরিয়া।
রাজধানীর আদালতের ভিতরেই তাণ্ডব চালালো গ্যাংস্টাররা । শুক্রবার দিল্লির রোহিণী আদালতে মামলার শুনানি চলাকালীন হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। এলোপাথাড়ি গুলিতে ৩৭ বছরের জিতেন্দ্র গোগি(Jitendra Gogi) সহ কমপক্ষে ৩ জনের মৃত্যু হল। অন্যদিকে পুলিশের গুলিতেও ২ আততায়ীর মৃত্যু হয়েছে।
সুত্রের খবর শুক্রবার দুপুরে উত্তর দিল্লির রোহিণী আদালতে কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দ্র গোগি(৩৭)-কে আনা হয়। সেখানে তাঁকে কাঠগড়ায় তুলতেই খুব কাছ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরাও গুলিবিদ্ধ হয়। ওই গ্যাংস্টার সহ কমপক্ষে তিন জনের ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে।
আদালতে প্রবেশের জন্য কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পার করে ঢুকতে হয়। তবে পুলিশের নজর এড়িয়ে কীভাবে আদালতের ভিতরে অস্ত্র নিয়ে ঢুকে পড়ল গ্যাংস্টাররা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আপাতভাবে মনে করা হচ্ছে, জিতেন্দ্র গোগি(Jitendra Gogi)-র প্রতিপক্ষ গ্যাং-ই এই হামলার পিছনে রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আইনজীবীদের পোশাকে আততায়ীরা ঢুকে পড়েছিল। গোগীকে আদালতের ২০৬ নম্বর রুমে এনে এজলাসে তুলতেই তাঁকে সামনে থেকে গুলি করে দুষ্কৃতীরা। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। দুই দুষ্কৃতীরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত হয়েছেন এক মহিলা আইনজীবী।
জিতেন্দ্র গোগী মূলত দিল্লির বাইরে পানিপথ ও হরিয়ানার আশেপাশে নানা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চালাতেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১৯টি খুন ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।
তিনি তিহার জেলে বন্দি ছিলেন। দিল্লি পুলিশের কমিশনার রাকেশ আস্থানা জানিয়েছেন সবথেকে বড় প্রতিপক্ষ টিল্লু তাজপুরিয়ার গ্যাংই এই হামলা চালিয়েছে।
জিতেন্দ্র গোগির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের পুলিশ। আততায়ীর গুলিতে দুই পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি চলে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার ছিলেন মেধাবী ছাত্র জিতেন্দ্র ও কুলদীপ ফাজা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরে তাঁরা সমাজবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। প্রচুর টাকার মালিক হয়ে যায়। ধীরে ধীরে দিল্লির বাইরের অংশে নিজেদের বড় একটি দল তৈরি করে। প্রায় ৫০ জন তাঁর দলে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। বেশ কয়েক বছর ধরেই গোগিকে খুঁজছিল পুলিশ। কেবল গোগির উপরই দিল্লি পুলিশ ৪ লক্ষ টাকা এবং হরিয়ানা পুলিশ ২ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
দুই বছর আগেই গুরুগ্রাম থেকে গোগি ও তাঁর সহকারী কুলদীপ ফাজ়াকে গ্রেফতার করে স্পেশাল সেল। তাদের তিহার জেলে রাখা হয়েছিল, কিন্তু গত ২৫ মার্চ পুলিশ হেফাজত থেকেই পালিয়ে যায় কুলদীপ।
We hate spam as much as you do