Tranding

06:57 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / ত্রিপুরায় সিপিএম প্রার্থীকে কুপিয়ে খুন করল বিজেপি দুষ্কৃতীরা অভিযোগ

ত্রিপুরায় সিপিএম প্রার্থীকে কুপিয়ে খুন করল বিজেপি দুষ্কৃতীরা অভিযোগ

অভিযোগ, শাসক দল বিজেপি সমর্থক দুষ্কৃতীরা ঠান্ডা মাথায় তাঁকে কুপিয়ে মৃত ভেবে চোত্তাখলা বাজারে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। গভীর রাতে অর্ধমৃত অবস্থায় আগরতলার জিবি হাসপাতালে এনে ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও শনিবার দুপুরেই মৃত্যু হয় তাঁর। বাদল শীল হত্যার প্রতিবাদে রবিবার ১২ ঘন্টার ত্রিপুরা বনধ ডেকেছে রাজ্য বামফ্রন্ট কমিটি।

ত্রিপুরায় সিপিএম প্রার্থীকে কুপিয়ে খুন করল বিজেপি দুষ্কৃতীরা অভিযোগ

ত্রিপুরায় সিপিএম প্রার্থীকে কুপিয়ে খুন করল বিজেপি দুষ্কৃতীরা অভিযোগ 

 ১৩ জুলাই ২০২৪


সমীর ধর, আগরতলা: ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পেশ করে বাড়ি ফিরেই নৃশংসভাবে খুন হলেন সিপিএমের দক্ষিণ জেলা পরিষদ প্রার্থী, দলের বিলোনিয়া বিভাগীয় কমিটির নেতা বাদল শীল। অভিযোগ, শাসক দল বিজেপি সমর্থক দুষ্কৃতীরা ঠান্ডা মাথায় তাঁকে কুপিয়ে মৃত ভেবে চোত্তাখলা বাজারে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। গভীর রাতে অর্ধমৃত অবস্থায় আগরতলার জিবি হাসপাতালে এনে ভেন্টিলেশনে রাখা হলেও শনিবার দুপুরেই মৃত্যু হয় তাঁর। বাদল শীল হত্যার প্রতিবাদে রবিবার ১২ ঘন্টার ত্রিপুরা বনধ ডেকেছে রাজ্য বামফ্রন্ট কমিটি। 

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, কাপুরুষ বিজেপি জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরার ৬১ শতাংশ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন। লোকসভা নির্বাচনে কী করে ওরা ৭১ শতাংশ ভোট পেয়েছে সবাই জানেন। শুক্রবার বিলোনিয়ার রাজনগর ব্লকে বামেদের দেড়শো প্রার্থীকে নিয়ে মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার পথে আক্রান্ত ও আহত হন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমন্ডলী সদস্য সুধন দাস সমেত ১৫-২০ জন কর্মী। তাঁদের মধ্যে বাদলবাবুও ছিলেন। তিনি আগেই বিলোনিয়াতে জেলাশাসকের অফিসে গিয়ে দক্ষিণ জেলা পরিষদের ৪ নম্বর আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন। রাজনগরে হামলার ভিডিওতে স্পষ্ট, পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনা দেখেছে। আক্রান্ত বাম নেতা কর্মীরা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান। বাড়ি ফিরে দোকানে ওষুধ আনতে গিয়ে খুন হন ছাঁটাই হওয়া ১০ হাজারের ৩২৩ শিক্ষকের একজন বাদল।

এদিকে, শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন চৌধুরী কমলপুর ও দুর্গাচৌমুহনি ব্লকে মনোনয়ন ঘিরে দলের শতাধিক নেতা কর্মীর আহত হওয়া সম্পর্কে নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, মোট ৩৫টি ব্লকের ২৩টিতেই মনোনয়ন দিতে গিয়ে বিরোধীরা আক্রান্ত হয়েছেন। ব্লকে পুলিশ থাকলেও সেখানে যাওয়ার সব পথ আটকে রাখছে সশস্ত্র বিজেপি দুষ্কৃতীরা। ১১ জুলাই শুরু থেকেই মনোনয়ন দাখিল পর্ব ব্যাপক হিংসার সাক্ষী। উদয়পুরে কংগ্রেস অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে। বিশালগড়ে কংগ্রেস নেতা টিটু আহমেদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সিপিআইএমএল নেতা পার্থ কর্মকার আক্রান্ত হয়েছেন।

জিতেন আরও বলেন, দিনদুপুরে রাজ্যে অন্ধকার নামিয়ে এনেছে বিজেপি। গণতন্ত্রে ওদের একবিন্দু বিশ্বাস নেই। ২০১৯ সালে তিন স্তর পঞ্চায়েতে ৯৪ শতাংশ আসনে আর কোনও প্রার্থীকে ওরা দাঁড়াতে দেয়নি। আবার একটা কলঙ্কিত অধ্যায় রচনা করতে চাইছে ওরা। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার শরদিন্দু চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করে জিতেন্দ্র, নারায়ণ কর, মানিক দে, রাধাচরণ দেববর্মারা এদিন ২৫ জুলাই অবধি মনোনয়ন পেশের সুযোগ দাবি করেছেন।

এদিকে, বিজেপি দল এখনও তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেনি। বিভিন্ন স্থানে টিকিট নিয়ে দলের ভেথরে মারপিট চলছে বলেও খবর। অন্যদিকে, বিরোধী পার্টি অফিস ও নেতাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, মনোনয়ন পেশে বাধা, পুলিশের সামনেই লাঠিসোটা ও ধারাল অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ ও রক্তাক্ত করা-সহ মনোনয়নপত্র ছিনতাইয়ের প্রচুর ভিডিওতে সামাজিক মাধ্যম ছেয়ে যাচ্ছে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do