Tranding

04:26 AM - 10 Feb 2026

Home / National / CPIM এর অভিযোগ "SIR মামলার পিটিশনকারি মমতা নন" মূল মামলাকারী মোস্তারি আজ সুপ্রিম কোর্টে

CPIM এর অভিযোগ "SIR মামলার পিটিশনকারি মমতা নন" মূল মামলাকারী মোস্তারি আজ সুপ্রিম কোর্টে

অন্যদিকে, মুজতারি বানু বলেন, "2002 সালের তালিকায় আমার নাম ছিল। ভোটও দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক নিয়ে। বিজেপি-তৃণমূল মিলে সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক অংশের মানুষকে হেনস্তা করছে বিভিন্ন ভাবে। পরিযায়ী শ্রমিকরা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই হয়রানির বিরুদ্ধেই আমার মামলা।"

CPIM এর অভিযোগ "SIR মামলার পিটিশনকারি মমতা নন" মূল মামলাকারী মোস্তারি আজ সুপ্রিম কোর্টে

CPIM এর অভিযোগ "SIR মামলার পিটিশনকারি মমতা নন" মূল মামলাকারী মোস্তারি আজ সুপ্রিম কোর্টে 

February 9, 2026 


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে  পিটিশন চুরির অভিযোগ তুলেছে সিপিআইএম৷ তাদের দাবি, ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মূল মামলাটি করেছিলেন সিপিআইএম -এর সদস্য মুজতারি বানু৷
মোস্তারির স্বামী কামাল হোসেন ২০২১-এ ভগবানগোলা কেন্দ্রে সিপিআইএমের প্রার্থী ছিলেন। এসআইআর-মামলার শুনানির সময়ে মোস্তারি যাতে আজ সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত থাকতে পারেন, সে জন্য তাঁর দিল্লি-যাত্রা, আইনজীবী দেওয়া-সহ যাবতীয় ব্যবস্থা করেছে দলই।

সেই মামলায় পার্টি হয়ে সেদিন কৃতিত্ব নিতে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেই কারণে আজ সোমবার এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে মুজতারি বানুকে শীর্ষ আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে, বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছিল সিপিআইএম৷

উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছিল যে এসআইআর নিয়ে মামলা করে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়৷ বুধবার এই মামলার শুনানি হয়৷ সেই শুনানিতে আদালতে হাজির ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে৷ বিচারপতির অনুমতি নিয়ে নিজের বক্তব্যও পেশ করেন তিনি৷ কিন্তু বুধবারই সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী দাবি করেছিলেন, মমতা আসলে তাঁদের তরফে দায়ের করা মামলায় পার্টি হয়েছেন৷


এই বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করে সিপিআইএম৷ সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্য়ায়৷ জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার সীমান্তবর্তী গ্রামের সাধারণ গৃহবধূ মুজতারি বানু। তিনি সিপিআইএম পার্টির সদস্য। সিপিআইএমের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের হয়রানি নিয়ে এই মুজতারি বানু প্রথম মামলা করেছিলেন। তাঁর আইনি লড়াই লড়ছেন আইনজীবী তথা সিপিআইএম নেতা সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়।

তিনি বলেন, "এসআইআর ঘোষণার পর কলকাতা হাইকোর্টের একজন আইনজীবী প্রথম হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। এসআইআর-এর এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। বিহারে এসআইআর-এর সময় যে তৃণমূলের সাংসদরা মামলা করলেন, এখন তাঁরা চুপ। রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা আদালতে মানুষের হয়রানি নিয়ে শুনানিতে কোনও কথা বলছে না।’’

আইনজীবী চট্টোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘‘রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতারা নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষজনকে বেনাগরিক করার ভয় দেখাচ্ছেন এবং সেই কাজ করছেন। দেশে এনআরসি চালু হওয়ার আগেই 2015 সালে হাওড়া পুরনিগমের তৎকালীন মেয়র এখন বিজেপির নেতা রথীন চক্রবর্তী এনপিআর-এর কাজ করিয়ে ছিলেন।"

সিপিআইএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, "সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়ে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার মুখে মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে রাজ্যে এসআইআর আক্রান্তদের প্রতিনিধি হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আমরা প্রথম মামলা করি। তারপর রাজ্য কোর্টে যায়। নোটিশ পাঠিয়ে মানুষকে যেভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, তা নিয়েও আমরা মামলা করেছি। মুজতারি বানু মামলা করেছেন। মমতা এখন পিটিশন চুরি করেছে। মমতা মুখে বলেছে সে এসআইআর-এর বিরোধী, কিন্তু কেরালা, তামিলনাড়ুর মতো বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে কোনও নিন্দা প্রস্তাব আনল না।"

অন্যদিকে, মুজতারি বানু বলেন, "2002 সালের তালিকায় আমার নাম ছিল। ভোটও দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে বয়সের ফারাক নিয়ে। বিজেপি-তৃণমূল মিলে সংখ্যালঘু এবং প্রান্তিক অংশের মানুষকে হেনস্তা করছে বিভিন্ন ভাবে। পরিযায়ী শ্রমিকরা সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই হয়রানির বিরুদ্ধেই আমার মামলা।"

আজ এই মামলার শুনানিতে মমতা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় উপস্থিত থাকবেন না।  মূল আবেদনকারী মোস্তারি বানু, ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, শুভঙ্কর সরকার, জয় গোস্বামী সহ সনাতনী সংসদের মামলারাও একইসঙ্গে শুনানি হবে। বেঞ্চে দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সঙ্গে বিচারপতি জয়মাল্য‌ বাগচী থাকলেও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলি থাকছেন না। পরিবর্তে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে বসবেন বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়া। আদালতে কী হয়, সেদিকে নজর থাকবে।

Your Opinion

We hate spam as much as you do