জানা যাচ্ছে, দলুয়াখাকি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির মহিলাদের সঙ্গে আজ দলীয় অফিসে কথাবার্তা বলেন সিপিএম নেতার। তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন। এরপর ওই মহিলাদের নিয়ে সিপিএমের এক প্রতিনিধিদল দলুয়াখাকি গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরই মধ্যে মাঝপথে সিপিএমের প্রতিনিধি দলকে আটকে দেয় পুলিশ। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বাম নেতারা। বাম নেতৃত্বও সিদ্ধান্তে অনড়, এদিকে পুলিশও তাঁদের এগতে দিতে রাজি নয়।
জয়নগরে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে কান্তি, সুজনদের পুলিশি বাধা ধস্তাধস্তি
Nov 14, 2023
জয়নগরের দলুয়াখাকি গ্রাম সিপিআইএম প্রতিনিধি দল ঢোকার চেষ্টা করতেই তুলকালাম কাণ্ড। পুলিশের বাধার মুখে পড়েন সুজন চক্রবর্তী, কান্তি গঙ্গোপাধ্য়ায়রা। পুলিশের সঙ্গে কার্যত ধস্তাধস্তি ও বচসায় জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। মাথায় হেলমেটধারী পুলিশকর্মীদের সঙ্গে ঠেলাঠেলি শুরু হয় সুজন চক্রবর্তীদের। সুজন চক্রবর্তীকে পুলিশের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘কেন আটকাচ্ছেন? সব কিছুর একটা সীমা থাকা দরকার।’
বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঢোকার মুখেই পুলিশ বাধা দেয় বামেদের প্রতিনিধিদলকে। বারুইপুর পুলিশ জেলার এসডিপিও, কুলতলির আইসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল গুদামের হাট সংলগ্ন রাস্তার মোড়ে। বাম প্রতিনিধিদলের গাড়ি বামনগাছি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঢোকার মুখে পথ আটকান পুলিশকর্মীরা। এরপরই বাম নেতাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয় পুলিশের। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সুজন চক্রবর্তীরা। কিন্তু তারপর আবার ব্য়ারিকেড করে আটকে দেওয়া হয় তাঁদের। দফায় দফায় পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বাম নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা।
জানা যাচ্ছে, দলুয়াখাকি গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলির মহিলাদের সঙ্গে আজ দলীয় অফিসে কথাবার্তা বলেন সিপিএম নেতার। তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন। এরপর ওই মহিলাদের নিয়ে সিপিএমের এক প্রতিনিধিদল দলুয়াখাকি গ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরই মধ্যে মাঝপথে সিপিএমের প্রতিনিধি দলকে আটকে দেয় পুলিশ। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বাম নেতারা। বাম নেতৃত্বও সিদ্ধান্তে অনড়, এদিকে পুলিশও তাঁদের এগতে দিতে রাজি নয়।
সোমবার সকালে জয়নগরের তৃণমূল নেতা সইফুদ্দিনের খুনের পর দলুয়াখাঁকি গ্রামের একের পর এক সিপিআই(এম) কর্মী সমর্থকদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সারা রাত খোলা আকাশের নিতে থাকতে হয় গ্রামের মহিলা, শিশুদের। দক্ষিণ বারাসাতের সিপিআই(এম)’র দলীয় কার্যালয়ে আশ্রয় দেওয়া হয় তাদের। সেখান থেকে এদিন শমীক লাহিড়ী, সুজন চক্রবর্তীরা তাদের গ্রামে নিয়ে যেতে চান।
গ্রামের কাছে যাওয়ার সাথে সাথে লাঠি হাতে রাস্তা আটকায় পুলিশ। মহিলা পুলিশ ছাড়াই মহিলা গ্রামবাসীদের সড়িয়ে দিতে দেখা যায় পুলিশকে। পুলিশের দাবি তারা কাউকে আটকাচ্ছে না। অথচ সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায় দেখা গিয়েছে পুরুষ পুলিশ লাঠি দিয়ে রাস্তা আটকে দাঁড়িয়ে আছে। ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে মহিলাদের। রাস্তা আটকালে সুজন চক্রবর্তী, কান্তি গাঙ্গুলির সঙ্গে বচসা বাঁধে। দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাক্কাধাক্কি হয়।
ঘরছাড়াদের অভিযোগ যেই পুলিশ তাদের গ্রামে যেতে আটকাচ্ছে, তাদের সামনেই সোমবার সকালে আগুন ধরানো হয়। বিক্ষোভরত গ্রামবাসীদের কথায়, ‘পুলিশ আমাদের বাড়ি যেতে দিচ্ছে না। আমরা বাড়ি যেতে চাই। কাল থেকে পুলিশ গ্রামে আসেনি। আজ যেই পার্টির লোকেরা আমাদের সাথে এসেছে ওমনি রাস্তা আটকাতে পুলিশ দাঁড়িয়েছে।’
সিপিআই(এম) নেতৃত্বের কথায় দলীয় অফিসে প্রায় ৫০ জন মহিলা এবং শিশু আশ্রয় নিয়েছেন। গ্রামে আরও অনেক মানুষ আটকে রয়েছেন বলে নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ঘর ছাড়াদের নিয়ে ২৩ নভেম্বর থানা অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে নেতৃত্বের পক্ষ থেকে।
সোমবারের ঘটনার পর গ্রামের পুরুষরা গ্রাম ছাড়া। তারা কোথায় রয়েছে তা জানা নেই পরিবারের সদস্যদের। সিপিআই(এম) নেতৃত্বের পাশাপাশি গোচরনে আটকানো হয় ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীকে।
সংবাদমাধ্যমের সামনে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সুজন চক্রবর্তী। বললেন, “আমরা সব মহিলাদের নিয়ে থানায় যাব। অভিযোগ জানাব। পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে কতটা পুলিশের দায়িত্ব, আর কতটা আমাদের দায়িত্ব, সেটা বুঝিয়ে দিয়ে আসব। আমরা তিন দিন সময় দেব। তার মধ্যে কাজ না হলে, আমরা পূর্ণ শক্তি নিয়ে আসব।”.
We hate spam as much as you do