সুপ্রিয় দত্তের কথায়, ‘একজন বিধায়ক বললেন, ‘যাঁরা যাঁরা টাকা নিয়েছেন, তাঁরা ফেরত দেবেন তো?’ এমনিতেই আমি খুব যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছি। খালি মনে হচ্ছে, এটা বোধহয় আমার কাছে রাখা ঠিক নয়। খুব গ্লানিতে ভুগছি। সেই কারণেই এটা আমি ফেরত দিতে চাই। অভিনেতা হিসেবে আমার মনে হয় এটা ফেরত দিয়ে দেওয়াই উচিত। একটা নৃশংস হত্যা, মানুষ পথে নেমেছেন। এমন নয় যে আমায় এটা খুব অসম্মান করে দেওয়া হয়েছিল, সম্মান দিয়েই পুরস্কৃত করা হয়েছিল।’
কাঞ্চনের ব্যাঙ্গ -সুদীপ্তার পর রাজ্যের পুরস্কার ফেরাচ্ছেন সুপ্রিয় দত্ত
৫ই সেপ্টেম্বর ২৪
আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে সরব টলিউডের একাংশ। এই পরিস্থিতির মধ্যে রাজ্য সরকারের দেওয়া ‘বিশেষ পুরস্কার’ ফিরিয়ে দেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী সুপ্রিয় দত্ত প্রমুখ।
রবিবার এক ধর্নামঞ্চে সরকারি জুনিয়ার ডাক্তারদের বেতন-বোনাস নিয়ে কটাক্ষের পাশাপাশি অভিনেতাদেরও ব্যঙ্গ করেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক-অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক । তিনি বলেন, ‘সরকারি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েও তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে অনায়াসে পথে নামছেন।’ সোমবার তাই নিয়ে দিনভর বিতণ্ডা। কাঞ্চনকে কার্যত একঘরে করে দেন তাঁরই অভিনেতা-বন্ধুরা। রাতে অবশ্য এক ভিডিওবার্তায় প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান কাঞ্চন। কিন্তু তাতেও বরফ যে গলেনি, তার প্রমাণ হিসাবে মঙ্গলবার সকাল থেকে একে একে সম্মান-পুরস্কার ফেরাতে থাকেন শিল্পীরা। তালিকায় নাট্যকার চন্দন সেন, বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিনেত্রী সঞ্জিতা। এদিন বিকেলে তালিকায় যোগ হয় সুদীপ্তার নামও।
সুদীপ্তার কথায়, ‘কাঞ্চনের মুখ থেকে পুরস্কার নিয়ে কটাক্ষ শোনার পর থেকেই প্রচণ্ড অস্থির লাগছিল। স্বামী অভিষেক সাহাকে জানাই, পুরস্কার ফিরিয়ে দিতে চাই। ও সঙ্গে সঙ্গে রাজি। তারপরেই ঘরের যে দেওয়ালে পুরস্কারের ছবিটি ছিল, সরিয়ে দিয়েছি।’
সুদীপ্তার পর সেই তালিকাতেই নাম লেখালেন সুপ্রিয় দত্ত। বৃহস্পতিবার অর্তাৎ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে পুরস্কার ফেরালেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি পুরস্কার ফেরালেন এবার অভিনেতা-নাট্যকর্মী সুপ্রিয় দত্ত। বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও ক্ষোভের জেরেই একে একে রাজ্য সরকারের পুরস্কার ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকেই। সেই তালিকাতেই নাম লেখালেন সুপ্রিয় দত্ত। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে পুরস্কার ফেরালেন তিনি।
সুপ্রিয় দত্তের কথায়, ‘একজন বিধায়ক বললেন, ‘যাঁরা যাঁরা টাকা নিয়েছেন, তাঁরা ফেরত দেবেন তো?’ এমনিতেই আমি খুব যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছি। খালি মনে হচ্ছে, এটা বোধহয় আমার কাছে রাখা ঠিক নয়। খুব গ্লানিতে ভুগছি। সেই কারণেই এটা আমি ফেরত দিতে চাই। অভিনেতা হিসেবে আমার মনে হয় এটা ফেরত দিয়ে দেওয়াই উচিত। একটা নৃশংস হত্যা, মানুষ পথে নেমেছেন। এমন নয় যে আমায় এটা খুব অসম্মান করে দেওয়া হয়েছিল, সম্মান দিয়েই পুরস্কৃত করা হয়েছিল।’
কাঞ্চন মল্লিক, তিনি তো ইন্ডাস্ট্রির মানুষ। আজ তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে পুরস্কার ফেরাচ্ছেন বহু গুণী শিল্পী। এই প্রসঙ্গে সুপ্রিয় দত্ত বলেন, ‘সেই জন্যই আরও খারাপ লেগেছে। তাঁকে তো কোনও সেন্সর করা হচ্ছে না। এটা কীভাবে বললেন? আমি সত্যি বিস্মিত। ও দীর্ঘদিন আমার সঙ্গে কাজ করেছে। আর শুধু এটা নয়, এই যে ঘটনায় ধামাচাপ দেওয়ার চেষ্টা! তারপর উচ্চ আদালত থেকে সুপ্রিম কোর্ট, সেখানেও সুয়োমোটো দিয়ে চলে গেল, কী হচ্ছে এটা! সাধারণ মানুষ যে রাস্তায়, তাঁরা বুঝতে পেরেছেন। আমি তো একজন থিয়েটার শিল্পী, পুরস্কার নিয়ে কখনই ভাবিনি। তবে আবারও বলছি, এটা আমায় খুব ভালবেসে দেওয়া। কিন্তু কাঞ্চনের এমন মন্তব্যের পরে আমার মনে হচ্ছে এটা রাখার কোনও যৌক্তিকতা নেই।’
২০২১ সালে ২৪ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হন অভিনেতা সুপ্রিয় দত্ত। তিন বছর পেরিয়ে সেই পুরস্কার ফেরত দিলেন অভিনেতা। আরজি কর কাণ্ডের মাঝেই কাঞ্চন মল্লিকের করা মন্তব্যে হতবাক তিনি। রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে বৃহস্পতিবার তিনি জানান, এই পুরস্কার তিনি ফিরিয়ে দিতে চান। কারণ বাবদ লিখলেন, ‘কলকাতার আর জি কর হাসপাতালের নারকীয় ঘটনার পর শাসকের ভূমিকা আমায় স্তম্ভিত করেছে। শাসক এবং তার পদলেহনকারী পুলিশ-প্রশাসনের প্রতিটি পদক্ষেপ প্রমাণ করেছে সত্যকে আড়াল করতে তারা কতটা মরিয়া। এমতাবস্থায় এক কন্যা সন্তানের পিতা হিসেবে আমি ভীত, সন্ত্রস্ত। পাশাপাশি আমার বন্ধু বর্তমানে শাসকের প্রতিনিধি কাঞ্চন মল্লিকের কথায় বুঝলাম, শাসক আসলে পুরস্কার এবং সম্মানের বিনিময়ে মোসায়েব খরিদ করে। শাসক চায় একদল অমেরুদণ্ডী চাটুকারের ব্যাটেলিয়ন। কাঞ্চনবাবুর এই বিবৃতি আসলে সরকারেরই ঘোষিত (বা অঘোষিত) আদেশনামা– হয় সত্য নয় সম্মান। এমতাবস্থায় আমি সত্যের পথই বেছে নিলাম।’
We hate spam as much as you do