চীন বা মেক্সিকোর মতো একাধিক দেশ যখন আমেরিকার সঙ্গে চোখে চোখ রেখে পালটা ব্যবস্থা নিচ্ছে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত সরকার চুপ করে মেনে চলেছে আমেরিকার খবরদারি। চলতি সপ্তাহে নতুন নির্দেশ জারি করে রাশিয়ার রোজনেফট এবং লিউকঅয়েল’র মতো একাধিক সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আমেরিকা। ব্রিটেনেও গত সপ্তাহে এই দুই সংস্থার তেল আমদানির ওপর জারি করে নিষেধাজ্ঞা। যুক্তি, তেল আমদানির টাকায় রাশিয়া যুদ্ধের খরচ মেটাচ্ছে।
ট্রাম্পের চাপেই রাশিয়ার তেল আমদানি কমাচ্ছে ভারত? তেলের দাম বাড়বে।
24 Oct 2025
আমেরিকার হুমকিতে রাশিয়ার তেল আমদানির আগেই কমাতে শুরু করেছে ভারত। এবার আমেরিকা এবং ইউরোপের নতুন নিষেধাজ্ঞার জেরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ নিজের পরিশোধনাগারের জন্য দ্রুত কমাচ্ছে রাশিয়ার তেল আমদানি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী রিলায়েন্সের পাশাপাশি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন তেল সংস্থাও রাশিয়ার তেল আমদানি কমাচ্ছে।
ভারতের তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়ে নাড়াচাড়ার মাঝেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছে। আমেরিকার ‘ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস’ অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১.৮৯ ডলার বেড়ে হয়েছে ৬০.৩৯ ডলার। ‘ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ দাম সূচক ঠিক হয় নিউ ইয়র্ক মার্কেন্টাই এক্সচেঞ্জে।
সম্প্রতি আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করে দেন যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বুধবারও ট্রাম্প একই দাবি করেন প্রকাশ্যে।
ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক এর আগে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপের দাবি খারিজ করেছিল। তবে ট্রাম্প বা আমেরিকার বক্তব্যে কখনও কূটনৈতিক স্তরে আপত্তি জানায়নি।
ভারতের তেল আমদানি প্রধান উৎস বরাবর থেকেছে মধ্য প্রাচ্য। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কৌশল বদলায়। রাশিয়ার থেকে নিজেদের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং আমেরিকা। রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কম দামে ভারতের মতো একাধিক দেশকে তেল বিক্রির প্রস্তাব দেয়। দ্রুত বাড়তে থাকে রাশিয়ার থেকে ভারতের তেল আমদানি। তবে ভারতের জনতা দামের সুবিধা বিশেষ পাননি। বরং রিলায়েন্সের থেকে ঘুরপথে পরিশোধনাগার থেকে তৈরি পেট্রোপণ্য কিনেছে পশ্চিমের দেশগুলিই।
আমেরিকা এবং তার সঙ্গীদের নতুন নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, তৃতীয় কোনও দেশ রাশিয়ার তেল কিনলে শাস্তির মুখে পড়বে। ট্রাম্প বস্তুত রাশিয়ার তেল কেনার জন্য আমদানি শুল্কের বোঝা বাড়িয়ে দেন ভারতের ওপর।
চীন বা মেক্সিকোর মতো একাধিক দেশ যখন আমেরিকার সঙ্গে চোখে চোখ রেখে পালটা ব্যবস্থা নিচ্ছে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত সরকার চুপ করে মেনে চলেছে আমেরিকার খবরদারি।
চলতি সপ্তাহে নতুন নির্দেশ জারি করে রাশিয়ার রোজনেফট এবং লিউকঅয়েল’র মতো একাধিক সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আমেরিকা। ব্রিটেনেও গত সপ্তাহে এই দুই সংস্থার তেল আমদানির ওপর জারি করে নিষেধাজ্ঞা। যুক্তি, তেল আমদানির টাকায় রাশিয়া যুদ্ধের খরচ মেটাচ্ছে।
রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে চীনের ওপর খবরদারি করতে গিয়ে যদিও কড়া ধাক্কা খেয়েছেন ট্রাম্প। চীনের বিদেশ মন্ত্রক পরিষ্কার জানায় যে তাদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর হস্তক্ষেপ হলে পালটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে আমেরিকার ওপর।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন যে তেল রপ্তানির অর্থ থেকে রাশিয়া যুদ্ধের মেটাচ্ছে, এমন সরল হিসেব ঠিক নয়। তাছাড়া আমেরিকা এবং পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও রাশিয়ার তেল উৎপাদন কমেনি। তেল বাবদ রাশিয়ার আয়ও কমেনি।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত নিকট ভবিষ্যতে রাশিয়ান তেল আমদানি আরও কমাতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো নতুন করে চুক্তি পর্যালোচনা করছে যাতে রসনেফট বা লুকয়েল থেকে সরাসরি আমদানি না হয়।
তবে নয়াদিল্লি জানিয়েছে, এটি কোনও যৌথ সিদ্ধান্ত নয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক বলেছে, “আমাদের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণ স্বাধীন। এর মূল লক্ষ্য হল ভোক্তাদের জন্য স্থিতিশীল দাম ও নির্ভরযোগ্য তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা।”
এই অবস্থান সামনে এসেছে এমন সময়ে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
হোয়াইট হাউস আরও জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনায় পর্যাপ্ত আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প।
আগামী কয়েক মাসে ট্রাম্প–পুতিন বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত সেটি স্থগিত করা হয়েছে।
মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিন মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবন্ধুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এই অর্থনৈতিক চাপের কৌশল সফল হবে না। কোনও আত্মসম্মানী দেশ কখনও চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নেয় না।” পুতিন আরও দাবি করেন, এই নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলবে না এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও খারাপ করবে।
We hate spam as much as you do