সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম তার প্রেস বিবৃতিতে জানান... কলতান দাশগুপ্তের বেআইনি ও আক্রোশমূলক গ্রেপ্তারের ঘটনার আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা করছি। যে ঘটনাক্রমের মধ্য দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে 'জাস্টিস ফর আরজি কর'-এর দাবিতে ঘটমান গণআন্দোলনকে বদনাম করার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনা দিল্লিতে কৃষকদের আন্দোলনের বদনাম করার জন্য বিজেপি সরকারের পূর্বে ব্যবহৃত কৌশলগুলির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, এবং ভীমা কোরেগাঁও মামলা বা দিল্লি দাঙ্গা মামলার মতো নকল ও জাল ইলেকট্রনিক 'প্রমাণের' ভিত্তিতে আন্দোলনকারীদের মিথ্যা অভিযোগে কারারুদ্ধ করার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এই জাতীয় কৌশলগুলি আরএসএস’এর ঘৃণ্য পদ্ধতির সুপরিচিত অংশবিশেষ।
SFI-DYFI-গনতান্ত্রিক মহিলা সমিতির বিবৃতি
অডিয়ো ক্লিপ, কলতানের গ্রেপ্তার, কাঁচা চিত্রনাট্য বললেন বিকাশ ভট্টাচার্য্য
14 Sep 2024,
বিধাননগরে জুনিয়র ডাক্তারদের ধরনা মঞ্চে হামলার চক্রান্তের পরিকল্পনা করে যে অডিয়ো ক্লিপ ভাইরাল হয়েছিল তার সত্যতা পাওয়া গিয়েছে। শনিবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই দাবি করল বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট। ওই ভাইরাল অডিয়ো ক্লিপের কণ্ঠস্বরের সঙ্গে মিল থাকায় শনিবার ভোরে DYFI নেতা কলতান দাশগুপ্তকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর পুলিশ। এছাড়া আরও ৩ জনের খোঁজ চলছে বলে জানা গিয়েছে।
শুক্রবার এক অডিয়ো ক্লিপ প্রকাশ করে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ দাবি করেন, বিধাননগরে জুনিয়র ডাক্তারদের ধরনামঞ্চে হামলা চালিয়ে শাসকদলের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা চলছে। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হালতু থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি ওই যুবক অডিয়ো ক্লিপে তার কণ্ঠস্বর রয়েছে বলে স্বীকার করেছে।
অন্য কন্ঠস্বর কার তা নিয়ে স্পষ্ট করেনি পুলিশ।
এদিকে পুলিশের সাংবাদিক বৈঠকের পর বাম সাংসদ ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, অত্যন্ত কাঁচা চিত্রনাট্য। জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের থেকে নজর ঘোরাতে এসব পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুলিশের সঠিক তদন্ত করার ইচ্ছা থাকলে প্রথমে তারা কুণাল ঘোষকে গ্রেফতার করত। কুণাল ঘোষ এই অডিয়ো ক্লিপ কোথা থেকে পেলেন সেটা সবার আগে জানা দরকার। পুলিশ ও তৃণমূল মিলে একটা চিত্রনাট্য সাজানো হয়েছে।
কলতান দাশগুপ্তের গ্রেফতারিতে সুজন চক্রবর্তী একহাত নিয়েছেন শাসকদলকে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহঃ সেলিম তার প্রেস বিবৃতিতে জানান...
কলতান দাশগুপ্তের বেআইনি ও আক্রোশমূলক গ্রেপ্তারের ঘটনার আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা করছি।
যে ঘটনাক্রমের মধ্য দিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাতে 'জাস্টিস ফর আরজি কর'-এর দাবিতে ঘটমান গণআন্দোলনকে বদনাম করার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনা দিল্লিতে কৃষকদের আন্দোলনের বদনাম করার জন্য বিজেপি সরকারের পূর্বে ব্যবহৃত কৌশলগুলির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, এবং ভীমা কোরেগাঁও মামলা বা দিল্লি দাঙ্গা মামলার মতো নকল ও জাল ইলেকট্রনিক 'প্রমাণের' ভিত্তিতে আন্দোলনকারীদের মিথ্যা অভিযোগে কারারুদ্ধ করার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। এই জাতীয় কৌশলগুলি আরএসএস’এর ঘৃণ্য পদ্ধতির সুপরিচিত অংশবিশেষ।
পশ্চিমবঙ্গের শাসকরা, একই পদ্ধতির ব্যবহার করছে, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আরজি কর হাসপাতালে হিংসাত্মক আক্রমণ এবং প্রমাণ ধ্বংসের সুযোগ করে দিয়েছিল অপরাধীদের। শাসক দলের আইটি সেল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল একই ভাষায় কথা বলেছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন যে ঐ ঘটনা একটি নির্দিষ্ট সংগঠন, অর্থাৎ ডিওয়াইএফআই দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল। আজ অবধি, এই বক্তব্যের কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি, কোনও ক্ষমা চাওয়া হয়নি এবং তদন্তটিই সংবাদমাধ্যমের থেকে চেপে যাওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষনেত্রী গণআন্দোলনের বিরুদ্ধে আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স অপব্যবহারের কথা বলছেন, অথচ তাঁর দলেরই আইটি সেল ডিপফেক এবং সাজানো ক্লিপ ব্যবহারে পারদর্শিতা দেখাচ্ছে!
এটা একজন দৃঢ়চেতা তরুণ রাজনৈতিক কর্মীকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি এবং সমগ্র আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মানহানি ছাড়া আর কিছুই নয়।
আমরা কলতান দাশগুপ্তকে নিঃশর্তে মুক্তি দেওয়ার জন্য রাজ্য পুলিশের কাছে দাবি জানাচ্ছি, এবং এই ধরনের মিথ্যা জাল 'প্রমাণ' যারা তৈরি করেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য মামলা দায়ের করার দাবি জানাচ্ছি। কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের অপসারণ করা হোক এই দাবিতেও আমরা অটল আছি।
ঐক্যবদ্ধ জনগণ সর্বদা বিজয়ী হবেই!
লালবাজারের কাছে রাতভর অবস্থান থেকে ফেরার সময় ভোরবেলা কমরেড কলতান দাশগুপ্তকে তোলা হয়েছে। একজন তরুণ কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর এটা একটি স্পষ্ট ঘটনা। ভীমা কোরেগাঁও মামলায় বিজেপি সরকার যে কাজ করেছে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার সেই পথই অনুসরণ করছে।
We hate spam as much as you do