হামলার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্তত ৩০। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা সংখ্যায় ছিলেন কয়েকশো। তারা পুলিশ সুপারের দফতরে মোতায়েন র্যাফ জওয়ানদের উপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বাধে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার জন্য হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখতে গিয়ে মণিপুর পুলিশের এক সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে।
আবার উত্তপ্ত মনিপুর জেলাশাসক এসপি দফতর আক্রান্ত, নিহত ৩
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটেলিয়ন (আইআরবি)-এর চৌকির পরে এ বার উত্তাল মণিপুরে হামলা জেলা পুলিশের সদরে। বৃহস্পতিবার রাতে চূড়াচাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপারের দফতরে হামলা চালায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। অবাধে ভাঙচুরের পাশাপাশি দফতরের সামনে রাখা বহু যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। হামলা হয় পাশে জেলাশাসকের কার্যালয়েও।
হামলার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্তত ৩০। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা সংখ্যায় ছিলেন কয়েকশো। তারা পুলিশ সুপারের দফতরে মোতায়েন র্যাফ জওয়ানদের উপর হামলা চালালে সংঘর্ষ বাধে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার জন্য হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখতে গিয়ে মণিপুর পুলিশের এক সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে। সিয়ামলাল পাল নামে ওই জওয়ানও ছিলেন হামলাকারীদের দলে। তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ৩ মে জনজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ মণিপুর’
(এটিএসইউএম) -এর কর্মসূচি ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত হয়েছিল মণিপুরে। মণিপুর হাই কোর্ট মেইতেইদের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দেয়। এর পরেই জনজাতি সংগঠনগুলি তার বিরোধিতায় পথে নামে। আর সেই ঘটনা থেকেই মণিপুরের আদি বাসিন্দা মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কুকি-সহ কয়েকটি তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের সংঘাতের সূচনা হয়েছিল।
অশান্তি ঠেকাতে গত ৬ মে মণিপুরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। নামানো হয় একাধিক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। কিন্তু তার পরেও সহিংসতা থামেনি। এখনও পর্যন্ত সে রাজ্যে নিহত প্রায় দু’শো জন। আহত হাজারের বেশি। ঘরছাড়া হয়েছেন দুই জনগোষ্ঠীর ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। সম্প্রতি কুকি জনগোষ্ঠীর জঙ্গি সংগঠনগুলি ধারাবাহিক ভাবে মণিপুর পুলিশ এবং আধাসেনার উপর হামলা শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার রাজধানী ইম্ফলের চিঙ্গারেল-তেজপুরে আইআরবি-র একটি চৌকিতে হামলা চালায় সশস্ত্র জনতা। চৌকিতে মোতায়েন জওয়ানরাও পাল্টা গুলি চালান। সংঘর্ষে এক জন নিহত হন।
We hate spam as much as you do