বীজপুরে তৃণমূলের সুবোধ বনাম বামপ্রার্থী দেবাশীষ, লালপার্টির জয়ের সম্ভাবনা, বিজেপি নো ফ্যাক্টর
বীজপুরে তৃণমূলের সুবোধ বনাম বামপ্রার্থী দেবাশীষ, লালপার্টির জয়ের সম্ভাবনা, বিজেপি নো ফ্যাক্টর
১৭ এপ্রিল ২০২৬
এবারের ভোটে উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর বিধানসভা একটি উল্লেখযোগ্য লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের বিধায়ক সুবোধ অধিকারী ও বিজেপির নতুন প্রার্থী সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে সিপিএমের দেবাশীষ রক্ষিত ওরফে ববি কট্টর লড়াইয়ের জায়গায় চলে গেছেন।
বীজপুর বিধানসভা ছিল একসময় ব্যারাকপুর লোকসভায় বামপন্থীদের ট্রাম্প কার্ড। বীজপুর থেকে বিপুল লিড নিয়ে বারবার তড়িৎ তোপদার ব্যারাকপুরের সাংসদ হয়েছেন। বারবার বীজপুর থেকে শক্ত প্রার্থী হয়েই জিতেছেন বামপন্থী প্রার্থীরা।
কিন্তু সময়ের অভিঘাতে ২০১১ থেকে বামপন্থীরা জয়ী হননি। বীজপুরেরই তৃণমূলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা পরবর্তীকালে বিজেপিতে যুক্ত হওয়া মুকুল রায়ের রাজনৈতিক কর্মস্থল। যে মুকুল রায় বছর কয়েক আগেই নিজের অজান্তেই বলে ফেলেছিলেন তৃণমূল এবং বিজেপি আসলে একই।
দীর্ঘ সময় মুকুল রায়ের সাথে তৃণমূলের দূরত্ব তৈরি হয় এবং তিনি বিজেপি হয়ে যান। তার ছেলে শুভ্রাংশু বীজপুর থেকে দুবার তৃণমূল বিধায়ক হয় কিন্তু ২০১৯ এর পর সে বিজেপিতে যুক্ত হয় এবং তারপর ২০২১ এ বিজেপি প্রার্থী হয়ে হেরে যায়। বীজপুর জুড়ে বিরোধী রাজনীতি করার ক্ষেত্রে মুকুল রায়ের একটি প্রভাব আছে। সেই প্রভাব এ বছর নির্বাচনে তার অনুগামীদের অনেকাংশে ক্ষুব্ধ করেছে। নিশ্চিতভাবে তারা তৃণমূল বা বিজেপি কোন দলকে ভোট দেবেন না
এদিকে ২০২১ থেকে বিধায়ক সুবোধ অধিকারী, আবার তৃণমূল প্রার্থী তার একাংশ এবং সমর্থকরা তাকে জনপ্রিয় বলে দাবি করলেও, চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রচার তার জনপ্রিয়তার ওপর প্রভাব ফেলেছে। ২০২২ সালে চিটফান্ড মামলায় সুবোধ অধিকারীর বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি চালিয়েছিল, যা তার ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে মুকুল রায় যখন বিজেপি-তে ছিলেন, তখন সুবোধ অধিকারী ছিলেন তৃণমূলের হয়ে ওই অঞ্চলের প্রধান সংগঠক। শুভ্রাংশু রায় একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন যে, স্থানীয় নেতারা (সুবোধ অধিকারী ও তাঁর ঘনিষ্ঠরা) মুকুল রায়কে এবং তাঁকে এলাকায় কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন।
২০২২ সালের পুরভোটে তৃণমূলের টিকিটে কাঁচরাপাড়া পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হন শুভ্রাংশু রায়। তখন মনে করা হয়েছিল তিনি চেয়ারম্যান পদ পেতে পারেন। শেষ পর্যন্ত তিনি কাঁচরাপাড়া পুরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান পদ পান। পরবর্তীতে শুভ্রাংশু রায় তার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন যে, ভাইস-চেয়ারম্যান পদটি কেবলই প্রতীকী, কারণ বেশিরভাগ কাজ অনলাইন হওয়ায় সেখানে কার্যত কোনো ভূমিকা বা কাজ করার সুযোগ নেই।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও দল তাকে টিকিট না দেওয়ায় তার ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পায় এবং তিনি কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে মুকুল অনুগামী এক বিরাট অংশ তৃণমূল বা বিজপিকে ভোট দেবেন না।
এদিকে বিজেপি ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বীজপুর (Bijpur) বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে সুদীপ্ত দাসকে। সেই নাম প্রকাশের পর থেকে চাপা ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল সাধারণ মানুষের মধ্যেই। এবার সেই প্রার্থীয় নামে বীজপুরে পড়ল পোস্টার। এ নিয়ে বিজেপির তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্বের কথা কথায় সামনে আসছে।
বীজপুরে (Bijpur) যে পোস্টার লাগানো হয়েছে, তাতে লেখা ছিল ‘খুনি, গুন্ডা, তোলাবাজ মুক্ত বীজপুরের বিজেপি’র প্রার্থী চাই’। এছাড়াও ‘নো ভোট টু বিজেপি’ পোস্টার পড়েছে গোটা বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায়।
মুলত এই পোস্টার দিয়েছে বিজেপির বিক্ষুব্ধদের তরফ থেকে। এছাড়া এটা বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলেও জানানো হয়েছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে বিজেপির তরফ থেকে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে এই পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিকভাবে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
বীজপুরে বিজেপি প্রার্থী কার্যত লড়াইতে নেই। মূল লড়াই হতে চলেছে বর্তমান বিধায়ক সুবোধ অধিকারী বনাম বহু পরিচিত সিপিএম প্রার্থী দেবাশিষ রক্ষিতের মধ্যে। বীজপুরে সিপিএম প্রার্থী যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছেন। কার্যত দেবাশীষবাবু এলাকা সর্বসময়ের সংগঠনের নেতা। ফলে কাচড়াপাড়া হালিশহরে সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ আছে। তাছাড়া তিনি ২০১০ সালে কাচড়াপাড়া পৌরসভার কাউন্সিলর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী ভূমিকা পালন করেন। ঐ অঞ্চলে সবসময়ই দেবাশীষবাবুর পরিবারেরও যথেষ্ট প্রভাব আছে।
ফলে বর্তমান অবস্থায় বিপুল পরিমাণে পুরনো বামপন্থী সমর্থক যারা কার্যত লাল ঝান্ডা থেকে মুখ ফিরিয়েছিলেন তারা আবার বামপন্থীদের দিকে ফিরছেন বলে বোঝা যাচ্ছে এবং কাঁচরাপাড়া হালিশহরে সেই সঙ্গে অন্যান্য অঞ্চলে বাম ভোটারদের একটা বড় অংশ ফিরলে বামপন্থী প্রার্থী জয়ী হবেন সেক্ষেত্রে সিপিআইএম প্রার্থী দেবাশীষ রক্ষীদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল কিন্তু বিভিন্ন সময় মিডিয়া নানাভাবে ভুল ব্যাখ্যা করবার চেষ্টা করছেন একসময়ের বাম ঘাঁটি বীজপুর বিধানসভায় সিপিআইএম জয়ী হতে পারে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা
We hate spam as much as you do