মধ্যষাট পেরিয়ে এসেছি। এখন মাঝেমধ্যেই পিছন ফিরে তাকাই।
মধ্যষাট পেরিয়ে এসেছি। এখন মাঝেমধ্যেই পিছন ফিরে তাকাই। চাই বা না চাই। দৃষ্টি চলে যায়।
তখন আমি এগারো বা বারো। সবে চারিদিকে তাকাতে শিখছি। খবরের কাগজ পড়ার প্রবল নেশা। টিভি আসে নি। বাড়িতে রেডিও ছিলোনা।
কৈশোরের শুরু রেশন দোকানে লাইনে দাঁড়ানো দিয়ে। দীর্য সে লাইন। একটা গোটা বেলা কেটে যেতো সেখানেই। চাল বাড়ন্ত। বাড়ন্ত কেরোসিনও। হাঁড়ি চড়ে না বহু বাড়িতে। চারিদিকে হাহাকার। পথে, অলিতে, গলিতে মিছিল। ভাতের গন্ধের নেশায় বড় জ্বালা। সেই জ্বালাই তৈরি করছে জনজোয়ার। এমনই খাদ্য-পিপাসু মিছিলে, বসিরহাটের কাছে, দরাজ হাতে পুলিশ দিলো ট্রিগারে টান। লুটিয়ে পড়লো এক কিশোর। নুরুল ইসলাম। আমার কৈশোরের পড়া, শোনা আর অন্তরে রাজনীতি-বোধ জাগিয়ে তোলা প্রথম শহীদ।
নুরুলের পর আধা-শতকের বেশি পারে হয়ে এসেছি আমরা। সারা বিশ্বকে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জানানো হয়ে গেছে সেইই কবে যে, খাদ্য-ঘাটতি মুক্ত দেশ আমাদের। চারিদিকে চোখ-ধাঁধানো কাঁচের ওপারে চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, জিন্স, জুতো, স্মার্টফোন, আইফোন, রঙিন চশমা -- কি নেই সেখানে! তবু কেন এতো মানুষ আধ-পেটে ঘোরে, এতো শিশু কেন স্কুলে যায়না, এতো তরুণী কেন মধ্য-তিরিশে বুড়িয়ে যায়, এতো মেয়ে কেন পাচার হয় !
জবাবটা ছোট এবং সহজ। আয় নেই। কারণ, কাজ নেই। দেবার মতো শ্রম আছে, নেবার জন্য কারখানা নেই। কাজের দাবি তাই ভাতেরই দাবি। আর সেই কাজ চাইতেই এসেছিলো মঈদুল। আর ফেরেনি। ঘরে পড়ে আছে মা, স্ত্রী এবং কন্যারা। মঈদুল কিন্তু নিজের জন্যে আসেনি। বাঁকুড়ার পাথুরে মাটির রাস্তায় রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে তার চলে যাচ্ছিলো একরকম। সে এসেছিলো আরও হাজারো মঈদুল-মৃদুলের জন্যে। পরিবর্তে জুটলো পশুর মতো মার। অকাতরে চলল লাথি আর লাঠি। মরেই গেলো ছেলেটা! নুরুল যৌবনটাই দেখেনি। আর মঈদুল মধ্য-তিরিশও ছুঁতে পারলো না। আমরা কিন্তু মাঝের ষাট বছরে 'এগিয়েছি'
We hate spam as much as you do