২০১৬ সালের নভেম্বরের ওই রাতে আগাম কিছু না জানিয়েছে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে চরম সমস্যার মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। যুক্তি দিয়েছিলেন জাল নোটের কারবার রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাঁচ বছরেও দেশ জাল নোট মুক্ত হতে পারল না প্রধানমন্ত্রী মোদীর 'ঐতিহাসিক' সিদ্ধান্তের পরও।
মোদীর রাজত্বে জাল নোট বেড়ে দ্বিগুণ! রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য
জাল নোট রুখতে রাতারাতি নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের সেই নোটবন্দির পর কেটে গিয়েছে সাড়ে পাঁচ বছর। তারপরও দেশ জাল নোট মুক্ত নয়। বড় মুখ করে মোদী যে দাবি করেছিলেন, তা নোটবন্দির পরেও হয়নি, আজও জাল নোট মুক্ত হয়নি দেশ। কংগ্রেস সাসংদ রাহুল গান্ধী ও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন টুইটে পরিসংখ্যান দিয়ে তা দেখিয়ে দিলেন।
২০১৬ সালের নভেম্বরের ওই রাতে আগাম কিছু না জানিয়েছে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে চরম সমস্যার মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন। যুক্তি দিয়েছিলেন জাল নোটের কারবার রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পাঁচ বছরেও দেশ জাল নোট মুক্ত হতে পারল না প্রধানমন্ত্রী মোদীর 'ঐতিহাসিক' সিদ্ধান্তের পরও।
সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পরিসংখ্যান দিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রতি বছরই নিয়ম করে বাড়ছে জাল নোটের সংখ্যা। বিরোধীদের কাছে বিজেপির বিরুদ্ধে বড় অস্ত্র হয়ে উঠতে পারে জাল নোটের পরিসংখ্যান।
The only unfortunate success of Demonetisation was the TORPEDOING of India’s economy. pic.twitter.com/S9iQVtSYSx
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) May 29, 2022
রাহুলে টুইটে জাল নোটের পরিসংখ্যান, খোঁচা মোদীকে
বিরোধীরা এই জাল নোটের পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করতে চাইছে আসন্ন ২০২৪-এর নির্বাচনে। কংগ্রেস এই জাল নোটের পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করছে। রাহুল গান্ধীও টুইট করে জাল নোট সংক্রান্ত পরিসংখ্যান দিয়ে কেন্দ্রকে বিঁধেছেন। আসন্ন ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে নোট বন্দি ও জাল নোটকে অন্যতম ইস্যু করতে বদ্ধপরিকর বিরোধীরা।
ডেরেক ও'ব্রায়েন টুইটে লিখেছেন, নমস্কার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নোট বাতিলের কথা মনে আছে। কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনার বিরোধিতায় সরব হয়েছিলেন। মনে আছে, আপনি বলেছিলেন, নোট বাতিলের পরে জাল নোটের পরিমাণ কমে যাবে। এই দেখুন রিজার্ভ ব্যাংকের পরিসংখ্যান। এরপর একটি গ্রাফিক্স দিয়ে তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন বছরে বছরে কী হারে বেড়েছে জাল নোট।
তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েনের টুইটে দেওয়া তথ্য নির্ভর গ্রাফিক্সে দেখানো হয়েছে, ২০২০০২১ অর্থবর্ষের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবর্ষে জাল ৫০০ টাকার নোটের সংখ্যা বেড়ে ১০১.৯ শতাংশ। এক বছরে ৫০০ টাকার জাল নোট দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গিয়েছে। বিগত এক বছরে ২০০০ টাকার জাল নোটের সংখ্যাও বেড়েছে ৫৪.৬ শতাংশ।
ডেরেক ও'ব্রায়েনের কথায়, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তথ্য বলছে শুধু ৫০০ ও ২০০০ টাকার নোটই নয়, অন্যান্য সমস্ত নোটেই বেড়েছে জাল। ২০০ টাকার নোটে জাল বেড়েছে ১১.৭ শতাংশ। এমনকী ১০ টাকা ও ২০ টাকার জাল নোটের সংখ্যাও বেড়েছে। ১০ টাকার জাল নোট বেড়েছে ১৬.৪ শতাংশ এবং ২০ টাকার জাল নোট বেড়েছে ১৬.৫ শতাংশ।
সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আর একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এনেছে। সেটি হল বাজারে নগদের পরিমাণ। নোট বাতিলের আগে বাজারে নগদ ছিল ১৮ লক্ষ টাকা। এখন সেটা বেড়ে বয়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ টাকা। অর্থার ক্যাশলেস লেনদেনের যে লক্ষ্যমাত্রা সামনে রাখা হয়েছিল, তাও ফলপ্রসূ হয়নি। বাজারে নগদের পরিমাণও বেড়েছে। তা নিয়েও রাহুল গান্ধী বিঁধেছেন মোদী সরকারকে।
We hate spam as much as you do