এই বিপর্যয়ের পর থেকেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে রেড ভলান্টিয়ার্স (Red Volunteers)। এমনকী, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিজনকে হারিয়েছেন জলপাইগুড়ির এক রেড ভলান্টিয়ার (Jalpaiguri Red Volunteer)। তারপরই বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা।
মাল-বিপর্যয়ে জীবন বাঁচিয়ে হিরো মহঃ মানিক আর রেড ভল্যান্টিয়াররা
Oct 7, 2022
মাল নদীতে হড়পা বান যখন সকলকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন দেবদূত হয়ে আসেন মানিক। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১০ জনের প্রাণ বাঁচান তিনি।
তেশিমলা গ্রামের যুবক মহম্মদ মানিক এখন এলাকার হিরো! মহম্মদ মানিক ১০ জনের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। ওই ভিড়ে ছিলেন রাম মানকি মুণ্ডা, বিনু গঞ্জুও। এই দুই বন্ধু না থাকলে দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত বলে মনে করছেন স্থানীয়রা
হড়পা বান এসে যখন সকলকে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, প্রাণ বাঁচাতে নদী থেকে চরে উঠতে তড়িঘড়ি করছে, সেই সময় চরে ওঠা দূরস্ত, তড়িঘড়ি অন্যদের বাঁচাতেই এগিয়ে আসেন মহম্মদ মানিক। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তিনি। আর মহম্মদের এই তৎপরতায় প্রাণে বেঁচেছেন ১০ জন। একেবারে ১৫ ফুট উঁচু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ১০ জনের প্রাণ বাঁচান। দশমীর রাতে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের সময় এভাবে এতজনের প্রাণ বাঁচিয়ে এখন গ্রামের 'হিরো' হয়ে উঠেছেন মহম্মদ মানিক।
এরপর এই বিপর্যয়ের পর থেকেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে রেড ভলান্টিয়ার্স (Red Volunteers)। এমনকী, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে পরিজনকে হারিয়েছেন জলপাইগুড়ির এক রেড ভলান্টিয়ার (Jalpaiguri Red Volunteer)। তারপরই বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাল নদী তীরে দেখা গিয়েছে এই বাম ছাত্র যুবদের। আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে খাবার জলের ব্যবস্থা করা, যে কোনও প্রয়োজনে দেখা যাচ্ছে রেড ভলান্টিয়ারদের। এমনকী, একটি হেলপলাইন নম্বরও খোলা হয়েছে তাঁদের তরফে।
তেশিমলা গ্রামের যুবক মহম্মদ মানিক। সকলেই তখন আনন্দের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন দেখছিলেন। ডুয়ার্সের মালবাজার শহরের পাশাপাশি পাশ্ববর্তী বিভিন্ন চা বাগান এলাকা থেকে পুজো উদ্যোক্তারা তাঁদের প্রতিমা নিয়ে বিসর্জন দিতে আসেন মাল নদীতে। আর সেই বিসর্জন দেখতে ডুয়ার্সের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার-হাজার মানুষ বিসর্জন ঘাটে জড়ো হয়েছিলেন। আর তাঁদের মাঝেই উপস্থিত ছিলেন মহম্মদ মানিক। প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া যখন চলছিল, সেই সময় আচমকা নদীতে হড়পা বান আসে। চোখের সামনে মানুষকে ভেসে যেতে দেখেন মানিক। আর সেই দৃশ্য দেখে কেবল নিজের কথা ভাবতে পারেননি মানিক। কোনও কথা চিন্তা না করেই তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন ঝাঁপিয়ে পড়ে নদীতে ভেসে যেতে থাকা মানুষগুলোকে বাঁচাতে। যেখানে হড়পা বানে জলে ভেসে গিয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেখানে মানিক ১৫ ফুট উঁচু থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ১০ জনের প্রাণ বাঁচান। আর এই মহৎ কাজ করার পর থেকে গ্রামের হিরো হয়ে গিয়েছেন মানিক।
জলে ভেসে যেতে থাকা মানুষদের উদ্ধার করতে গিয়ে মহম্মদ মানিকও আহত হন। তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। রাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে (Malbazar Hospital)। তবে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মানিককে। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানিক যেভাবে এতগুলো মানুষের প্রাণ বাঁচালেন, তাতে তিনি এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছেন। বলা যায়, তেশিমলা গ্রামের যুবক এখন হিরো।
মহম্মদ মানিক বলেন, "আমি বন্ধুর সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে গিয়েছিলাম মাল নদীর ঘাটে। সেখানে দেখতে পাই, আচমকাই নদীর জল বেড়ে গিয়েছে। জলের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল একের পর এক মানুষ। আর চিৎকার করে বাঁচার আর্তনাদ করছিল সকলে। তাই আমি কোনও কিছু চিন্তা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দিই। একের পর এক ভেসে যাওয়া মানুষকে উদ্ধার করতে শুরু করি। আমি সাঁতার জানি। তাই মৃত্যুর ভয় না করে মানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছি। নিজেও আহত হয়েছি। তবে এতগুলো মানুষকে বাঁচাতে পেরে ।"
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই একাধিক ভলান্টিয়ার নিয়ে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান জলপাইগুড়ি DYFI-এর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সাগর ভৌমিক। অপর এক সদস্য দেবব্রত ভৌমিক বলেন, "আমাদের ৩০ থেকে ৪০ জন সদস্য ঘটনাস্থলে রয়েছেন। অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে খাবারের ব্যবস্থা, যে কোনও প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন রেড ভলান্টিয়াররা। নিহতদের দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে পরিবারের লোকেদের পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। নিখোঁজদের সন্ধানে যে পরিজনেরা এখনও ঘটনাস্থলে রয়েছেন, তাঁদের খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যার যেভাবে প্রয়োজন আমরা সেভাবেই সাহায্য করার চেষ্টা করছি।"
জানা গিয়েছে, DYFI জেলা কমিটির সদস্য সোহিনী রায়ের জেঠু এই হড়পা বানে তলিয়ে গিয়েছেন। পরিজনের মৃত্যুর পরও নিজের কর্তব্যে অবিচল ছিলেন তিনি। এমনটাই জানাচ্ছেন, তাঁর ভলান্টিয়ার সতীর্থরা।
রেড ভলান্টিয়ারদের তরফে একটি হেলপলাইন নম্বরও চালু করা হয়েছিল। ০৩৫৬১২৩০৭৮, ৯০৭৩৯৩৬৮১৫। স্থানীয় এবং বিপদগ্রস্ত মানুষ যে কোনও সমস্যায় এই নম্বরগুলি তাঁদের যোগাযোগ করতে পারবেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে CPIM-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের অভিযোগ, "মর্মান্তিক এই ঘটনার এক ও অন্যতম কারণ পুরসভা ও প্রশাসনের উদ্যোগে নদীর ডান হাতি প্রবাহকে বালির বাঁধে আটকে নদীর বুকে বিসর্জনের মেলা প্রাঙ্গণ তৈরী করা। মাল নদীর বুকে ঐটুকু জায়গায় কার্নিভালের জৌলুসে মানুষকে সামিল করার খামখেয়ালিতে শিশু মহিলা বৃদ্ধসহ এতগুলি প্রাণের মর্মান্তিক সলিল সমাধি ঘটল। না জানি উদ্ধার না করা আরও ক'জন মানুষ ভেসে গেল বা নিখোঁজ রইল।"
We hate spam as much as you do