ভারত ও চীন পরবর্তী রাউন্ডের মিলিটারি আলোচনায় রাজী
পূর্ব লাদাখের সীমান্তের এলওসির দীর্ঘদিনের সংঘর্ষের যায়গা গুলো নিয়ে
ভারত ও চীন উভয়পক্ষই শুক্রবার পরবর্তী রাউন্ডের মিলিটারি আলোচনায় রাজী হল। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুসারে, সীমান্ত বিষয়ক
WMCC (Working Mechanism for Consultation and Coordination) এর একটা ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে দুই পক্ষ খোলামনে আলোচনা করতে রাজী হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন বিতর্কিত পয়েন্ট গুলো নিয়ে উভয়েই একটা যুগ্ম সমাধানে পৌঁছতে চায় বলে জানান হয়েছে।
এই আলোচনার সমাপ্তিতে
বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষই লাদাখের পূর্ব সীমান্ত নিয়ে একটা দ্রুত সমাধানসুত্র খুঁজতে রাজী হয়েছে
এই আলোচনা দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘকালীন এলএসি স্ট্যান্ডঅফের বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা চলার মধ্যেই ভারত ও চীন শুক্রবার পূর্ব লাদাখের বাকী বিতর্কিত পয়েন্টগুলিতে সম্পূর্ণ সংঘর্ষ বিরতির সময় ফেব্রুয়ারিতে পাঙ্গং হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণ তীর থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহার করার পরে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে দফায় দফায় দফায় আলোচনার কথা হয়েছিল।
উভয়পক্ষই পূর্ব লাদাখের সীমান্ত সমস্যা সমাধানে রাজী হয়েছে। দ্রুত সমাধান সুত্র খোঁজার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে দুই দেশের বিদেশ মন্ত্রীর মধ্যে গত ২০২০এর সেপ্টেম্বরে যে কথা হয়েছিল তা অবশ্যই বিবেচনার মধ্যে রাখা হবে।
উভয় পক্ষ ই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় রাজী হয়েছে। উভয়েরই লক্ষ কিকরে উভয় দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য একটা সমাধানসুত্র বের করা যায়। যাতে শান্তি ও প্রগতির স্বার্থে সমস্ত বিতর্কিত এলাকা গুলোতে সংঘর্ষের বিরতি হয়।
এই আলোচনা চলাকালীন উভয় দেশই যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনার থেকে বিরত থাকবে।
এরপর দুপক্ষের সিনিয়র কম্যান্ডারদের মধ্যে আলোচনা হবে। এর আগে ৯ই এপ্রিল (১১রাউন্ডের) একটি আলোচনা হয়। চীন সীমান্তের পশ্চিম দিক নিয়ে দুপক্ষের খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।
এই সপ্তাহে দুপক্ষের মধ্যে বাকযুদ্ধ চরমে ওঠে। ভারতের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার চীনকে দোষারোপ করে বলা হয় গত বছর থেকে সীমান্তে সেনা সমাগম করা হয়েছিল যা শান্তি ও সম্প্রীতি বিঘ্নিত করেছে।
সেই সঙ্গে জোর করে এলাকা দখল করে রাখা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে চীনের বক্তব্য তাদের এই সেনা সমাগমের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নেই। তারা নিয়ম অনুসারেই নাকি এসব করেছে।
বিদেশ মন্ত্রকের সহ সচিব নবীন শ্রীবাস্তব এই মিটিংয়ে ছিলেন। গত বছর ১০ই সেপ্টেম্বর সাংহাই কো অপারেশন সংগঠনের উদ্যোগে মস্কোতে অনুষ্ঠিত এস জয়শংকর এবং ওয়াং লির বৈঠকে ভারত চীন পাঁচ দফা সমঝোতায় পৌঁছেছিল। যাতে দ্রুত সেনা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করে সমস্ত উত্তেজনা দুর করা যায়।
মিলিটারি অফিসিয়ালদের মতে এখনো দুধারে উভয় পক্ষের ৫০০০০ থেকে ৬০০০০ সেনা আছে। কিন্তু চীনের পক্ষ থেকে এই সেনা প্রত্যাহারের এখনো কোনো উদ্যোগ নেই।
আলোচনা চলছে। ভবিষ্যতের শান্তির জন্য।।
We hate spam as much as you do