মুকুলের ছেলে শুভ্রাংশুর রায়ের নিখোঁজ দাবি নিয়ে হইহই পড়ে গিয়েছে বাংলার রাজনীতিতে। কৌতূহল উপচে পড়ছে যে মুকুল রায়কে কি কেউ অপহরণ করল, নাকি স্বেচ্ছায় কোথাও গিয়েছেন মুকুলবাবু? এহেন পরিস্থিতি একটি রাজনৈতিক সূত্রে বলা হচ্ছে, মুকুলবাবু দিল্লিতে গিয়েছেন। বেশি রাতে রাজধানীতে পৌঁছেছেন তিনি। সম্ভবত বিজেপি নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছেন তিনি।
মুকুল আবার BJP-তে? 'নিখোঁজ' মুকুলের দেখা মিলল দিল্লিতে
18 Apr 2023,
মুকুল রায়
তৃণমূল ➡ বিজেপি ২০১৭
বিজেপি ➡ তৃণমূল ২০২১
তৃণমূল ➡ বিজেপি ২০২৩??
তৃণমূল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা মুকুল রায় নিখোঁজ হয়েছেন। গতকাল (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকে তার সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই বলে দাবি করেছে মুকুল রায়ের পরিবার। বলা হচ্ছে যে মুকুল রায় ইন্ডিগোর ফ্লাইট নম্বর 6E-898 করে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন, কিন্তু তারপর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছিল না।
মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায় দাবি করেছেন যে তাঁর রাত ৯ টায় দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল, তবে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। শুভ্রাংশু জানান, মুকুল রায়ের নিখোঁজের বিষয়ে বিমানবন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।
মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, টিএমসি নেতা মুকুল রায়ের তার ছেলের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল, তার পরে তিনি নিখোঁজ এবং যোগাযোগ করা যায়নি। প্রসঙ্গত মুকুল রায় দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। ২০২১ সালের জুলাই মাসে, মুকুল রায়ের স্ত্রী কৃষ্ণা রায় চেন্নাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) প্রাক্তন জাতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় ২০১৭ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তে যোগ দেন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর (উত্তর) বিধানসভা আসনে জয়ী হয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পৌঁছেছিলেন। তবে, নির্বাচনী জয়ের কয়েকদিন পরে, মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) অফিসে যান এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তার পুরনো দলে যোগ দেন।
বিধায়ক পদ থেকে অযোগ্যতার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি বিধায়ক পদ থেকে মুকুল রায়কে বরখাস্ত করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের বেঞ্চে একটি পিটিশন দায়ের করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চে একটি পিটিশন দায়ের করেছিলেন, যা গৃহীত হয়েছে এবং বিষয়টি শীঘ্রই শুনানির জন্য আসবে। শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দোপাধ্যায়ের অফিসে গিয়ে মুকুল রায়কে বিধানসভার সদস্য পদ থেকে বরখাস্ত করার দাবি জানান। যাইহোক, এই বিষয়ে দীর্ঘ শুনানির পরে, স্পিকার অবশেষে মুকুল রায়কে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকার ভিত্তিতে হাউস থেকে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
মুকুলের ছেলে শুভ্রাংশুর রায়ের নিখোঁজ দাবি নিয়ে হইহই পড়ে গিয়েছে বাংলার রাজনীতিতে। কৌতূহল উপচে পড়ছে যে মুকুল রায়কে কি কেউ অপহরণ করল, নাকি স্বেচ্ছায় কোথাও গিয়েছেন মুকুলবাবু? এহেন পরিস্থিতি একটি রাজনৈতিক সূত্রে বলা হচ্ছে, মুকুলবাবু দিল্লিতে গিয়েছেন। বেশি রাতে রাজধানীতে পৌঁছেছেন তিনি। সম্ভবত বিজেপি নেতা তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়র সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়েছেন তিনি। সূত্র বলছে, নিজের ইচ্ছাতেই সোমবার সন্ধ্যার বিমানে কলকাতা থেকে রাজধানী পৌঁছেছেন কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক মুকুল। কেউ কেউ বলছেন, তিনি চিকিৎসার কারণে দিল্লি গিয়েছেন। অন্য একটা অংশের মতে, তাঁর দিল্লি-যাত্রা একেবারেই রাজনৈতিক। মুকুল-ঘনিষ্ঠ এক জনের কথার প্রেক্ষিতে এমন প্রশ্নও উঠছে, তবে কি তিনি বিজেপিতে ফিরে যাবেন? সব মিলিয়ে অসুস্থ শরীরে মুকুলের এই দিল্লি-যাত্রা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত সোমবারই মুকুল রায়ের ছেলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। প্রসঙ্গত নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। এবার সেই নিয়োগ দুর্নীতিতেই নাম জড়িয়েছে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশুর। তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানালেন শুভেন্দু অধিকারী। শুভ্রাংশু বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক থাকাকালীন নিয়োগে সুপারিশ করেছিলেন বলে অভিযোগ। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন মুকুল পুত্র। আর শুভেন্দুর অভিযোগের দিনই মুকুল রায়ের নিখোঁজ হওয়া ও দিল্লি গমন তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞমহল।
We hate spam as much as you do