ওরা ১০০ দিনের কাজকে শেষ করছে, নতুন আইন এনেছে। বিজেপি তৃণমূল চায়না গরিব মানুষ যাতে কাজ পায়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য চেয়েছিলেন উন্নত কৃষির ওপর ভিত্তি করে শিল্পের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই রাজ্যে শিক্ষা শিল্পের দিক থেকে এগিয়েছিল। আজ আবার সেই ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনতে হবে। যেই বাংলাকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিল বামপন্থীরা সেই রাজ্যকে বাঁচাতে হবে।
মেরুকরণ রাজনীতির বিরুদ্ধে বিকল্পের সন্ধান দিল বাংলা বাঁচাও যাত্রা
18 ডিসেম্বর 2025
গোটা রাজ্য জুড়ে এবং অবশ্যই বিহার নির্বাচনের পরে পশ্চিমবাংলার এস আই আর থেকে হুমায়ুন কবিরের বাবরি মসজিদ, ব্রিগেড জুড়ে গীতা পাঠ, গোটা বছর জুড়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এর প্রচেষ্টার রাজনীতির মধ্যেই বিকল্প ভাষ্যের খোঁজ চলছিল। সেই বিকল্প ভাষ্যের সূচনা করলো সিপিএমের বাংলা বাঁচাও যাত্রা। কোচবিহারে তুফানগঞ্জ থেকে গত ২৯ শে নভেম্বর শুরু হয়েছিল শেষ হলো ১৭ ই ডিসেম্বর কামারহাটিতে
বুধবার কামারহাটিতে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন লড়াইয়ের শেষ নয়। মানুষ যেভাবে ভালবাসা দিয়েছেন, শপথ আমাদের, লড়াই জারি থাকবে। নতুন কুঁড়িদের এই লড়াইয়ে শামিল করতে হবে। বাংলাকে বাঁচাতে হবে।
বুধবার কামারহাটিতে বাংলা বাঁচাও যাত্রার সমাপন সমাবেশে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, বাংলার রাজনীতিতে নতুন বার্তা নিয়ে যাওয়ার জন্য এই বাংলা বাঁচাও যাত্রা। আজ শ্রমিক, মহিলা, ছাত্র, যুব সবাই আক্রান্ত। আগামী দিনের লড়াই তীব্র করার জন্য, মানুষের কথা জানার জন্য আমরা এই যাত্রার মাধ্যমে চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, মমতা যেই মোড়ায় বসে আছে সেটাকে ভাঙতে হবে। লোকে ভেবেছিল নবান্নকে শায়েস্তা করতে ছাপান্ন কে আনতে হবে। কিন্তু আরজি কর থেকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি সব কিছু তেই ছাড় পেয়েছে দোষীরা, কেন্দ্রীয় এজেন্সি কিছু করেনি।
আমরা কাজের কথা বলছি, শিক্ষার কথা বলছি, আবাসের দুর্নীতির কথা বলছি তখন ওরা ধর্মের নামে ভাগ করছে।
এই যুব ভারতী বামফ্রন্ট করেছিল। রাজ্যের ক্রীড়া সংগঠন গুলো আজ তৃণমূল দখল করেছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে আমাদের রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা আক্রান্ত। ঘৃণার চাষ হচ্ছে রাজ্যে। ব্রিগেডে দেখা গেলো চিকেন প্যাটিস বিক্রি করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন বিক্রেতা। এই কথা আগে বাংলায় ভাবা যায়নি। খেটে খাওয়া মানুষের রুটি রুজির ওপর আক্রমণ করছে । একটা দুর্নীতি গ্রস্থ দলকে আর এক দুর্নীতিগ্রস্থ দল হারাতে পারেনা।
সবাই বলেছিল লাল হাটাও দেশ বাঁচাও। লাল হটেছে, কিন্তু দেশ বাঁচেনি। তিনি বলেন, এই বাংলা লড়াই করেছে জোতদার দের বিরুদ্ধে, ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে। লড়াই হয়েছে শিক্ষার প্রসারের জন্য, মহিলার নিরাপত্তার জন্য। কিন্তু ধর্মের নামে লড়াই হয়নি।
বামফ্রন্ট প্রথম ১৮ বছরে ভোটাধিকার চালু করে, মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ করে পঞ্চায়েত পৌরসভায়। আমরা মহিলাদের স্বনির্ভরতার জন্য লড়াই করেছি। এখন মহিলাদের ওপর নির্যাতন হচ্ছে। আমাদের বিচার চাইতে হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলার মানুষ যখন জাগবে, ঐক্যবদ্ধ হবে তখন বাংলা বাঁচবে।
ওরা ১০০ দিনের কাজকে শেষ করছে, নতুন আইন এনেছে। বিজেপি তৃণমূল চায়না গরিব মানুষ যাতে কাজ পায়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য চেয়েছিলেন উন্নত কৃষির ওপর ভিত্তি করে শিল্পের দিকে এগিয়ে যাওয়া। এই রাজ্যে শিক্ষা শিল্পের দিক থেকে এগিয়েছিল। আজ আবার সেই ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনতে হবে। যেই বাংলাকে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিল বামপন্থীরা সেই রাজ্যকে বাঁচাতে হবে।
আমাদের যাত্রা আজ এখানে শেষ নয় নতুন করে লড়াই শুরু। নতুনদের তেজ আর বয়স্কদের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাঙ্গা বুকের পাঁজর দিয়ে নতুন বাংলা গড়তে হবে।
সমাপ্তি সমাবেশে সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জী উল্লেখ করেন বাংলা বাঁচাতে একজোট হচ্ছেন মানুষ।এর আগে ইনসাফ যাত্রায় আমরা গোটা রাজ্যকে দেখেছিলাম। প্রতিটা জেলায় কিছু মুখ দেখেছিলাম, মলিন মুখ। কিন্তু ভিতরে তাদের একটা তেজ আছে। আমার এবার মানুষের চোখে সাহস দেখেছি। তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে রাগ দেখেছি। এই বাংলা বাঁচবে। গোটা রাজ্যের মানুষ এই লড়াইয়ে একজোট হচ্ছে। কামারহাটিতে বাংলা বাঁচাও যাত্রার সমাপন যাত্রায় একথা বলেছেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি। এই কর্মসূচিতে অভিযাত্রীদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।
মীনাক্ষী বলেন, এই রাজ্যে কারখানা, স্কুল কলেজের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে। আমরা আমাদের জল জমি জঙ্গলকে রক্ষা করবো। এরা আমাদের নদী, পাহাড় জমি লুঠ করতে চাইছে।
উন্নয়নের পাঁচালী পড়ছেন, অপরাধের পাঁচালী কে পড়বে? এই যে দুর্নীতি এর দায় কে নেবে? নারদ কান্ডে আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি এথিক্স কমিটি।
তিনি বলেন, রাজ্যে তৃণমূলকে টিকিয়ে রাখতে ধর্মের নামে মানুষকে ভাগ করছে বিজেপি।
তিনি বলেন, দুই সরকারি বেকারদের ঠকিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলছে দুই কোটি চাকরি দিয়েছে। মিথ্যে কথা বলছেন উনি।
শ্রমিককে শোষণ করতে শ্রমকোড চালু করা হয়েছে। দেশকে বিক্রি করে দেশ ভক্তির কথা বলছে বিজেপি।
মীনাক্ষী বলেন, তৃণমূলের সাথে বিজেপির সেটিংয়ের জন্য ভাইপো, বালু, অনুব্রত জেলের বাইরে। তিনি বলেন, ছাব্বিশের নির্বাচন পেটের ভাত, হাতে কাজের দাবিতে হবে।
প্রাক্তন সংসদ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন যে মানুষ যত গরিব তাঁর কাগজ তত কম। কাগজের ওপর নির্ভর করে নাগরিকত্ব দেখা হলে সবচেয়ে বিপদে পড়বেন গরিব মানুষ। সিএএ-এনআরসি থেকে এসআইআর সবচেয়ে সঙ্কটে ফেলছে গরিব মানুষকে। বুধবার কামারহাটিতে বাংলা বাঁচাও যাত্রা-র সমাপন সমাবেশে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, 'বাংলাকে বাঁচাবে বাংলার মানুষই, আর সেই মানুষের শক্তি হবে লাল ঝান্ডা' বেলঘরিয়া কামারহাটির বাংলা বাঁচাও যাত্রা'র সমাপন জনসভা থেকেই এমনি বললেন সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তী।
এদিন তিনি আরও বলেন, "বাংলা বাঁচাও যাত্রা মানে বাংলার প্রজন্ম, সন্তানসন্ততি কে বাঁচানোর যাত্রা। যারা বাংলাকে ধ্বংস করতে চান তারা নবান্ন, দিল্লিতে বসে আছেন। তাঁদের থেকে বাংলাকে বাঁচাতে হবে। এর আগে বাংলা স্বপ্ন দেখেছে আর বাংলা স্বপ্ন দেখিয়েছে। বর্তমানে শাসক তা ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে।
যারা ভেবেছিলেন তৃণমুল আসলে বাংলার ভালো হবে, তারা ঠকে গেছেন। আর বিজেপি আসলে তারা ডবল ঠকে যাবেন। এদের দুর্নীতি পাহাড় প্রমাণ। এই শাসকদল থাকলে সৎ মানুষ মাথা নিচু করবে আর চোর, গুন্ডারা মাথা উঁচু করে দাঁড় করতে চায়।"
সুজন চক্রবর্তী বলেন, "মেসির ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মেসি তার ওয়ালে যে ভিডিও পোস্ট করেছেন তাতে কলকাতার নাম নেই। মমতা এতটাই কলকাতাকে কালিমালিপ্ত করেছেন। মেসিকে সামনে রেখে পিসির ক্ষমতা দেখানোর লড়াই চলবে না। ২৬ সে এই বাংলার মাঠ থেকে তৃণমুলের বাহিনীকে অব্যাহতি নিতে হবে এটাই লাল ঝান্ডার চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, এসআইআর- র তালিকা বেরিয়েছে। আগে ওরা বলেছিলো বহু মুসলিম অনুপ্রবেশকারী বেরিয়ে চলে যাবে। এখন আমার জানতে চাই কতজন বিদেশি বা বাংলাদেশী মুসলমান বলে কতজনের নাম বাদ গেছে বলুন? এই মিথ্যাচারের জন্যে মুসলমান মানুষের কাছে শুভেন্দুকে ক্ষমা চাইতে হবে। আসলে ৯শতাংশ বেশি মতুয়ারা বাদ গেছেন। তারা আসলে বাংলাভাষী হিন্দু তারা বাদ গেলেন। আমারা বলেছিলাম যার ডকুমেন্ট নেই এমন মানুষ, গরীব মানুষ বিপদে পরবেন তাই হলো। উদ্বাস্তু কে যারা অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে তারা ওদের কাছে নির্লজ্জের মত আবার ভোট চাইতে যাবেন। মানুষকে রক্ষা করতে পারে শুধু বামপন্থীরা।
তৃণমুল ভুতুড়ে আর মৃত ভোটারের ভোটে জিতে রাজ্যে বসে আছেন এসআইয়ার খসরা তালিকাই তা প্রমাণ করছে। বাংলাকে বাঁচাবে বাংলার মানুষ,আর তাঁদের শক্তি হবে লালঝান্ডা।"
এসএফআই’য়ের রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্য্যি বলেন, উত্তরবঙ্গে জঙ্গল, চা বাগান, নদী নেই আর নেই শাসক দলের মাফিয়ারা ফাঁকা করে দিয়েছে । জমি নিয়ে মোদী- দিদি কর্পোরেটের কাছে বেঁচে দিচ্ছে। ফলে উত্তরবঙ্গ ভারসাম্য হারাচ্ছে, একদিকে জঙ্গলের পশু মরছে আর অন্যদিকে মানুষ মরছে। আমারা উত্তরবঙ্গের মানুষ ভেবেছিলাম যে মূখ্যমন্ত্রী বোধহয় শুধু চা বাগানে তালা ঝুলিয়েছে, এখানে এসে দেখলাম চটকলে তালা ঝুলিয়েছে, স্কুলেও তালা ঝুলিয়েছে। এবার লাল ঝান্ডা এই সরকারের গেটে তালা ঝোলাবে।
এদিন অভিযাত্রীদের জন্য স্মারক মীনাক্ষীর হাতে তুলে দেন সিপিআই(এম) উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক পলাশ দাস। দেওয়া হয় কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের রচনা সংকলন। যাত্রায় অংশ নেওয়া গাড়ির চালকদের হাতে স্মারক তুলে দেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
We hate spam as much as you do