তৃণমূল কংগ্রেসের এই পৃথক ও স্বতন্ত্র অবস্থানের জেরে বিরোধী ঐক্য প্রভাবিত হচ্ছে বলেই মনে করছেন বলে দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের। তবে এই তত্ত্ব নস্যাৎ করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ মানিকম টেগোরের চাঁচাছোলা দাবি, ‘তৃণমূল এলো কি এলো না, পরোয়া করেনা কংগ্রেস। তাদের এহেন আচরণে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না বিরোধী সমন্বয়ে। তারা আগেও এমনই করেছে। আদতে তারা বিজেপির সঙ্গেই সামঞ্জস্য পূর্ণ সহাবস্থান রেখে চলতে চায়।’ বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার বলেন, ‘তৃণমূলের স্বভাবই এরকম। তারা নিজেদের ঘর আগে সামলাক। এই দ্বিচারিতার কোনও স্থান নেই বিরোধী ঐক্যে।
আদানি প্রতারণা ইস্যুতে মোদি বিরোধী মিছিলে তৃণমূল নেই, কংগ্রেসের কটাক্ষ
16 March 2023
আদানি প্রতারণা ইস্যুতে ইডি-র তদন্তের দাবি জানিয়ে দিল্লির রাজপথে নামল কংগ্রেস-সহ ১৮টি বিরোধী দল। সংশ্লিষ্ট ইস্যুটি শুধু সংসদীয় পরিসরে আবদ্ধ না রেখে, তাকে ভূমিজ স্তরে, জনসাধারণের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনায়, সোমবার সংসদ ভবন থেকে মিছিল করে ইডি দপ্তরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী ফ্রন্ট। এতে সামিল হয় ১৮টি বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। যদিও বেশিদূর এগোতে পারেনি মিছিল, সংসদীয় পরিসরের বাইরে পা রাখা মাত্র, বিজয়চকে দিল্লি পুলিশের বিশাল বাহিনি তাঁদের আটকে দেয়। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই মিছিলে অংশ নেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস। মিছিলে পা না মেলালেও, আজ সংসদ চত্বরে জ্বালানি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আলাদা করে ধর্ণায় বসেন তৃণমূল সাংসদরা। স্বাভাবিকভাবে আদানি ইস্যুতে বিরোধী র্যালিতে তাঁদের এই গরহাজির হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রীয় মহলে। তবে কংগ্রেসের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, বিরোধী মোর্চায় তৃণমূলের ‘অনুপস্থিতি’ বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলবে না বিরোধী ঐক্যতে। আদানি প্রতারণা ইস্যুর মতো ‘জ্বালাময়ী’ বিষয়ে বিরোধীদের সঙ্গে প্রতিবাদে সামিল না হয়ে তারা তাদের প্রকৃত ‘জাত’ চিনিয়ে দিয়েছেন, দাবি কংগ্রেসের।
সোম-মঙ্গলের পর, বুধবারেও আদানি এবং রাহুল গান্ধি মন্তব্যের জেরে শাসক-বিরোধীর কাজিয়ায় ফের উত্তপ্ত হল সংসদ৷ এদিন লোকসভার কাজ শুরু হতে না হতে, কেন্দ্রবিরোধী প্ল্যাকার্ড, পোস্টার হাতে ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী দলীয় সাংসদরা। নিমেষে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে অধিবেশন। কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল এর তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘প্রতিদিন ইচ্ছাকৃত ভাবে সংসদ বানচাল করার লক্ষ্যে কাজ করছে কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধীরা। এ বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সংসদীয় নীতিবিরুদ্ধ। প্রয়োজনে সংসদীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে অবাধ্য সাংসদদের বহিষ্কার করা হোক।’ এ হেন মন্তব্যে আগুনে ঘি পড়ে। প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদরা৷ বাধ্য হয়ে সভার কাজ দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতবি করে দেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। একইচিত্র এদিন দেখা গেছে রাজ্যসভাতেও। অধিবেশন শুরুর পাঁচ মিনিটের মধ্যে, প্রবল বিশৃঙ্খলার জেরব সভার কাজ স্থগিত রাখতে বাধ্য হন চেয়ারম্যান জাগদীপ ধনকড়।
সংসদ সামরিক রূপে মুলতুবি হওয়া মাত্র, আদানি ইস্যুতে জেপিসি-ইডি তদন্তের দাবিতে, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কংগ্রেসের নেতৃত্বে পার্লামেন্ট থেকে ইডি দফতরের উদ্দেশ্যে মিছিল বের করেন বিরোধীরা। কংগ্রেস সভাপতি ও রাজ্যসভা সাংসদ মল্লিকার্জুন খড়্গের নেতৃত্বে বাম, শিবসেনা (উদ্ধব), ডিএমকে এমনকি, অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি, অরবিন্দ কেজরীওয়ালের আম আদমি পার্টি, কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের বিআরএস-র সাংসদেরাও মিছিল করে জওহরলাল নেহরু মার্গের ইডি সদর দফতরের দিকে যান। কিন্তু বিজয়চকের কাছে তাঁদের আটকায় পুলিশ। জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় মিছিল করা যাবে না। প্রত্যাশিতভাবে বিরোধীদের এই মিছিলে ছিল না তৃণমূল কংগ্রেস। প্রসঙ্গত, চলমান বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে আদানি প্রতারণা ইস্যুতে কংগ্রেসের পথে না হেঁটে, আলাদা করে প্রতিবাদ ও আন্দোলনে সামিল হয়েছে তৃণমূল। তাঁদের ‘একলা চলো’ নীতি নিয়ে ইতিমধ্যে বহু জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে গান্ধি মূর্তির সামনে তৃণমূলী ধর্ণামঞ্চ থেকে বর্ষীয়ান নেতা ও সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আমরা কোনও প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছি না। তৃণমূল তার নিজস্ব ধাঁচে, নিজস্ব কর্মপদ্ধতি এবং নিজস্ব ইস্যুতে সংসদে প্রতিবাদ জানাবে।’ সুদীপবাবুর দাবি, ‘রাজ্যে কংগ্রেস খোলাখুলিভাবে বিজেপি এবং সিপিএমের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলছে। তাই আমরা কংগ্রেস নেতাদের ডাকা কোনও বৈঠকে বা কর্মসূচিতে হাত মেলাতে পারব না।’ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃণমূল নেতার এই বক্তব্যে এদিনই স্পষ্ট হয়ে গেল যে মোদিবিরোধী লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস দূরত্ব বজায় রাখার পথে হাঁটল।
এদিন দলের তরফে ‘আত্মপক্ষ সমর্থনে’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ ও দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘আমরা এক ইঞ্চি ইস্যুর বাইরে যাইনি। সোমবার তৃণমূল সূত্রে জীবনবীমা ও স্টেট ব্যাঙ্কের অর্থ ঝুঁকির ইস্যুতে একাধিক নোটিস দেওয়া হয় উভয়কক্ষে। মঙ্গলে তৃণমূল সাংসদরা সংসদে ধর্ণায় বসেন। বুধবারেও সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী জ্বালানি গ্যাস নিয়ে সরব হয়েছে তৃণমূল। কিন্তু বাংলায় বিজেপির সঙ্গে দোস্তি, দিল্লিতে কুস্তি-কংগ্রেসের এই নীতি মানতে রাজি না আমরা। কেন কংগ্রেসের পথে হাঁটব? তৃণমূল নিজেই যথেষ্ট সক্ষম।’ ডেরেক বলেন, এই দলীয় অবস্থানের কথা আলাদা করে সমস্ত বিরোধীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে তারাও সমব্যথী হয়েছেন বলে দাবি করা হয় তৃণমূলের তরফে। আগামীকাল কংগ্রেসের মুখোশ খুলে দিতে, দিল্লিতে বড়মাপের সাংবাদিক সম্মেলন আয়োজন করতে চলেছে তৃণমূল।
বস্তুত, তৃণমূল কংগ্রেসের এই পৃথক ও স্বতন্ত্র অবস্থানের জেরে বিরোধী ঐক্য প্রভাবিত হচ্ছে বলেই মনে করছেন বলে দাবি বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশের। তবে এই তত্ত্ব নস্যাৎ করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের লোকসভা সাংসদ মানিকম টেগোরের চাঁচাছোলা দাবি, ‘তৃণমূল এলো কি এলো না, পরোয়া করেনা কংগ্রেস। তাদের এহেন আচরণে বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়বে না বিরোধী সমন্বয়ে। তারা আগেও এমনই করেছে। আদতে তারা বিজেপির সঙ্গেই সামঞ্জস্য পূর্ণ সহাবস্থান রেখে চলতে চায়।’ বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার বলেন, ‘তৃণমূলের স্বভাবই এরকম। তারা নিজেদের ঘর আগে সামলাক। এই দ্বিচারিতার কোনও স্থান নেই বিরোধী ঐক্যে।
We hate spam as much as you do