১৯৬৭ সালে ২৫ জন বিজ্ঞানীর উদ্যোগে তৈরি হয় ইন্টারন্যাশানাল অ্যাকাডেমি অফ কোয়ান্টাম মলিকিউলার সায়েন্স। সেই থেকে প্রতি বছর কোয়ান্টাম গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসাবে একজন বিজ্ঞানীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। প্রাপকদের তালিকায় আছেন বহু নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীও। কিন্তু এই ৫৪ বছরের ইতিহাসে কোনো ভারতীয় বিজ্ঞানীর নাম উঠে আসেনি। দেবশ্রীর হাত ধরে এই ঐতিহ্যশালী পুরস্কার এবার আসতে চলেছে বাংলার মাটিতেই।
৫৪ বছরে এই প্রথম বাংলার বিজ্ঞানী দেবশ্রী ঘোষের আন্তর্জাতিক সন্মান
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব কোয়ান্টাম মলিকিউলার সায়েন্স (আইএকিউএমএস)-এর দেওয়া বিজ্ঞান-সম্মান পেলেন শ্রীরামপুরের দেবশ্রী ঘোষ। কোয়ান্টাম রসায়নবিদ্যায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে এই পুরস্কার।
১৯৬৭ সালে ২৫ জন বিজ্ঞানীর উদ্যোগে তৈরি হয় ইন্টারন্যাশানাল অ্যাকাডেমি অফ কোয়ান্টাম মলিকিউলার সায়েন্স। সেই থেকে প্রতি বছর কোয়ান্টাম গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসাবে একজন বিজ্ঞানীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। প্রাপকদের তালিকায় আছেন বহু নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীও। কিন্তু এই ৫৪ বছরের ইতিহাসে কোনো ভারতীয় বিজ্ঞানীর নাম উঠে আসেনি। দেবশ্রীর হাত ধরে এই ঐতিহ্যশালী পুরস্কার এবার আসতে চলেছে বাংলার মাটিতেই।
দেবশ্রী কলকাতার ঐতিহ্যবাহী বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর কাল্টিভেশন অব সায়েন্স (আইএসিএস) -এর স্কুল অব কেমিক্যাল সায়েন্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।
শ্রীরামপুরের স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করার পর রসায়নে অনার্স নিয়ে দেবশ্রী পড়তে ঢোকেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় (তখন কলেজ)। ১৯৯৯ সালে। তার পর স্নাতকোত্তর করেন বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স (আইআইএসসি) থেকে। ২০০৫ সালে আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যান। তার পর ২০০৯ থেকে ২০১২, পোস্ট ডক্টরাল করেন আমেরিকারই সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভারতে ফিরে তাঁর প্রথম চাকরি পুণেতে। সিএসআইআর-এর ন্যাশনাল কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিতে। কলকাতার আইএসিএস-এর স্কুল অব কেমিক্যাল সায়েন্সের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হন ২০১৭-য়।
দেবশ্রীর গবেষণা মূলত বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজে প্রয়োজনীয় মানবদেহের বিভিন্ন প্রোটিন এবং মেলানিনের মতো জৈব অণু ও ডিএনএ নিয়েও। সূর্যের আলো শরীরে ঢোকার পর কী ভাবে সেগুলির আকার, আকৃতি, আচরণ বদলে যায়, তারা সূর্যের আলোকে কী পরিমাণে গ্রহণ করে, আলোর সঙ্গে তাদের কী কী ধরনের বিক্রিয়া হয় তা বুঝতে কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মেশিন-লার্নিং পদ্ধতির ব্যবহারই দেবশ্রীর গবেষনার মূল কৃতিত্ত্ব।
আনন্দবাজারে প্রকাশিত,দেবশ্রীর কথায়, “আলো ও বিভিন্ন পদার্থের মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে আমার আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই। সেটা করতে আমি মূলত জৈব অণুগুলিকে বেছে নিয়েছি। আলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পর সেগুলি মানবদেহে কতটা বদলে যায় তা বোঝার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে আগামী দিনে বিভিন্ন জৈবনিক ক্রিয়া ও তার ত্রুটিবিচ্যূতিগুলি বোঝা সহজ হয়। ত্বকের মেলানিন নিয়ে কাজ করেছি। সবটাই করছি তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে। দেখেছি, এখন যে সানস্ক্রিনগুলি বাজারে রয়েছে তার কয়েকটি তেমন কার্যকরী হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না, তা আমার গবেষণা বুঝতে সাহায্য করেছে অনেকটাই।”
We hate spam as much as you do