লিবারেশন এর পক্ষ থেকে ব্যারাকপুর স্টেশন থেকে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে একটি মিছিল সংঘটিত হয় প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত। নিঃসন্দেহে নৈহাটি বিধানসভা উপনির্বাচনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি এবং তৃণমূল বিরোধী শক্তির একটি নতুন রূপের ঐক্যবদ্ধ জোটের বার্তা পাওয়া গেল।
আরজিকরের নাগরিক সমাজই বৃহত্তর বাম ঐক্যের প্রেরণা
Oct 23, 2024
একদিকে দেশজুড়ে ফ্যাসিস্ট ধাঁচের শক্তির হুংকার, গোটা দেশে বিজেপি বিরোধী সমস্ত বাম এবং দক্ষিণপন্থী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মঞ্চ অনেকদিন আগেই তৈরি হয়ে গেছে। বিহারে অনেকদিন আগে বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডির সাথে সিপিআইএম এবং সিপিআইএম লিবারেশন সহ সমস্ত বামপন্থী দল এবং কংগ্রেসের জোট নির্বাচনে ভালো ফল করেছে। পশ্চিমবাংলায় মমতা ব্যানার্জির দল ইন্ডিয়া ব্লকের সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে কিছুটা দ্বিধা কাজ করছিল। যদিও বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে শ্রমিকদের সর্বভারতীয় ধর্মঘট এবং ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধী সমস্ত শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। অনেকদিন আগে থেকেই এই প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে নির্বাচনে পশ্চিমবাংলায় বিধানসভায় আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে বেশ কিছুটা দ্বিধা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল বিশেষ করে বামফ্রন্টের বাইরের অন্যান্য বাম দলগুলির "নো ভোট টু বিজেপি" স্লোগান এই দ্বিধা তৈরি করেছিল।
সাম্প্রতিক কালে আরজিকর হাসপাতালে চিকিৎসক ছাত্রী খুন এবং ধর্ষণের ঘটনায় গোটা বাংলা উত্তাল হয়ে উঠেছে এবং এই উত্তালের গতিপ্রকৃতি এবং আন্দোলনের ধারা এক নতুন বার্তা এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। বিক্ষোভ এক গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে বলা যায়। এই গণজাগরণ অবশ্যই সাম্প্রদায়িকতার কলুষতামুক্ত গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল মানসিকতার , তার ফলে ঝান্ডা ছাড়া নিজস্ব স্লোগান ছাড়া দলে দলে বামপন্থী প্রগতিশীল এমনকি তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির সমর্থক বাড়ির বহু তরুন ছেলে মেয়ে দ্বিধাহীনভাবে এই নাগরিক আন্দোলনে যুক্ত হয়ে গেছে এই আন্দোলন কখনো স্থিমিত হয়েছে কখনো গতি লাভ করেছে। নিঃসন্দেহে এই আন্দোলনের ফলে পশ্চিমবাংলায় বামফ্রন্ট ছাড়াও অন্যান্য সমস্ত বাম শক্তিগুলি এক জায়গায় আসবার একটা একটা বার্তা পেয়েছে। বৃহত্তর বামজোটের এই বার্তা অনুসারে নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিআইএমএল লিবারেশন কে বামফ্রন্টের আসন ছেড়ে সমর্থন দেওয়া।
সেই হিসেবেই গতকাল ব্যারাকপুরে মহকুমা শাসকের অফিসে বামফ্রন্ট এবং সিপিআইএমেল সমর্থকরা ঐক্যবদ্ধভাবে নৈহাটি উপনির্বাচনে প্রার্থী পথ জমা দিল প্রার্থী হলেন সিপিআইএমের লিবারেশন এর পক্ষে দেবজ্যোতি মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্টের পরপর দুবার ওই বিধানসভার প্রার্থী সিপিএমের গার্গী চ্যাটার্জি এবং ইন্দ্রানী কুন্ডু। উপস্থিত ছিলেন সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য পলাশ দাস এছাড়া রাজ্য কমিটির সায়নদীপ মিত্র থেকে ঝন্টু মজুমদার সহ নৈহাটি ও ব্যারাকপুরের নেতৃবৃন্দ। লিবারেশন এর পক্ষ থেকে ব্যারাকপুর স্টেশন থেকে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে একটি মিছিল সংঘটিত হয় প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত। নিঃসন্দেহে নৈহাটি বিধানসভা উপনির্বাচনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি এবং তৃণমূল বিরোধী শক্তির একটি নতুন রূপের ঐক্যবদ্ধ জোটের বার্তা পাওয়া গেল।
মনোনয়ন জমা দেবার সময় উপস্থিত বাম নেতা পলাশ দাস জানালেন, “বৃহত্তর জোটের কথা ভেবেই নৈহাটির উপভোটে সিপিআইএল লিবারেশন প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।”
পলাশ দাস বলেন, “লড়াইয়ের ময়দানে থেকে তৃণমূল ও বিজেপিকে হারাতে যারা সম্মত তাঁদেরই একত্রে রেথে এই দুই শক্তিকে হারাতে চাই। আজ গোটা বাংলা জুড়ে তৃণমূলের সঙ্গে বাংলার মানুষের লড়াই হচ্ছে। বাংলার মানুষ এখন বুঝে গিয়েছেন পরোক্ষে বিজেপিই তৃণমূলকে মদত জুগিয়েছে। ওরা সেই সেটিং ফেরাতে চায়। তবে এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে জনগণ একত্রিত হয়েছে। আর এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে এখন সিপিআইএম ও সিপিআইএমএল মিলে জনগণের আন্দোলনকে যথার্থভাবে প্রতিফলিত করব।”
গত বুধবার নৈহাটি বিধান সভার উপ নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন বাম সমর্থিত নকশাল প্রার্থী দেবজ্যোতি মজুমদার। উপ নির্বাচনে তাঁর প্রধান ইস্যু পাট শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা মেটানো,চতুর্থ শ্রেণির মজুরদের সুরাহা করা ও নৈহাটির উন্নয়ন করা।
পলাশ দাস বলেন, “২০২৬ এর দিকে তাকিয়ে আমরা এবার নকশাল প্রার্থীকে দিয়েছেন। বাম ঐক্য আরও মজবুত করতে আমরা নকশাল প্রার্থীকে সমর্থন করছি।”
মঙ্গলবার সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্যর স্পষ্ট বক্তব্য, “আর জি করের ঘটনার প্রেক্ষিতে বাংলায় যে বিরাট গণজাগরণ শুরু হয়েছে, সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। তার জন্য পশ্চিমবাংলায় বাম শক্তির পুনরুত্থান দরকার। সেই জন্যই বৃহত্তর বামফ্রন্টের ঐক্য দরকার। এটাই এই জোটের পরিপ্রেক্ষিত।” শুধু একটা উপনির্বাচন নয়, আগামিদিনেও যে এই ‘বৃহত্তর বাম শক্তি’ রাজ্যের রাজনৈতিক কার্যকলাপ বাড়াবে তা-ও জানিয়েছেন দীপঙ্কর। দীপঙ্করবাবুর কথায়, “ছাব্বিশের ভোট নিয়ে এখনও ভাবার অনেক সময় আছে। তবে আমার মনে হয় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ভারসাম্য পাল্টানো দরকার। সেখানে বামপন্থীদের শক্তি বৃদ্ধি দরকার, আর তার জন্যই দরকার বৃহত্তর বাম ঐক্য। সেই কারণেই মনে হয়েছে এটা সঠিক সময় সঠিক পদক্ষেপ।”
We hate spam as much as you do