Tranding

01:28 PM - 04 Feb 2026

Home / Politics / DYFI রাজ্য ইনসাফ যাত্রায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে গণজোয়ার

DYFI রাজ্য ইনসাফ যাত্রায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলা জুড়ে গণজোয়ার

অনেকাংশে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা এই আবেগ মূলত প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বহু মানুষ যারা সিপিএমের রুটিন সংগঠনের দ্বারা সংগঠিত নন আপন আবেগে মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ইনসাফ যাত্রীদের পরাবেন বলে। রাস্তায় রাস্তায় আয়োজিত সংবর্ধনার বাইরেও বহু সংবর্ধনা লক্ষ্য করা যায়। নিঃসন্দেহে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ইনসাফ যাত্রা একটি গনযাত্রায় পরিণত হয়েছিল।

DYFI রাজ্য ইনসাফ যাত্রায় উত্তর ২৪ পরগনা  জেলা জুড়ে গণজোয়ার

DYFI রাজ্য ইনসাফ যাত্রায় উত্তর ২৪ পরগনা  জেলা জুড়ে গণজোয়ার

২২ ডিসেম্বর  ২৩


দুর্গাপুজোর পর থেকে রাজ্যজুড়ে বাম যুব সংগঠন ডি ওয়াই এফ আই এর পক্ষ থেকে মূলত রাজ্য কমিটির উদ্যোগে যে ইনসাফ যাত্রা শুরু হয়েছিল কোচবিহারে। প্রথমদিকে ইনসাফ যাত্রা আর কিছু সাধারণ মিছিল হিসেবে গণ্য হচ্ছিল।
অভিযোগ ছিল সাধারণ গণমাধ্যম যেখানে বিজেপির সাধারণ মিছিলেরও ছবি এবং ভিডিও কভার করে সেখানে ইনসাফ যাত্রা কে দেখানো হচ্ছে না।
 ইনসাব যাত্রা বহু গ্রাম পথ অতিক্রম করেছে চা বাগানের মধ্যে দিয়ে গেছে ইটভাটার মধ্যে দিয়ে গেছে কিন্তু তার উন্মাদনাটা এবং উচ্ছ্বাস জনপ্লাবনে পরিণত হতে খানিকটা সময় লেগেছে। 

রাজ্যের মানচিত্র অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবেই শেষের দিকে ছিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ইনসাফ যাত্রার পরিক্রমা।। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় যারা স্থায়ী পদযাত্রীদের সাদা পোশাকের সাথে  যুক্ত হলেন  তাদের জেলার নামাঙ্কিত লাল পোশাক অবশ্যই নজর কেড়েছে।

১৯শে ডিসেম্বর সন্ধ্যায় কাঁচরাপাড়ায় আসার কথা ছিল। কিন্তু সকালে নদিয়া জেলায় ইনসাফ যাত্রীদের সাথে পুলিশ প্রশাসনের বিবাদ ঘটে। অভিযোগ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ইনসাফ যাত্রীদের বাধা দেয় তখনই তারা রাস্তায় বসে পড়ে অবরোধ করে। ইনসাফ যাত্রীদের প্রধান মুখ রাজ্য যুব সম্পাদক মীনাক্ষী মুখার্জি এবং যুব সভাপতি ধ্রুবজ্যোতি সাহা পুলিশের কাছে প্রতিবাদ জানান । খবরে দেখা যায় পুলিশ সঠিকভাবে তাদের কথা প্রকাশ করতে পারছে না। পুলিশ শেষে ইনসাফ যাত্রীদের যুক্তি মেনে নেয়। দেরি হয়ে যায় কাঁচরাপাড়ায় রাত্রি সাড়ে এগারোটার সময় ইনসাফ যাত্রা এসে প্রবেশ করে। যাত্রীদের সাথে ছিলেন ডি ওয়াই এফ আই এর সর্বভারতীয় সম্পাদক হিমগ্ন রাজ ভট্টাচার্য।

 

প্রথমে মনে হয়েছিল ঘন শীতের রাত্রে কাঁচরাপাড়ার সার্কাস মোড় ফাঁকা থাকবে। তাই গাড়ি করেই ইনসাফ যাত্রীরা সভাস্থল অর্থাৎ কলেজ মোড়ে এসে পৌঁছবে। কিন্তু কনকনে ঠান্ডায় দীর্ঘ চার পাঁচ ঘন্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে দেখা যায় প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ ইনসাফ যাত্রার জন্য অপেক্ষা করছে। তাই সার্কাস মোড় থেকে মিছিল শুরু হয় শেষ হয় কলেজ মোড়ে। এখানে রাত্রি পৌনে বারোটা পর্যন্ত সভায় লোকসমাগম দেখতে পাওয়া যায়। যা এই দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক  ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। 


পরেরদিন কাঁচরাপাড়া থেকে হালিশহর হয়ে নৈহাটিতে পৌঁছলে সেক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হয়ে যায়। তার কারণ রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় জনসমাগম। নিঃসন্দেহে এই জনসমাগম ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং আবেগ যুক্ত।  অনেকাংশে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা এই আবেগ মূলত প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বহু মানুষ যারা সিপিএমের রুটিন সংগঠনের দ্বারা সংগঠিত নন আপন আবেগে মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ইনসাফ যাত্রীদের পরাবেন বলে। রাস্তায় রাস্তায় আয়োজিত সংবর্ধনার বাইরেও বহু সংবর্ধনা লক্ষ্য করা যায়। নিঃসন্দেহে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ইনসাফ যাত্রা একটি গনযাত্রায় পরিণত হয়েছিল। জেলার সম্পাদক সপ্তর্ষি দের এবং সভাপতি শফিকুল সরদার পদযাত্রীদের সাথে পায়ে পা মেলান।


নৈহাটি থেকে সেই যাত্রা পুনরায় ব্যারাকপুরের উদ্দেশ্যে যায় এর মাঝখানে একইভাবে নির্দিষ্ট সময় থেকে চার পাঁচ ঘন্টা দেরি হয়ে যায় তার কারণ নির্দিষ্ট কর্মসূচির বাইরে বহু জায়গায় স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা যা উপেক্ষা করতে পারেননি মীনাক্ষী মুখার্জি সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মূলত শ্রমিক অধ্যুষিত কল কারখানার সামনে দিয়ে এবং বিশেষ করে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের বন্ধ কারখানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শ্রমিকদের সমাবেশ লক্ষ্য করা যায়। সে ক্ষেত্রে ইনসাফ যাত্রা শ্রমিকদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে বেকারদের কাজের দাবিতে এবং উপযুক্ত বেতনের দাবিতে না পাওয়া যুবক-যুবতীদের ইনসাফ চাইতে এই পদযাত্রা ব্যারাকপুর স্টেশন চত্বরে এসে পৌঁছতে যথারীতি ছটার জায়গায় রাত্রি নটায় পৌঁছায়। ব্যারাকপুরে স্টেশন চত্বরের সভায় উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায় এই উন্মাদনায় সাধারণ মানুষের যোগ না হলে তা এত প্রাণবন্ত হত না । যুবকর্মীদের সাথে সিপিআইএমের পার্টি নেতারা বিশেষ করে সুজন চক্রবর্তী পলাশ দাশ মৃণাল চক্রবর্তী তড়িৎ তোপদার গার্গী চ্যাটার্জি  সায়নদীপ মিত্র আত্রেয়ী গুহ , মানষ মুখার্জী, ঝন্টু মজুমদার,সত্যসেবী কর। ছাত্র এবং মহিলা নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও দীর্ঘ পথ হাটেন।


পরদিন ব্যারাকপুর থেকে খড়দা থেকে পানিহাটি হয়ে দমদম বেলঘড়িয়ায় কার্যত রাস্তা অবরোধ হয়ে যায় লক্ষ্য করা গেছে হাজার হাজার মহিলা যুবক-যুবতী যারা কোনোভাবেই বামপন্থী সংগঠনের সাথে যুক্ত নয় তারাও এসে জড়ো হয়েছেন ঘন্টার পর ঘন্টা শীতের রাতে রাস্তায় অপেক্ষা করছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের জনজোয়ার যাত্রা প্রচুর প্রাচুর্যের সঙ্গে ব্যাপক খরচ পাতির মধ্যে দিয়ে হয়েছে। কিন্তু দেখা গেল তাতে জনসমাবেশে এই স্বাভাবিক উন্মাদনা ছিল না। সরকারে থাকা রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক প্রভাব প্রতিপত্তির ফলে যেটুকু থাকার তাই ছিল ।  বেলঘড়িয়া থেকে বিরাটি হয়ে ইনসাফ যাত্রা বারাসাতে এসে পৌঁছায় সেখানেও রাতে গানের তালে তাল মেলায় হাজার হাজার মানুষ। দুই সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়
বারাসাত থেকে মধ্যমগ্রাম হয়ে রাজারহাটে এসে শেষ হয়, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পথ পরিক্রমা নিঃসন্দেহে এক বিরাট অংশের মানুষের অংশগ্রহণ ইনসাফ যাত্রাকে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছিলএকুশে ডিসেম্বর রাজারহাটের শিকারপুরে  মঞ্চ জুড়ে ছিল ৭০ দশকের মহীনের ঘোড়াগুলি গান দলের সাথে সুরে সুর মিলন হাত নেড়ে ৭ই জানুয়ারি ব্রিগেডের মাঠে সমাবেশে যোগ দেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

 

Your Opinion

We hate spam as much as you do